Home / উদ্যোগ / খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা এলাকার দেড় লাখ মানুষ গ্রীষ্মকালে বৃষ্টিধারার সুপেয় পানি পাচ্ছে
khulna+division+water+mbd

খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা এলাকার দেড় লাখ মানুষ গ্রীষ্মকালে বৃষ্টিধারার সুপেয় পানি পাচ্ছে

মাস্টারি বিডি ডটকম
খুলনা । ১৬ জুন ২০১৭ । ০২ আষাঢ় ১৪২৪

খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা উপকূলীয় এলাকার দেড় লাখ মানুষ গ্রীষ্মকালে বৃষ্টিধারার সুপেয় পানি পান করার সুযোগ পাচ্ছে আকিজ গ্রুপের সহায়তায়।

খুলনার দাকোপ, পাইকগাছা, কয়রা উপজেলার ১৯টি স্থানে, সাতক্ষীরার ২টি উপজেলায় ২টি স্থানে, বাগেরহাটের মোংলা থানার ৮টি স্থানে গণজলাধার নির্মাণ করে এ সুপেয় বৃষ্টির পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। এ ছাড়াও ৩টি স্থানে ৫ বিঘা করে সর্বমোট ১৫ বিঘা জমিতে গণকবর নির্মাণ করে দিয়েছে তারা।

প্রতিটি জলাধার সর্বোচ্চ ৬ লাখ ৬৮ হাজার লিটার পানি ধারণ করতে পারে। মাঝারিগুলো ধারণ করতে পারে ৩ লাখ ৫০ হাজার লিটার। ১ লাখ ৩০ হাজার লিটার ধারণ ক্ষমতার রয়েছে ২টি জলাধার। প্রতিটি জলাধার নির্মাণে খরচ হয়েছে কমপক্ষে ৪৫ লাখ থেকে অর্ধ কোটি টাকা। সর্বমোট ১ কোটি ৫৫ লাখ লিটার সুপেয় পানি সরবরাহ করার নিশ্চয়তা দিচ্ছে গণজলাধারগুলো । ২৯টি জলাধারের নির্মাণে ব্যয় হয়েছে কমপক্ষে সাড়ে ১৪ কোটি টাকা।

আকিজ গ্রুপের মরহুম শেখ আকিজ উদ্দীনের পুত্র শেখ বশির উদ্দীনের একক অর্থায়নে এবং ফুলতলা ইউনিয়নের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক রাজার তত্ত্বাবধানে এগুলো তৈরি করা হয়। আরো ২টি প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছে।

উপকূলীয় এলাকার মানুষ গ্রীষ্মকালে সুপেয় পানি বঞ্চিত ছিল। ৪/৫ কিলোমিটার দূর থেকে বড় বড় জলাশয় থেকে পানি বয়ে আনতে একদিকে যেমন আর্থিক খরচ- অন্যদিকে কায়িক পরিশ্রম হতো। শেখ বশির উদ্দীনের পূর্বপুরুষ মোংলার গোয়ালিমেটে বসবাস করতেন। সেই সূত্র ধরে ২০১১ সাল থেকে বশির উদ্দিন জলাধার নিজ খরচে নির্মাণ করার উদ্যোগ নেন। তারই ধারাবাহিকতায় এখনো জলাধার নির্মানের কাজ চলছে।

ইতোমধ্যে খুলনার দাকোপে ৩টি, পাইকগাছায় ১০টি, কয়রায় ৬টি, সাতক্ষীরার আশাশুনির মির্জাপুরে (একসরা) ও আনুলিয়ায় ২টি গণজলাধার করা হয়েছে। গোয়ালিমেটে ৭টি পরিবারকে গৃহনির্মাাণ করে পুনর্বাসিত করা হয়েছে।

আকিজ ট্রাস্টের অর্থায়নে দাকোপের কালাবগি (নলিয়ান)-এ ৫ বিঘার ওপর, মোংলার গোয়ালিমেটে ৫ বিঘার ওপর, কয়রার বগাতে ৫ বিঘার ওপর গণকবর করে দিয়েছে আকিজ গ্রুপ। নিচু জমিতে মাটি ফেলে গণকবরগুলো তৈরি করা হয়েছে।এসব এলাকায় মানুষের মৃত্যুর পর কবর দেয়া কঠিন হয়ে পড়তো। কেননা, এসব এলাকায় শুকনো জায়গার বড় অভাব ছিলো। এখন কবর দিতে অসুবিধা হচ্ছে না।

সম্প্রতি কযরার ভান্ডারপোর, ভাগবা, কুশোডাঙ্গা, পুর্ববগা, পশ্চিমবগা, বাগালী, পাইকগাছার লক্ষীখোলা, দক্ষিণ খড়িযা, উত্তর খড়িয়া, বাসাখালি, ভ্যাকটমারী, খাটুয়ামারী, বয়ারঝাপা, পূর্ব দেলুটি, পশ্চিম দেলুটি, বাহিরবুনিয়া এলাকায় সরেজমিনে গেলে হাজার হাজার মানুষকে এসব জলাধার থেকে পানি সংগ্রহ করতে দেখা যায়।

কুশোডাঙ্গায় পানি নিতে আসা রহিমা বিবি জানান, বর্ষাকালে বর্ষার পানি ধরে রেখে পানির অভাব মেটানো যায়। কিন্তু গ্রীষ্মকালে বর্ষার পানি তো দূরের কথা পুকুরের পানিও পাওয়া যায়না। ডোবা নালার পানি খেয়ে কত মানুষ রোগাক্রান্ত হয়েছে,তার কোন হিসেব নেই। এখন জলাধার হওয়ায় আমরা বেঁচে গেছি।

খাটুয়ামারীর স্কুল শিক্ষক আ. রহিম জানান, বিনা টাকায় পানি পাচ্ছি,শুধু মাঝে মাঝে মেরামত করার জন্য ২/৪ টাকা খরচ হয়। আমরা বশির সাহেবের কল্যাণে সুপেয় পানির পাচ্ছি। বাসস

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

18 7 25 2

তিস্তার বুকে জেগেওঠা চরে সোনালি আঁশের চাষ

ঢাকা, শুক্রবার ১৮ জুলাই ২০২৫ মাসস তিস্তার বুকে জেগে ওঠা চরে করা হয়েছে পাট চাষ। সেই …

Leave a Reply

Your email address will not be published.