মাস্টারি বিডি । শান্তা ইসলাম
বিনোদন । ১১ সেপ্টেম্বর ২০১৮ । ২৭ ভাদ্র ১৪২৫
আবার ‘হইচই’ সিরিজের চরিত্রহীন। সায়নী ঘোষ। যৌনতা থেকে প্রেম, খোলামেলা কথা বললেন সায়নী ঘোষ।

‘হইচই’ ওয়েব সিরিজে আপনি কতটা খোলামেলা? এমন পশ্নের উত্তরে সায়নী বলেন-
দেখুন, এটা শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের উপন্যাস অবলম্বনে ‘চরিত্রহীন’। পরিচালক দেবালয় ভট্টাচার্য খুব যত্ন করে, এসথেটিকালি কাজটা করেছে। এটাই ‘চরিত্রহীন’-এর উদ্দেশ্য ছিল যাতে বডি এক্সপোজারের বিষয় যদি গল্পের প্রয়োজনেও আসে তবে সেটা খুব এসথেটিকালি শুট হবে। আমাদের ডিওপি ইন্দ্রনাথও চমৎকার কাজ করেছেন। দর্শক চরিত্রহীন দেখলেই বুঝতে পারবেন, ‘চরিত্রহীন’ কিন্তু কোনও সেক্স ওয়েব সিরিজ নয়। অযথা যৌনতা নিয়ে বাড়াবাড়ি করা হয়নি।

দেবালয় এত ভাল ডিরেক্ট করেছে! আমাকে বলত, তুই নিজেকে ভাঙ, বদলা। যেগুলো তোর সিগনেচার সেগুলো একদম বদলে ফেল। আমায় খুব হেল্প করেছে এই কাজটা।
কিন্তু ইদানীং ওয়েব সিরিজ মানেই যৌনতার হাতছানি। মানেন?
সায়নীর সাফ সাফ জবাব, আসলে ওয়েবে তো কোনও সেন্সর বসেনি। তাই অনেক ক্ষেত্রেই ইচ্ছেমতো বিষয় নিয়ে এক্সপোজার হয়। কিন্তু একটু লক্ষ্য করলে বুঝবেন, হিন্দি বা ইংরেজি ওয়েব সিরিজ যে দিকে গিয়েছে সেখানে বাংলা থ্যাঙ্কফুলি কোথাও পিছিয়ে।

থ্যাঙ্কফুলি কেন? এই প্রশ্নের জবাবে সায়নী ঘোষ বলেন-
এখনও আমরা অকারণ যৌনতা দেখানোর জন্য পাগল নই। আমরা কিছু বিষয়ে থেমে যাই। এই থেমে যাওয়া আমার মতে ভাল…
ইন্ডাস্ট্রিতে ন’বছর। আপনিও একটু থেমে থেমে চলছেন না…?
সায়নী ঘোষ’র সোজা উত্তর- আমি দৌড়তে চাই না। আমাকে আপনি কোনও বড় লবির মধ্যে দেখতে পাবেন না। এটাই আমি। আমার কাছে কিন্তু প্রচুর শর্ট কাট ছিল। চাইলেই অনেক কাজ। অনেক ছবি করে ফেলতাম। শর্ট কাটের রাস্তা, বড় পরিচালক, ব্যানার এ সব আমি পারব না। তাতে কাজ কম হবে। তবে তার সঙ্গে এটাও ঠিক যে, আমি মনে করি আমার অভিনয়, আমার অনেস্টি দিয়ে নিশ্চয়ই আমি আমার কাঙ্ক্ষিত জায়গায় পৌঁছব।

অনেকগুলো কাজ আসছে আপনার…
সায়নী বলেন, ‘দ্বিখণ্ডিত’ রিলিজ হবে বছরের শেষে। অপুদার সঙ্গে কাজ করাই একটা অভিজ্ঞতা। আগেও করেছি। প্রত্যেক বার নিজের অভিনয়টা আরও ভাল করার চেষ্টা করি। অঞ্জনাদির সঙ্গেও এ ছবিতে কাজ করে ভাল লেগেছে। এ ছবির পরিচালক নবারুণ সেন। এ ছাড়াও আছে ‘অন্দরকাহিনি’, ফেস্টিভাল ঘুরছে। কিছু দিন পর হয়তো কলকাতায় রিলিজ হবে। প্রিয়ঙ্কা দারুণ অভিনয় করেছে। ‘রিইউনিয়ন’ বলে একটা ছবি করলাম। আমি খুব এক্সাইটেড ঋতুদি আর সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে ‘অতিথি’ বলে একটা ছবিতে কাজ করব। এটা একটা বড় পাওয়া। ‘লভ স্টোরি’ বলে একটা শর্ট ফিল্ম হবে। পথিকৃৎ পরিচালক। আমি কিন্তু যথেষ্ট গুছিয়েই একটু একটু করে নানা ধরনের কাজ করছি।

আচ্ছা এই ‘চরিত্রহীন’, ‘লভ স্টোরি’, এই ধরনের নাম দিলে কি বাংলা কন্টেন্ট বেশি চলে? এ প্রশ্নেও সাবলিলভাবে সায়নী বলেন-
বাংলা কনটেন্ট, রাদার বাংলা ছবি কিসে চলে, সুপারহিট হয়, এর কোনও নির্দিষ্ট ফর্মুলা নেই। তবে নামগুলো ক্যাচি হলে হয়তো একটা দেখার আগ্রহ তৈরি হয়।
প্রেম বা বিয়েতে আপনার আগ্রহে খানিক ভাটা পড়েছে বোধহয়…
সায়নীর জবাব- দেখুন, ছুটকো ছাটকা একটু আধটু ভাল লাগা, মুগ্ধতা এগুলো তো চলতেই থাকে। তবে সেগুলো প্রেম নয়। প্রেম হলে আপনি ঠিক খবর পাবেন। আমি সত্যি কিন্তু সংসার করতে চাই। কারওর সঙ্গে থাকা…ছানাপোনা…সময় হলে হবে নিশ্চয়।

সমসাময়িক পছন্দের অভিনেত্রী কারা? এই প্রশ্নে সায়নী ঘোষ মুচকি হেসে বলেন-
সমসাময়িক? এই রে! হুমম…অভিনেত্রী যদি হয় তা হলে জয়া আহসান। এ রকম এক জন অভিনেত্রীকে এই ইন্ডাস্ট্রি যেন ওয়েস্ট না করে। আর ভাল লাগে প্রিয়ঙ্কা আর সোহিনীকে।
পুজোয় কী প্ল্যান?
পুজো বাদে সব। আড্ডা, খাওয়া, মাসাজ, নাচ, গান!
সূত্র : আনন্দবাজার
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম