ঢাকা, সোমবার ১৩ এপ্রিল ২০২৬ মাসস
গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের স্মৃতি চিরস্মরণীয় করে রাখতে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন গণভবনকে করা হয় ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’। প্রায় ১৩০ কোটি টাকা খরচে এই জাদুঘর তৈরি করা হলেও কবে নাগাদ উদ্বোধন হবে তা জানেন না খোদ দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা। অথচ উদ্বোধনের নামে দুই দফায় ব্যয় দেখানো হয়েছে কয়েক কোটি টাকা। এই ব্যয়ের মধ্যে রয়েছে ইন্টারনেট বিল, সেমিনার, আলোচনা, পরামর্শ ও আপ্যায়ন খরচ। দুই মাসে শুধু সংস্কৃতিকর্মীদের জন্যই খরচ দেখানো হয়েছে ৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
এরই মধ্যে গত শুক্রবার জাতীয় সংসদে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর বিল সংশোধিত আকারে পাস হয়। যদিও সংসদের বিশেষ কমিটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে জারি করা এই অধ্যাদেশসহ ৯৮টি অধ্যাদেশ হুবহু পাসের সুপারিশ করেছিল, পরে অধিবেশনে ৮ ধারায় তিনটি সংশোধনী এনে বিলটি সংশোধিত আকারে পাস হয়। সে অনুযায়ী সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বা প্রতিমন্ত্রী জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
তথ্য বলছে, জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের বিভিন্ন কাজ বাস্তবায়নের দায়িত্বে ছিল জাতীয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষ। এ কাজের জন্য মন্ত্রণালয় থেকে পৃথক বরাদ্দ থাকলেও নিয়মবহির্ভূতভাবে জাতীয় জাদুঘরের নিজস্ব তহবিল থেকে আপ্যায়ন ও শ্রম ব্যয়সহ নানা খাতে কয়েক কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। এ অনিয়মের পেছনে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা মোস্তফা সরয়ার ফারুকী, জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক (ডিজি), জুলাই জাদুঘরের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত ডিজি তানজিম ওয়াহাব এবং পর্ষদের চেয়ারম্যান মেরিনা তাবাসসুমের সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ উঠেছে। গত বছরের ২১ মে থেকে চলতি বছরের ৯ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বিভিন্ন ভাউচার ও বিল পর্যালোচনায় দেখা গেছে; কখনো উপদেষ্টা, কখনো ভলান্টিয়ার ও কর্মকর্তা, আবার কখনো শ্রমিকের নামে দুপুরের খাবার এবং বিকেলের নাশতার খরচ দেখিয়ে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে, যা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।
এদিকে গণভবনের চারদিকে টিনের বাউন্ডারি নির্মাণ বাবদ প্রায় দেড় কোটি টাকা খরচ দেখানো হয়েছে। তথ্য বলছে, বিনা টেন্ডারে ‘জুলাই স্মৃতি জাদুঘর’-এর জন্য মালপত্র নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করা হয়েছে। জাদুঘরের জন্য আসবাবপত্র, অফিস সরঞ্জাম ও ক্রোকারিজ সরবরাহের নামে ৩ কোটি ৩১ লাখ ২৫ হাজার ৯১৯ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। যদিও গণপূর্ত অধিদপ্তর (পিডব্লিউডি) কাজ বাস্তবায়ন করেছে, তবু একই কাজ দুবার দেখিয়ে ভুয়া টেন্ডারের মাধ্যমে এই অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে।
গত বছরের ১৩ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর মাস্টারপ্ল্যান, স্থাপত্য নকশা ও আধুনিক অভ্যন্তরীণ ডিজাইন প্রণয়নের জন্য মূল্যায়ন কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে ৫ কোটি ৪৩ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৫ টাকা চুক্তিমূল্য অনুমোদন করা হয়। এ চুক্তি সম্পাদনের জন্য পাঁচ দিনের সময়সীমাও বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। তবে আইবাস++ (iBAS++)-এ কনসালট্যান্সি বাবদ দেখানো হয়েছে ৫ কোটি ৪৫ লাখ ৫৫ হাজার ৫৫৫ টাকা, যা পুরোপুরি বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের বাজেট থেকে নেওয়া হয়েছে।
একইভাবে ৫ কোটি ২৩ লাখ ৭২৩ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছে ১৯টি ডকুমেন্টারি। গণভবনে বিভিন্ন প্রতীকী মূর্তি বা ভাস্কর্য নির্মাণ, গ্যালারি সজ্জা, প্রতীকী কবরস্থান তৈরি, আয়নাঘর, নিদর্শন সংগ্রহ, ফটো আর্কাইভিং ও ডিসপ্লে নির্দেশনার জন্য ব্যয় দেখানো হয়েছে প্রায় ১৫ কোটি টাকা। আলাদাভাবে প্রতীকী আয়নাঘর নির্মাণে ব্যয় দেখানো হয়েছে ১ কোটি ৭০ লাখ টাকা। এ ছাড়া গণপূর্ত অধিদপ্তরের সিভিল ও ই/এম কাজের জন্য ৯৭ কোটি ৩১ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
কাগজপত্র ঘেঁটে দেখা গেছে, জাদুঘরের কাজ সবটা শেষ না হলেও চলতি বছরের জানুয়ারিতে প্রধান উপদেষ্টার উদ্বোধন অনুষ্ঠান দেখিয়ে খাবার, শ্রম ও স্টেশনারি খাতে ৮০ হাজার ৫৪৫ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে। ঠিক এক মাস পর, অর্থাৎ ফেব্রুয়ারিতে আবারও প্রধান উপদেষ্টার উদ্বোধন উপলক্ষে পরিচ্ছন্নতা ও আসবাবপত্র স্থানান্তরের নামে শ্রম ব্যয় দেখিয়ে আরও ১ লাখ ৩৩ হাজার টাকা উত্তোলন করা হয়। এ ধরনের ব্যয়ের পুনরাবৃত্তি মিলিয়ে কয়েক কোটি টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। জাদুঘরের জন্য আলাদা বরাদ্দ থাকলে সব টাকাই জাতীয় জাদুঘরের তহবিল থেকে খরচ করা হয়েছে।
কালবেলার হাতে আসা বিভিন্ন বিল-ভাউচার পর্যালোচনায় দেখা যায়, নোটের অনুচ্ছেদ ১২ থেকে ১৫ এর আলোকে গত বছরের ২০ আগস্ট থেকে ২৬ আগস্ট পর্যন্ত সাত দিনের আপ্যায়ন ব্যয় দেখানো হয়েছে ৫১ হাজার ৫৭৫ টাকা। একই বছরের ২১ এপ্রিল জাদুঘরের ইন্টারনেট সংযোগ ও বিল বাবদ ১৪ হাজার ৪১৮ টাকা উত্তোলন করা হয়। এ ছাড়া ধারাবাহিকভাবে ২০ থেকে ২৬ আগস্ট আপ্যায়ন ব্যয় ৫১ হাজার ৫৭৫ টাকা; ২৭ আগস্ট থেকে ২ সেপ্টেম্বর খাবার বিল ৪৯ হাজার ৮৯০ টাকা; ৩ থেকে ৯ সেপ্টেম্বর খাবার বিল ৪৮ হাজার ৬৮০ টাকা; ১০ থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর খাবার বিল ৪৬ হাজার ২৫৫ টাকা।
গত বছরের ৭ আগস্ট সংস্কৃতি উপদেষ্টা, গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা এবং স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার জন্য জাদুঘরে মধ্যাহ্নভোজ বাবদ ১৫ হাজার টাকা ব্যয় দেখানো হয়। ১৯ অক্টোবর থেকে ৭ নভেম্বর পর্যন্ত ২০ দিনের খাবার বিল হিসেবে নেওয়া হয়েছে ১ লাখ ৮০ হাজার ৬৪০ টাকা। ২০ নভেম্বর থেকে ৫ ডিসেম্বর—এই ১৬ দিনে খাবার বিল দেখানো হয়েছে দেড় লাখ টাকার বেশি। গত বছরের ৬ অক্টোবর একটি অনুষ্ঠানের জন্য শুধু ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট খরচ দেখানো হয়েছে ৭০ হাজার টাকা। একইভাবে চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত খাবার, ইন্টারনেট ও আনুষঙ্গিক খাতে প্রায় ৩ লাখ টাকা ব্যয় দেখানো হয়েছে।
এই অনিয়মকে বৈধতা দিতে বিলপত্রে প্রতিদিনের আপ্যায়ন ব্যয় গড়ে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা উল্লেখ করা হলেও সাত দিন পরপর বিল উত্তোলনের ক্ষেত্রে তা দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪৭ থেকে ৫০ হাজার টাকা। বেশিরভাগ বিল উত্তোলন করা হয়েছে জনতা ব্যাংকের শ্যামলী শাখার একটি হিসাবে।
জুলাই স্মৃতি জাদুঘর নির্মাণকাজ শুরু হয় প্রথমে মৌখিক অনুমোদনের ভিত্তিতে। পরবর্তী সময়ে প্রকল্পের জন্য পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস (পিপিআর) প্রস্তুত করা হয়। এতে সিভিল কাজের জন্য ৭০ কোটি ৩৬ লাখ ১৫ হাজার টাকা এবং ইলেকট্রিক ও মেকানিক্যাল (ই/এম) কাজের জন্য প্রায় ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ চেয়ে প্রস্তাব করা হয়। কাজ দ্রুত শেষ করার শর্তে অর্থ বরাদ্দ চাওয়ার কয়েকদিনের মধ্যেই মোট প্রস্তাবিত অর্থের ৪০ শতাংশ ছাড় করা হয়। জাতীয় জাদুঘর কর্তৃপক্ষ নিয়োজিত পরামর্শক স্থপতিরা গত ২৭ জুন ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’-এর মাস্টারপ্ল্যান জমা দেন। সেই পরিকল্পনার ভিত্তিতে সিভিল ও ই/এম কাজের সম্ভাব্য ব্যয় প্রাক্কলন প্রস্তুত করা হয়। তবে ১১১ কোটি ১৯ লাখ টাকার প্রস্তাবকে ঘিরে সমালোচনা ওঠে—কাজের তুলনায় বরাদ্দ বেশি কি না। পরে এ নিয়ে যাচাই-বাছাই শুরু হয়। পরবর্তীকালে সংশোধন করে মোট ৯৭ কোটি টাকার বরাদ্দ অনুমোদন দেওয়া হয়।
সিভিল কাজের জন্য ৬টি প্যাকেজে ৬০ কোটি ৭২ লাখ ৬২ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়। এর মধ্যে পাঁচটি কাজ বাস্তবায়ন করে গণপূর্ত অধিদপ্তর এবং বাকি একটি (আয়নাঘরের বিশেষ কক্ষ নির্মাণ) সম্পন্ন করে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়। এই ৫টি কাজের মধ্যে দুটি কাজ সম্পন্ন হওয়ার পর টেন্ডার ডেকে কোম্পানির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক চুক্তি করা হয়। এ ছাড়া ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মারক জাদুঘর’-এর অভ্যন্তরীণ ওয়াশ ব্লক নির্মাণ কাজের টেন্ডার হয় গত মার্চ মাসে। বাকি দুটি কাজের টেন্ডার প্রক্রিয়াধীন। প্রথমদিকে টেন্ডার ছাড়াই মৌখিক নির্দেশনায় কাজ শুরু করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ‘দ্য সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং’ এবং ‘এম এন হুদা’। যদিও প্রকল্পের প্রায় পুরো কাজ এই দুই প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হয়। বিতর্ক এড়াতে পরে টেন্ডারের মাধ্যমে অন্য কোম্পানির নামে কাজ দেখানোর চেষ্টা চলছে।
প্রথমে সিভিল ৭০ কোটি এবং ই/এম ৪০ কোটি টাকার প্রস্তাব দিয়ে কাজ শুরু করায় সমালোচনার মুখে পড়ে সংস্থাটি। পরবর্তী সময়ে গত বছরের ৬ নভেম্বর ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে (সিভিল কাজ) ৬০ কোটি ৭২ লাখ ৬২ হাজার টাকা এবং ই/এম কাজের জন্য ৩৬ কোটি ৫৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা—মোট ৯৭ কোটি ৩১ লাখ টাকার প্রশাসনিক অনুমোদন দেওয়া হয়। ই/এম অনুমোদনে মোট ১১টি কাজের উল্লেখ ছিল।
সাব-স্টেশন যন্ত্রপাতি ও সুইচ রুম প্যানেলের সংস্কার ও প্রতিস্থাপন; বিভিন্ন স্থানে ডিস্ট্রিবিউশন বোর্ড স্থাপন; বিশেষ ধরনের সারফেস কনডুইট ওয়্যারিং; বহিরাঙ্গন আলোকসজ্জা; অগ্নি শনাক্তকরণ ও সুরক্ষা ব্যবস্থা; লেকের এয়ারেশন সিস্টেম; সিসিটিভি, পিএবিএক্স ও নেটওয়ার্কিং ব্যবস্থা; মূল ভবনে লিফট ও ভিআরএফ এয়ার কন্ডিশনিং সরবরাহ ও স্থাপনসহ অভ্যন্তরীণ বিদ্যুতায়ন—এসব ইলেক্ট্রো-মেকানিক্যাল কাজের ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করা হয়েছে। ভেরিফিকেশনে দেখা গেছে, প্রকৃত চাহিদার তুলনায় প্রায় ৩ কোটি টাকা কম ব্যয়ে কাজ সম্পন্ন হয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, কাজ আগেই সম্পন্ন করে পরবর্তী সময় ইচ্ছামতো টেন্ডার দরপত্র দেখানো হয়েছে।
ভেরিফিকেশন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, অনুমোদিত প্রাক্কলন মূল্য ৩৪ কোটি ৪২ লাখ ৬ হাজার ৫১১ টাকা এবং চুক্তিমূল্য ৩৪ কোটি ২৫ লাখ ৭৪ হাজার ১৪৯ টাকা। অতিরিক্ত কাজের (দরপত্রভুক্ত আইটেম) মূল্য ১ কোটি ১ লাখ ৯৪ হাজার ৬৭৩ টাকা। মোট অতিরিক্ত কাজের মূল্য (দরপত্রভুক্ত ও দরপত্রবহির্ভূত আইটেমসহ) একই পরিমাণ। অন্যদিকে, কম সম্পাদিত কাজের (দরপত্রভুক্ত আইটেম) মূল্য ২ কোটি ৩৭ লাখ ৪০ হাজার ৭৮৪ টাকা। সমন্বয় শেষে (অতিরিক্ত ও কম কাজ বিবেচনায়) নিট কম ব্যয় দাঁড়ায় ১ কোটি ২৬ লাখ ৪৬ হাজার ১১০ টাকা। ফলে মোট সম্পাদিত কাজের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৩২ কোটি ৯৯ লাখ ২৮ হাজার ৩৮ টাকা। এই কাজ ‘রেস্ট জেভি’ কোম্পানির নামে দেখানো হয়েছে।
ভেরিফিকেশন নথিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ইনডোর-আউটডোর ডিস্ট্রিবিউশন বোর্ডের অবস্থান পরিবর্তনের কারণে এলটি কেবল বৃদ্ধি পায়; এয়ার কন্ডিশনের ইনডোর ইউনিটের অবস্থান পরিবর্তনের ফলে কপার পাইপ, পাইপ ইনসুলেশন ও ডাক্টিংয়ের কাজ বাড়ে। এ ছাড়া জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হিসেবে নিরাপত্তা জোরদারের লক্ষ্যে সিকিউরিটি টিমের অনুরোধে সিসিটিভি ক্যামেরার সংখ্যা বাড়ানো হয়, ফলে আনুষঙ্গিক কাজও বৃদ্ধি পায়। নকশা অনুযায়ী, পার্কিং এরিয়া ও রাফ ওয়ালে প্রজেকশন লাইট স্থাপন করা হয়।
জানতে চাইলে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সাবেক উপদেষ্টা ও ভূতপূর্ব জুলাই জাদুঘরের সভাপতি মোস্তফা সরয়ার ফারুকী কালবেলাকে এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। উদ্বোধনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘কবে নাগাদ উদ্বোধন হবে এই বিষয়ে আমি আপনার সঙ্গে কথা বলতে রাজি না। এই বিষয়ে কোনো কথা বলব না।’
জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক ও জুলাই জাদুঘরের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত মহাপরিচালক তানজিম ওয়াহাব কালবেলাকে বলেন, ‘আয়নাঘর নির্মাণসহ সব কাজ সম্পন্ন হয়েছে। গণপূর্ত অধিদপ্তরের মাধ্যমে জাদুঘরের সিভিল ও ই/এম কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। এতে মোট ৯৭ কোটি ৩১ লাখ ২ হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে। এ ছাড়া ৫ কোটি ২৩ লাখ ৭২৩ টাকা ব্যয়ে ১৯টি ডকুমেন্টারি নির্মাণ করা হয়েছে। বিভিন্ন ভাস্কর্য নির্মাণ, গ্যালারি সজ্জা, প্রতীকী কবরস্থান তৈরি, আয়নাঘর, নিদর্শন সংগ্রহ, ফটো আর্কাইভিং, পেইন্টিং, ডিসপ্লে নির্দেশনাসহ প্রায় ১৫ কোটি টাকার কাজ সম্পন্ন হয়েছে।’
কবে নাগাদ উদ্বোধন হবে, বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘প্রশাসনিক অনুমোদন সাপেক্ষে শিগগির জুলাই স্মৃতি জাদুঘর সবার জন্য উন্মুক্ত করা হবে। কবে নাগাদ উদ্বোধন হবে, এ বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম