ঢাকা, বুধবার ৩০ এপ্রিল ২০২৫ মাসস
এখন ধান ওঠার সময়। বাংলার চারপাশে ধানের মম গন্ধ। সুনামগঞ্জের হাওরের যেদিকে চোখ যায়, কেবলই পাকা বোরো ধানের শীষ দোল খাচ্ছে। সেই ধান কাটছেন কৃষকরা, কেউ শ্রমিক দিয়ে; কেউবা মেশিনের সাহায্যে। উৎসবের আমেজে সেই ধান মাড়াই আর শুকানোর কাজ নিয়ে খলায় খলায় (ধান শুকানোর উঠান) ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষাণ-কৃষাণীরা।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জেলায় চলতি বছর ২ লক্ষ ২৩ হাজার ৫৩০ হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ হয়েছে। এর মধ্যে ১ হাজার হেক্টরে স্থানীয় আদি জাত, ১ লক্ষ ৫৭ হাজার ২১০ হেক্টরে উফসী, ৬৫ হাজার ২০০ হেক্টরে হাইব্রিড ধান বাদ করেছেন। এতে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৪ লক্ষ টনের বেশি। যার বাজার মূল্য ৫ হাজার কোটি টাকার বেশি। হাওরে ৯৫৫টি কম্বাইন হার্ভেস্টর, ১১৬টি রিপার ও ১ লক্ষ ৯৩ হাজার ৩১০ জন শ্রমিক ধান কাটছেন।
করচার হাওরে আবাদ করেছেন বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার কৃষক ও মুক্তিখলা গ্রামের বাসিন্দা জিয়াউর রহমান। তিনি জানান, এবার ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। একদিকে ধান কাটা হচ্ছে অন্য দিকে মাড়াই আর শুকানোর কাজও চলছে সমান তালে। কিছুদিনের মধ্যে সব ধান কাটা মাড়াই আর শুকানোর কাজ শেষ হয়ে যাবে।
তিনি আরও জানান, করচার হাওরে ১০ হাজার হেক্টরের বেশি জমির মধ্যে এ বছর আবাদ হয়েছে প্রায় ৪ হাজার ২২০ হেক্টর। এর মধ্যে বিশ্বম্ভরপুর উপজেলায় ২ হাজার ৭০০ হেক্টর বাকী ১ হাজার ৫২০ হেক্টর সুনামগঞ্জ সদর উপজেলায়। প্রতি কিয়ারে কোনো জমিতে ২০ মন আবার কোনো জমিতে ২৫ মন ধান উৎপাদন হয়েছে। এবার উৎপাদন খরচের দুইগুণ লাভ হবে বলে আশা এই কৃষকের।
বিশ্বম্ভরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুজ্জামান জানান, এবার হাওরে ধানের ফলন ভালো হয়েছে। উৎসবমুখর পরিবেশে কৃষাণ-কৃষাণীরা তাদের সারা বছরের শক্তি-সাহস বোরো ধান ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন। হাওরের অর্ধেক ধান কাটা হয়ে গেছে।
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোস্তফা আজাদ জানিয়েছেন, ফসল ঘরে না তোলা পর্যন্ত আমাদের কৃষি কর্মকর্তারা সার্বক্ষণিক কৃষকদের পরামর্শ ও সার্বিক সহযোগিতা করছেন।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম