
মাস্টারি বিডি । শাহানা পারভীন
ফিচার । ঢাকা । ০৫ মে ২০১৯ । ২২ বৈশাখ ১৪২৬
অত্যন্ত বর্ণিল পাখি ‘সোনাবউ’। ছিপছিপে গড়নের এ পাখির দর্শন পাওয়া কিন্তু খুবই ভাগ্যের ব্যাপার। চোখের পলকেই হারিয়ে যায়। দেখা মাত্রই উধাও! ফলে এরকম দেখায় আনন্দ পাওয়া দুরূহ ব্যাপার। কেবল উদগ্রীব হয়ে দর্শনের ক্ষণ গনা।

এদের জ্ঞাতিভাই হচ্ছে ‘কালোমাথা বেনেবউ’ বা ‘ইষ্টিকুটুম’ পাখি। যারা বেশ আগ্রহ নিয়ে পাখি দেখে থাকেন কেবল তাদের জন্য সহজ এ পাখিটিকে চিনতে পারা। অন্যদের জন্য সহজ নয়। অনেকেই এটিকে কালোমাথা বেনেবউ বলে ভুল করেন। বেনেবউরা দেশের আনাচে-কানাচে যথেষ্ট নজরে পড়লেও সোনাবউ বা সোনালি বেনেবউদের ক্ষেত্রে তা বিরল দর্শন। দেশে খুব বেশি দেখার ঘটনা নেই।
বাংলাদেশে ১৯৭৪ সালে রাজশাহী অঞ্চলে প্রথম দেখার নমুনা রেকর্ড করা হয়েছে। মূলত গ্রীষ্মকালে ইউরোপের বিভিন্ন অঞ্চলে বিচরণ করে সোনাবউরা। শীতে এশিয়ার পশ্চিমাঞ্চল এবং আফ্রিকার দক্ষিণাঞ্চলে কাটিয়ে দেয়।
এ পাখি আমাদের দেশে পরিযায়ী হয়ে আসে হিমালয়াঞ্চল থেকে। উত্তরাঞ্চলসহ দেশের অল্প কিছু স্থানে নজরে পড়ে তখন।

সোনাবউ স্বভাবে লাজুক ও শান্ত। থাকে বেশিরভাগই জোড়ায় জোড়ায়। প্রজনন মৌসুমে পুরুষ পাখি আড়ালে আবডালে গিয়ে প্রেয়সীকে মুগ্ধ করতে গান বাঁধে। মিষ্টিকণ্ঠে নিচু সুরে গান গায় ‘পিউলোলো.. উইলো..’। শুনতে ভারি চমৎকার সেই সুর। ক্ষিদে পেলে ওদের বাচ্চারাও মিষ্টি সুরে কাঁদে।
সোনাবউ পাখির বাংলা নাম ‘সোনাবউ’ বা ‘সোনালি বেনেবউ’। ইংরেজি নাম ‘ইউরেশীয়ান গোল্ডেন ওরিয়োল’ Eurasian Golden Oriole.। বৈজ্ঞানিক নাম Oriolus oriolus.। এরা ‘হলুদিয়া পাখি’ নামেও পরিচিত। আমাদের দেশের পাখি বিশারদদের কেউ কেউ ‘ইউরেশীয় সোনাবউ’ নামে নামকরণ করেছেন এ পাখির।

পুরুষ পাখির দেহের অধিকাংশ পালকই উজ্জ্বল হলুদ। কেবল মাত্র ডানা ও লেজের উপরি ভাগের পালক কালো। কালো ডানায় রয়েছে হলুদ পট্টি। ঠোঁটের গোড়া থেকে শুরু করে চোখের ওপর দিয়ে গেছে কালো টান। ঠোঁট সোজা, গোলাপি-লাল। স্ত্রী পাখির বর্ণ একটু ভিন্ন। দেহের উপরের দিকের পালক সবুজাভ হলদে। পেটের দিকে রয়েছে ফিকে হলুদ-বাদামির প্রচ্ছন্ন খাড়া রেখা। ঠোঁট সোজা, টকটকে লাল। পায়ের রঙ সিসে রং। অপ্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে পিঠের দিক জলপাই-হলুদ। গলা ও বুক সাদাটে। ক্রমান্বয়ে নিচের দিকে ফিকে হলুদের ওপর কালো খাড়া রেখা।

ফুলের মধু, ছোট ফল ও পোকামাকড় এদের প্রধান খাবার।
প্রজনন সময় মার্চ থেকে মধ্য জুন পর্যন্ত। গাছের উঁচু ডালে খড়কুটা দিয়ে দোলনা আকৃতির বাসা বাঁধে। ডিম পাড়ে ২-৩টি। ফুটতে সময় লাগে ১৩-১৫ দিন।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম