Home / চিত্র-বিচিত্র / জলময়ূরী ডিম পেড়ে পালিয়ে যায়!
jalmoiur+mbd

জলময়ূরী ডিম পেড়ে পালিয়ে যায়!

jalmoiur+mbd-4

মাস্টারি বিডি । শাহানা পারভীন
ফিচার । ঢাকা । ২৩ এপ্রিল ২০১৯ । ১০ বৈশাখ ১৪২৬

শ্রীমঙ্গল জেলার হাইল হাওরে দেখা মিলবে জলময়ূরের। হাইল হাওরের বহু বিচিত্র পাখির ভিড়ে এই জলময়ূর একটি বিশিষ্ট পাখি।

jalmoiur+mbd-11

মজা হচ্ছে, অনেকেই আঝেন জলময়ূর পাখির নাম শোনেনি তেমন একটা। আবার নাম শুনলেও জলময়ূর দেখা হয়নি। তবে সৌভাগ্য হলে হাইল হাওরে খুব সুন্দর এ জলচর পাখির বিচরণ অবলোকন করা যেতে পারে। বেশ নজর কাড়তে সক্ষম জলময়ূর পাখিটি।

jalmoiur+mbd-8

দেখে অভিভূত হবার মতো একটি পাখি জলময়ূর। সচরাচর ভেসে থাকা জলদামের ওপর দাঁড়িয়ে থাকে। ঝিরঝিরে বাতাসের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ওর লম্বা লেজটা নড়তে থাকে তখন। প্রথম একে ভেবেছি ডাহুক জাতীয় কোনো পাখি। কিন্তু ওর লম্বা লেজ দেখে ভাবনাটা সঙ্গে তবে, এরা ডাহুক গোত্রের পাখি নয়।

jalmoiur+mbd-6

‘জলময়ূর’এর ইংরেজি নাম ফিজান্ট টেইল্ড জাকানা, Pheasant-tailed jacana.। বৈজ্ঞানিক নাম হাইড্রোফাজিয়ানাস চিরারগাস, Hydrophasianus Chirurgus.। গোত্র ‘জাকানাদি’।

jalmoiur+mbd-3

পাখিগুলোর মাথা ও গলা সাদা। ঘাড়টা রেশমি সোনালি হলুদ। পিঠ চকলেট পাটকিলে রঙের। ডানার পাশটা ধবধবে সাদা। দেহের তুলনায় লেজ বেশ লম্বা। কাস্তের মতো বাঁকানো। পেটের নিচটা কালচে। এরা শীত মৌসুমে রঙ বদলায়। চকলেট পাটকিল থেকে ফিকে পাটকিলে বর্ণ ধারণ করে এবং বুকের ওপরে ‘ভি’ আকৃতির কালো নেকলেসের মতো দেখা যায়। শীতে এ পাখিটির আরো কিছু পরিবর্তন নজরে পড়ে। যেমন প্রজনন ঋতুতে এদের লেজটা থাকে লম্বা, কিন্তু এ সময় লেজটা তুলনামূলকভাবে খাটো দেখায়। স্ত্রী-পুরুষ পাখি দেখতে একই রকম; পার্থক্য শুধু আকারে। স্ত্রী পাখি পুরুষের তুলনায় খানিকটা বড়।

jalmoiur+mbd-19

জলময়ূরের প্রধান খাবার শস্যদানা, জলজ ফল ইত্যাদি। সাধারণত এদের বিচরণ জলাশয়ে। এরা ডাঙ্গায় কম বিচরণ করে। দেশের বড় বড় বিল-ঝিল কিংবা হাওর-বাঁওড়ের বাসিন্দা এরা। একসময় আমাদের দেশের ফরিদপুর, বিক্রমপুরসহ বিল ও হাওরাঞ্চলে প্রচুর জলময়ূর দেখা যেত। এখন সে রকমটি আর দেখা যায় না। শিকারিদের দৌরাত্মেরে কারণে এ প্রজাতির পাখির সংখ্যা দিন দিন হ্রাস পাচ্ছে।

jalmoiur+mbd-7

জলময়ূরের প্রজনন সময় জুন থেকে সেপ্টেম্বর। এ সময় এরা ‘মিই-ও-মিই-ও’ সুরে ডাকাডাকি করে। এদের যৌন জীবন অন্য পাখিদের চেয়ে একটু আলাদা। প্রজনন ঋতুতে জলময়ূরী হণ্যে হয়ে পুরুষ পাখিকে খুঁজতে থাকে। এ সময় অন্য জলময়ূরীর সঙ্গে যে কোনো জলময়ূরের ঘোরাফেরা করতে দেখলে প্রচণ্ড হিংসা হয় এদের। দুই ময়ূরীর মাঝে ঝগড়া বেঁধে যায়। পরিশেষে জিতে যাওয়া জলময়ূরীর সঙ্গে জলময়ূরের মিলন ঘটে। ঘর বাঁধার সপ্তাহখানেক পরে জলে ভাসা লতাগুল্মের ওপর বাসা বানিয়ে জলময়ূরী ডিম পেড়ে পালিয়ে যায়। ওই এলাকা ত্যাগ করে ফের অন্য জলময়ূরের সঙ্গে ঘর বাঁধে। অর্থাৎ জলময়ূরীদের বহুগামিতা স্বভাব লক্ষ্য করা যায়। প্রজনন ঋতুতে একেকটি ময়ূরী ৭-৮ বার ঘর বাঁধে এবং ডিম দিতেও দেখা যায়। প্রতিবার ২-৪টি করে ডিম দেয়। ডিমে তা দেয়া ও বাচ্চাদের দেখভালের দায়িত্ব পুরুষ পাখিকে নিতে হয়।

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

12 4 2026 66

৯২ তে থামলেন আশা ভোসলে

ঢাকা, রবিবার ১২ এপ্রিল ২০২৬ মাসস প্রয়াত বর্ষীয়ান সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোসলে। বয়স হয়েছিল ৯২। শনিবার সন্ধ্যাবেলা হঠাৎই …

Leave a Reply

Your email address will not be published.