Home / উৎসব ও সংস্কৃতি / ইতিহাস ও ঐতিহ্য / স্মৃতি ও সৌন্দর্যের জলছবি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী পুকুরগুলো
13 7 2027 888888821222

স্মৃতি ও সৌন্দর্যের জলছবি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যবাহী পুকুরগুলো

সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৯ আষাঢ় ১৪৩৩ | মাসস
746693788_1991792234786427_4640588890220973870_nঅপরিকল্পিত নগরায়ণ আর তীব্র আবাসন সংকটে পড়ে রাজধানী ঢাকা থেকে প্রায় বিলুপ্ত হয়ে গেছে ঐতিহ্যবাহী সব পুকুর ও জলাশয়। পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৮৫ সালেও যেখানে প্রায় দুই হাজার পুকুর ছিল, আজ তা কমতে কমতে হাতে গোনা কয়েকটিতে ঠেকেছে। এমনকি ২০১৮ সালের এক জরিপেও ১০০টি পুকুরের অস্তিত্ব মেলার পর গত কয়েক বছরে তার বেশিরভাগই হারিয়ে গেছে।
তবে এই যান্ত্রিক নগরের বুকেও গ্রামীণ আবহ আর সবুজ ঐতিহ্যকে বাঁচিয়ে রেখেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাস। বিশ্ববিদ্যালয়ের চারটি আবাসিক হলে এখনও টিকে আছে শতবর্ষী ও ঐতিহ্যবাহী চারটি পুকুর, যা পুরো ক্যাম্পাসের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের যান্ত্রিক জীবনে এনে দিয়েছে এক টুকরো শান্তির ছোঁয়া।
বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মূলত চারটি হলে এই চমৎকার জলাশয়গুলো সগৌরবে টিকে আছে:
ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হল: কার্জন হলের ঠিক পেছনে অবস্থিত এই পুকুরটির বয়স একশ বছরেরও বেশি। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার পাশাপাশি ঐতিহাসিক এই পুকুরটি দুর্যোগকালীন সময়েও ত্রাতা হিসেবে ভূমিকা রেখেছে। যেমন ২০২৩ সা‌লের ৪ এ‌প্রিল রাজধানীর বঙ্গবাজারে লাগা ভয়াবহ আগুন নেভাতে ফায়ার সার্ভিসের ৪৮টি ইউনিটের পানির অন্যতম প্রধান উৎস ছিল এই শতবর্ষী পুকুর। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এর সৌন্দর্যবর্ধন ও সংস্কারের জন্য বিশেষ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
শহিদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল: আয়তনের দিক থেকে এটি বেশ বড়। সম্প্রতি এই পুকুরের ঘাটটি নতুন করে সংস্কার করা হয়েছে। পুকুরপাড়ে শিক্ষার্থীদের বসার জন্য নান্দনিক বেঞ্চ ও বাহারি ফুলের চারা রোপণ করা হয়েছে। হল কর্তৃপক্ষ নিয়মিত এখানে মাছের পোনা ছাড়ে এবং বর্ষা মৌসুমে শিক্ষার্থীরা বেশ আনন্দ নিয়েই ছিপ ফেলে মাছ ধরে।
জগন্নাথ হল: এই হলের পুকুরপাড়ের পরিবেশ সাধারণত বেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকে। শিক্ষার্থীরা দলবেঁধে এখানে গোসল করতে পছন্দ করেন। তবে দীর্ঘদিন পানি পরিবর্তন না করায় অনেক সময় সাঁতার কাটার সময় পানির ঘনত্ব ও শারীরিক ক্লান্তি কিছুটা বেশি অনুভূত হয় বলে শিক্ষার্থীরা জানান।
শেখ মুজিবুর রহমান হল: সাম্প্রতিক সময়ে এই হলের পুকুরটিও নতুন করে সংস্কার করা হয়েছে, যা হলের সৌন্দর্য অনেকাংশে বাড়িয়ে দিয়েছে।
শিক্ষার্থীদের চোখে ক্যাম্পাসের ‘গ্রামবাংলা’
ক্যাম্পাসের এই পুকুরগুলো ইট-পাথরের এই শহরে শিক্ষার্থীদের জন্য এক একটি মুক্ত বাতাস নেওয়ার জায়গা। গ্রাম ছেড়ে আসা তরুণদের কাছে এই জলাশয়গুলো তাদের শৈশব ও কৈশোরের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয়। শিক্ষার্থীরা জানান, বিকেল কিংবা সন্ধ্যায় পুকুরঘাটে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দেওয়া বা কিছুটা সময় বসে থাকা মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়। বর্ষায় মাছ ধরা কিংবা বন্ধুদের সাথে দলবেঁধে সাঁতার কাটার আনন্দ ক্যাম্পাস জীবনকে আরও রঙিন করে তোলে।
সতর্কতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি
সৌন্দর্য আর বিনোদনের আড়ালে এই পুকুরগুলোকে ঘিরে কিছু বেদনাদায়ক ইতিহাসও রয়েছে। অসচেতনতার কারণে বিভিন্ন সময়ে এখানে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে।
জরুরি নোটিশ: স্বাধীনতার পর থেকে এ পর্যন্ত শহীদুল্লাহ হলের পুকুরে ডুবে প্রায় ২৮ জন শিক্ষার্থী ও বহিরাগত প্রাণ হারিয়েছেন। অন্যদিকে গত ১৫ বছরে জহুরুল হক হলের পুকুরে প্রাণ গেছে ৩ জনের।
এই ধরনের দুর্ঘটনা ও মৃত্যুঝুঁকি এড়াতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জহুরুল হক হল ও শহীদুল্লাহ হলের পুকুরে সাধারণ শিক্ষার্থী ও বহিরাগতদের সাঁতার কাটার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে এবং সতর্কতামূলক নোটিশ টাঙিয়ে দিয়েছে।
প্রকৃতি ও পরিবেশের ভারসাম্য ধরে রাখতে ঢাকার এই ফুসফুসগুলোকে বাঁচিয়ে রাখা অত্যন্ত জরুরি। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও সংস্কার করা গেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ঐতিহ্যবাহী পুকুরগুলো আগামী প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের কাছেও একইভাবে গ্রামীণ সৌন্দর্য আর নস্টালজিয়ার প্রতীক হয়ে টিকে থাকবে।
745144594_4549798068576896_3187697486060944250_n
-শিমুল আহসান, নির্বাহী সম্পাদক

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

7 7 26 666

বৃহস্পতিবার জাতীয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী

বুধবার, ৮ জুলাই ২০২৬, ২৪ আষাঢ় ১৪৩৩ | মাসস ৯ জুলাই বৃহস্পতিবার বিশ্ব পরিবেশ দিবস …