Home / জাতীয় / অন্যান্য / ফেসবুকের মাধ্যমে ১৪ বছর পর নিখোঁজ মাকে ফিরে পেলো সন্তান
fb+mbd

ফেসবুকের মাধ্যমে ১৪ বছর পর নিখোঁজ মাকে ফিরে পেলো সন্তান

মাস্টারি বিডি ডটকম
হবিগঞ্জ । ৯ জুলাই ২০১৭ । ২৫ আষাঢ় ১৪২৪

খুলনা বিভাগের চুয়াডাঙ্গা থেকে নিখোঁজের ১৪ বছর পর ফেসবুকের মাধ্যমে হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে মাকে ফিরে পেয়েছে সন্তান হাফিজুর রহমান। শুক্রবার বিকেলে হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাট উপজেলার গোড়ামী গ্রামে এসে মায়ের দেখা পায় হাফিজুর রহমান। বাক প্রতিবন্ধী মা রহিমা খাতুনকে (৫৫) ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে পুত্র হাফিজুর। সাথে ছিল হাফিজুরের বোন জামাই আব্দুল জলিল। তিনিও কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। রহিমা খুলনা বিভাগের চুয়াডাঙ্গা জেলা সদরের শৈলবাড়ি গ্রামের মৃত ভরস মন্ডলের স্ত্রী।

হাফিজুর জানান, তার মা রহিমা খাতুন স্বজনদের সাথে অভিমান করে ২০০৩ সালে বাড়ি থেকে নিরুদ্দেশ হন। তারা অনেক খোঁজাখুঁজি করে তার কোন সন্ধান পাননি। তবে ভ্যানচালক হাফিজুর রহমান মনে মনে তার মাকে খুঁজতেন । অবশেষে গত ৬ জুলাই খুলনা ক্রিকেট নামীয় ফেসবুকের পেইজে নিখোঁজ এক নারীর ছবি পায় হাফিজুরের ভাগ্নে। ভাগ্নে বিষয়টি তার মামা হাফিজুরকে জানায়। তারা ফেসবুকে লেখা পায় এক বাক প্রতিবন্ধী নারী হবিগঞ্জ জেলার চুনারুঘাটের গোড়ামী গ্রামের দুলাল তরফদারের বাড়িতে রয়েছে। ছবি দেখে হাফিজুর তার মা বলে শনাক্ত করে। পরে ফেসবুকের মাধ্যমে মোবাইল নাম্বার সংগ্রহ করে এবং তাৎক্ষণিক হাফিজুর তার বোন জামাই আব্দুল জলিলকে সাথে নিয়ে শুক্রবার বিকেলে গোড়ামী গ্রামে আসে।

ঘটনাস্থলে গিয়ে তারা দেখে, অনেক লোকজন এসে গেছে তাদের আসার খবর শুনে। সবার উপস্থিতিতে হাফিজুর তার মাকে শনাক্ত করে। মা-ও তার সন্তানকে বুকে জড়িয়ে ছেলে হাফিজুরকে শনাক্ত করেছেন। পরে এলাকার মেম্বার মোঃ আব্দুল মান্নান, মুরুব্বী হাজী হাছন আলী, সমাজসেবক আব্দুল মালেক, সায়েম তালুকদারসহ এলাকাবাসীর উপস্থিতিতে রহিমা খাতুনকে নিয়ে রওনা দেয় তার সন্তান হাফিজুর।

গোড়ামী গ্রামের দুলাল তরফদার জানান, ২০০৩ সালে তার আত্মীয় একই উপজেলার মজলিশপুরের বাসিন্দা আব্দুল মতিন মিয়া রাতে বাড়ি ফিরছিলেন। শাকির মোহাম্মদ বাজারের কাছে তিনি এক অনাহারী, অভুক্ত নারীকে দেখেন এবং তাকে বাড়ি নিয়ে যান। তিনি এই নারীর স্বজনদের পাওয়ার জন্য চেষ্টাও করেন। কিন্তু তিনি ব্যর্থ হন। মতিন মিয়া এ নারীকে প্রায় ৮ বছর লালন পালন করেন। সেখানে থাকার খাওয়ার সমস্যা দেখা দিলে এ নারীকে আমাদের বাড়িতে নিয়ে আসা হয় এবং প্রায় ৬ বছর এখানে কাটায়। এরই মধ্যে এ নারীর স্বজনদের সন্ধান পেতে পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তিও দেয়া হয়।

দুলাল তরফদার আরো জানান, গত ৫ জুলাই রহিমার ছবিসহ লেখা গোড়ামী তালুকদার বাড়ির শাহনেওয়াজ তালুকদার ফেসবুকে পোস্ট করেন। ছবিটি শেয়ার করেন একই বাড়ির রায়হান তালুকদার। তারপর এ ছবি শেয়ার করেন শায়েস্তাগঞ্জের শফিউল রাহাদ। পরে তিনি ছবিটি খুলনা ক্রিকেট পেইজে পোস্ট করেন। সেই পেইজ থেকে হাফিজুরের এক ভাগ্নে ছবিটি পায়। ছবিটি দেখে হফিজুর ১৪ বছর পর তার নিখোঁজ মায়ের সন্ধান পেল। বাসস

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

25 4 25

আউটসোর্সিং সেবা কর্মীদের জন্য ‘সেবা গ্রহণ নীতিমালা’

১৫ এপ্রিল ২০২৫, ২ বৈশাখ ১৪৩২ মাসস সেবাকর্মীরা বছরে দুটি উৎসবে এক মাসের সেবামূল্যের অর্ধেক …

Leave a Reply

Your email address will not be published.