মাস্টারি বিডি ডটকম
ঢাকা । ৯ জুলাই ২০১৭ । ২৫ আষাঢ় ১৪২৪
পাকিস্তানের নারীশিক্ষা আন্দোলনের কর্মী ও সবচেয়ে কম বয়সী নোবেল পুরস্কারজয়ী মালালা ইউসুফজাই সম্প্রতি জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটারে যোগ দিয়েছেন। এরপরপরই টুইটার ব্যবহারকারীরা হামলে পড়েন। মুহূর্তে লাখ লাখ অনুসারী অনুসরণ করতে শুরু করেছেন তার একাউন্টকে।
প্রথম ৩০ মিনিটেই মালালার অনুসারী এক লাখে পৌঁছায় যা, ১৮ ঘণ্টায় ৪ লাখ ১৫ হাজার ছাড়িয়ে গেছে। এসব অনুসারীদের অনেকেই মালালাকে ফিরতি বার্তায় স্বাগত জানিয়েছেন।
শুক্রবার (৭ জুলাই) রাত আটটায় যোগ দিয়ে তিনি প্রথম টুইট করেন, ‘হাই, টুইটার’। এর দুই মিনিট বাদে মালালা লেখেন, ‘আজ আমার স্কুলজীবনের শেষ দিন, আর টুইটারে আমার প্রথম দিন।’
১৯ বছর বয়সী মালালা বর্তমানে বিশ্বের সব মেয়েশিশুর স্কুলে যাওয়ার প্রয়োজনীয়তার ব্যাপারে মনোযোগ আকর্ষণে গুরুত্ব দিচ্ছেন।
টুইটার বার্তায় তিনি বলেন, ‘প্রতিটি মেয়ের জীবনের গল্প আলাদা। নারীদের সোচ্চার হতে হবে- আর এটাই হতে পারে সর্বজনীন শিক্ষা ও সমতা প্রতিষ্ঠার যুদ্ধে আমাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র।’
তালেবানের বাধা উপেক্ষা করে নারীশিক্ষা বিস্তারে কাজ করে যাওয়ায় ২০১২ সালে মালালাকে পাকিস্তানে গুলি করে জঙ্গিরা। তবে প্রাণে বেঁচে যান তখনকার ১৫ বছরের কিশোরী মালালা।
এরপর তার চিকিৎসা হয় যুক্তরাজ্যে। আর এখানেই বর্তমানে পড়াশোনা করছেন তিনি। পেরুলেন স্কুলের গণ্ডি। অবশ্য তিনি চলতি বছরের মার্চে দেশটির শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার শর্ত অর্জন করেন। মালালা মাত্র ১১ বছর বয়সে নারীশিক্ষা নিয়ে ব্লগ লিখে পাকিস্তানে সাড়া ফেলেছিলেন।
২০১৪ সালে শান্তিতে নোবেলজয়ী মালালা টুইটারে এক প্রতিক্রিয়ায় বলেন, বিশ্বের লাখো মেয়েশিশু, যারা স্কুল শেষ করতে পারেনি, তাদের কথাই তিনি চিন্তা করছেন। মেয়েদের শিক্ষার অধিকার নিয়ে মাত্র ১১ বছর বয়স থেকেই ব্লগ লেখা শুরু করেন মালালা। সেসময় পাকিস্তানের সোয়াত উপত্যকায় পরিবারের সঙ্গেই থাকতেন তিনি। বিবিসি উর্দু ওয়েবসাইটে মেয়ে শিশুদের শিক্ষার অধিকার নিয়ে লেখালেখি করার কারণে তালেবানের বিরাগভাজন হন তখনকার এই কিশোরী। ২০১২ সালের অক্টোবরে তালেবান জঙ্গিরা স্কুলবাসে উঠে মালালাকে গুলি করে। মাথায় গুলিবিদ্ধ মালালা শেষ পর্যন্ত প্রাণে বেঁচে যান। জরুরি চিকিৎসার জন্য তাকে যুক্তরাজ্যে নিয়ে যাওয়া হয়; এরপর সুস্থ হয়ে প্রবাসেই পড়ালেখা চালিয়ে যান তিনি।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম