ঢাকা, মঙ্গলবার ১৪ এপ্রিল ২০২৬ মাসস
২৫ বছর আগে রমনা বটমূলে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে বোমা হামলার ঘটনা ঘটে। এতে ১০ জন নিহত হন। আহত হন অনেকে। এ ঘটনায় করা দুটি মামলার মধ্যে বিচারিক আদালতে হত্যা মামলার বিচার শেষ হয়।
মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০০১ সালের ১৪ এপ্রিল (পহেলা বৈশাখ ১৪০৮ বঙ্গাব্দ) ভোরে রমনার বটমূলে সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানটের বর্ষবরণ অনুষ্ঠানস্থলে দুটি বোমা পুঁতে রাখা হয় এবং পরে রিমোট কন্ট্রোলের সাহায্যে সেগুলোর বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। ওই দিন বর্ষবরণের অনুষ্ঠান চলাকালে সকাল ৮টা ৫ মিনিটে একটি ও ১০টা ১৫ মিনিটের পর অন্য বোমাটি বিস্ফোরিত হয়। নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন হরকাতুল জিহাদের (হুজি) নৃশংস ওই বোমা হামলায় প্রাণ হারান ১০ জন। আহত হন আরো অনেকেই। এ ঘটনায় হুজি নেতা মুফতি হান্নানসহ ১৪ জনকে আসামি করে ওই দিনই রমনা থানার পুলিশ বাদী হয়ে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে আলাদা দুটি মামলা করে।
২০০৮ সালের ২৯ নভেম্বর শীর্ষ হুজি নেতা মুফতি আবদুল হান্নানসহ ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে সিআইডির পরিদর্শক আবু হেনা মো. ইউসুফ আদালতে হত্যা ও বিস্ফোরক আইনে আলাদা দুটি সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ২০১৪ সালের ২৩ জুন ঢাকার দ্বিতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. রুহুল আমিন হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায়ে আটজনের মৃত্যুদণ্ড এবং ছয়জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন বিচারক। বিস্ফোরক আইনে করা মামলায় ২০১৪ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক শাহেদ নূর উদ্দিন মামলার অন্যতম আসামি মুফতি হান্নানসহ ১৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর আদেশ দেন।
সাবেক ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরী হত্যা মামলায় ২০১৭ সালের ১২ এপ্রিল রাতে মুফতি হান্নানের ফাঁসি কার্যকর করা হয়েছে। পরে বিস্ফোরক আইনের এ মামলা থেকে অব্যাহতি পান হরকাতুল জিহাদের এ শীর্ষ নেতা। বর্তমানে এ মামলায় মোট ১১ জন আসামি রয়েছেন। আসামিরা হলেন—মাওলানা তাজউদ্দিন, জাহাঙ্গীর আলম বদর, মুফতি আব্দুল হাই, মুফতি শফিকুর রহমান, মাওলানা আবু বকর, হাফেজ সেলিম হাওলাদার, আরিফ হাসান সুমন, মাওলানা আকবর হোসাইন, মাওলানা শাহাদাৎ উল্লাহ জুয়েল, হাফেজ মাওলানা আবু তাহের, মাওলানা সাব্বির ও মাওলানা শওকত ওসমান। তাঁদের মধ্যে তাজউদ্দিন ও জাহাঙ্গীর পলাতক রয়েছেন। আবুবকর ও আবু তাহের জামিনে এবং অন্যরা কারাগারে আটক রয়েছেন।
এদিকে গত বছরের ১৩ মে হত্যা মামলায় বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি নাসরিন আক্তারের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ রায় ঘোষণা করেন। রায়ে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মো. তাজউদ্দিনের সাজা কমিয়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন হাইকোর্ট। আর বিচারিক আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত শাহাদাৎ উল্লাহ জুয়েলের দণ্ড অপরিবর্তিত রাখা হয়। তবে বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আকবর হোসেন, আরিফ হাসান, হাফেজ জাহাঙ্গীর আলম বদর, আবু বকর ওরফে হাফেজ সেলিম হাওলাদার, আবদুল হাই, শফিকুর রহমান এবং বিচারিক আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাব্বির, শেখ ফরিদ ও আবু তাহেরের সাজা কমিয়ে ১০ বছরের কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন হাইকোর্ট। এ ছাড়া বিচারিক আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মুফতি হান্নান (সিলেটে গ্রেনেড হামলা মামলায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকর) এবং বিচারিক আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্ত আবদুর রউফ ও ইয়াহিয়া মারা যাওয়ায় তাঁদের বিচারিক কার্যক্রম থেকে বাদ দেওয়া হয়।
আকবর ও আবু তাহেরের আইনজীবী জসিম উদ্দিন বলেন, ‘এই মামলায় কিছুই নেই একজনের জোরপূর্বক জবানবন্দি নিয়ে মামলাটি সাজিয়েছিল আওয়ামী লীগ সরকার। এই দুজন কোনোভাবেই জড়িত না, তাঁরা সম্পূর্ণ নির্দোষ। সঠিকভাবে বিচার হলে তাঁরা খালাস পাবেন—এটায় প্রত্যাশা করছি।’
ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকার আমলে এই মামলাটি শেষ করতে তেমন কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আশা করছি, আগামী বৈশাখের আগেই একটা রেজাল্ট পাওয়া যাবে। এই মামলার অনেক প্রয়োজনীয় সাক্ষীকে বিভিন্ন কারণে পাওয়া যাচ্ছিল না। মামলাটি উচ্চ আদালতে স্থগিতাদেশ ছিল। সে জন্য অনেকটা সময় লেগেছে। আমরা আশাবাদী, আসামিদের সর্বোচ্চ সাজা হবে।’
সূত্র : কালের কণ্ঠ
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম