Home / উদ্যোগ / ‘চির চেনা পাখি হারিয়ে যেতে দেব না’
tangail+birds+nest+mbd

‘চির চেনা পাখি হারিয়ে যেতে দেব না’

মাস্টারি বিডি ডটকম ।
টাঙ্গাইল । ০২ জানুয়ারি ২০১৮ । ১৯ পৌষ ১৪২৪

‘পাখি-সব করে রব, রাত্রি পোহাইলো’- ছড়াটি অনেকটা এখন বইয়ের পাতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। ছড়ার মতো পাখির শব্দে এখন আর কারো ঘুম ভাঙ্গে না। গাছে গাছে পাখির কলরবও শোনা যায় না। গ্রামবাংলায় নানা প্রজাতির পাখির দেখাও অনেকটা মিলে না। সময়ের পরিবর্তন ও জলবায়ুর বিবর্তনে হঠাৎ করেই সেই পাখিগুলো হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামাঞ্চল থেকে। আর হারানো সেই পাখিগুলো ফিরিয়ে আনতে টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়া ইউনিয়নের কয়েকজন তরুণ মিলে নিয়েছে ব্যতিক্রমী এক উদ্যোগ। গাছে গাছে মাটির কলসি বেঁধে দিয়ে পাখিদের জন্য তৈরি করছে তারা নিরাপদ আবাসস্থল। তাদের এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে এলাকার সাধারণ মানুষ এবং উপজেলা প্রশাসন।

পাখির নীড় তৈরির উদ্যোক্তা তালহা আহামেদ সাজু জানান, একসময় গ্রামের মানুষেরা পাখির কলরবে ঘুম থেকে উঠত। হঠাতই গ্রাম থেকে হারিয়ে যাওয়ার পথে দেশীয় বিভিন্ন প্রজাতির পাখি। সেই ভাবনা থেকেই আমরা গ্রামের কয়েকজন যুবকের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। নিজেদের অর্থ দিয়ে কিনে গাছে গাছে বেঁধে দেই মাটির কলসি। প্রথমে তিন শ’ কলসি গাছে গাছে বেঁধে দেয়ার মাধ্যমে আমাদের যাত্রা শুরু হয়। পরে ধীরে ধীরে এক হাজার পাচঁ শ’ কলসি ইউনিয়নের বিভিন্ন গাছে লাগানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছি। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানে চোখে পড়েছে বিলুপ্ত কয়েকটি জাতের পাখি। যেমন- দোয়েল, শালিক, চড়ুই, টুনটুনি, জালালী কবুতর, ঘুঘু, টগা ইত্যাদি। এসব পাখির কলকাকলিতে ভরে উঠেছে আমাদের গ্রাম। এমন মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখে আমাদের ইচ্ছা শক্তি আরো বেড়েছে। আমরা চাই আমাদের মতো দেশের প্রতিটি গ্রামের তরুণরা এমন উদ্যোগ গ্রহণ করুক। যাতে আমাদের চির চেনা পাখি হারিয়ে না যায়।

tangail+birds+nest+mbd-2

আঃ সামাদ নামের আর একজন উদ্যোক্তা জানান, আমাদের ইচ্ছা শুধু আটিয়া নয়, পুরো দেলদুয়ার উপজেলা হোক পাখিদের নিরাপদ বাসস্থানের অভয়ারণ্য। আমরা চাই দেলদুয়ার থেকে আমরা তরুণরা যে উদ্যোগ গ্রহণ করেছি তা ছড়িয়ে পড়ুক সারাদেশে। পাখি ফিরে পাক তাঁর শান্তির নিরাপদ নীড়। সেই সাথে যদি আমরা সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পাই তাহলে পুরো দেলদুয়ার উপজেলাকে পাখির জন্য নিরাপদ আশ্রয়স্থল বানাতে পারবো। যা হবে দেশের অন্যান্য যুবকদের জন্য দৃষ্টান্ত। যুবকরা যদি এভাবে পাখিদের বাঁচাতে এগিয়ে আসে তাহলে হয়ত-বা গ্রামবাংলার সেই পুরনো চিত্র আবার ফিরে আসবে বলে আমাদের প্রত্যাশা।

স্থানীয়রা বলেছেন, আমাদের দেশে আগে যেসকল পাখি আমরা দেখতাম তা এখন আর চোখে পড়ে না। তবে এলাকার যুবকরা পাখি সংরক্ষণের জন্য যে আবাসন তৈরি করেছে তা আমাদরে এলাকার সবার নজর কেড়েছে। তাদের এ উদ্যোগের কারণে অনেক পাখি আবার ফিরে আসছে। আমরা চাই এ ধারাবাহিকতা বজায় থাকুক। পাশাপাশি সরকার তাদের এমন মহৎ কাজে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিক।

দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, আটিয়া গ্রামের স্থানীয় যুবকরা মিলে পাখিদের বাসস্থান তৈরির জন্য গাছে গাছে মাটির হাঁড়ি বেঁধে যে উদ্যোগ নিয়েছে তা আমি শুনেছি। আমি অবশ্যই তাদের এ ব্যাতিক্রম উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাই। আমাদের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও জীব বৈচিত্র্য রক্ষায় তাদের এই উদ্যোগ অভাবনীয় এবং এটা অনেকের মাঝে প্রশংসা পেয়েছে। আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে অবশ্যই তাদেরকে সহযোগীতা করবো।

দেলদুয়ার উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল মোতালেব বলেন, গ্রামবাংলা থেকে পাখি এখন হারিয়ে যাচ্ছে। যুব সমাজ পাখির নীড় তৈরিতে যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তা সত্যিই প্রশংসনীয়। আমাদের প্রানি সম্পদ অধিদপ্তর-এর পক্ষ থেকে যতদূর সম্ভব সার্বিক সহযোগীতা করা হবে।

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

27 8 13

মোবাইল ফোনের ব্যবহার কমেছে

ঢাকা, বুধবার ২৭ আগস্ট ২০২৫ মাসস দেশে প্রযুক্তির ব্যবহার পরিসংখ্যান অনুযায়ী প্রতি মাসেই বাড়ছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের শেষ …

Leave a Reply

Your email address will not be published.