মাস্টারি বিডি ডটকম
ঢাকা । ২৫ অক্টোবর ২০১৬ । ১০ কার্তিক ১৪২৩
জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ নির্মূল এবং আগামী নির্বাচনে বিজয় নিশ্চিত করে পুনরায় ক্ষমতায় ফিরে আসাই হবে দলের মূল এজেন্ডা। আর এই দুই এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দলের সাংগঠনিক কাঠামো আরো শক্তিশালী এবং জনগনের কাছে দলের গ্রণেযোগ্যতা বাড়াতে হবে।
সোমবার দুপুরে রাজধানীর একটি কমিউনিটি সেন্টারে আয়োজিত সাংবাদিকদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় এ কথাগুলো বলেন আওয়ামী লীগের নব নিযুক্ত সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।
সভায় উপস্থিত ছিলেন- আওয়ামী লীগের সদ্যগঠিত কমিটির যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুব-উল-আলম হানিফ, ডা. দীপুমণি, এডভোকেট জাহাঙ্গীর কবির নানক, আব্দুর রহমান ও আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন, খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, মেজবাহউদ্দিন সিরাজ, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ, শিল্প ও বানিজ্য বিষয়ক সম্পাদক আব্দুস সাত্তার, স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. বদিউজ্জামান ভূঁইয়া ডাবলু, তথ্য ও গবেষনা সম্পাদক এডভোকেট আফজাল হোসেন, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি একেএম রহমতউল্লাহ, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ প্রমুখ।

এসময় ওবায়দুল কাদেরকে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন জেলা ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের পক্ষ থেকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানানো হয়। পরে তিনি বিভিন্ন জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আমরা আমাদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সর্বাত্মকভাবে কাজ করে দেশকে বঙ্গবন্ধুর কাঙ্খিত লক্ষ্যে এগিয়ে নিয়ে যাব। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কন্যা এবং আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দলের ঐক্যের প্রতীক।’
নব নিযুক্ত সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘বঙ্গবন্ধুর কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেখানে রয়েছেন, সেখানে কোন বিভেদ বা অনৈক্য হবে না। কোন বিষয়ে মতান্তর হতে পারে কিন্তু মনান্তর হবে না।’
সদ্য সমাপ্ত সম্মেলন থেকেই আগামী নির্বাচনের প্রস্তুতি গ্রহণ শুরু করা হবে বলে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে গড়ে তোলার জন্য শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।
জাতীয় সম্মেলনে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের ছাড়া অন্য কারো ছবি ব্যানারে বা পোস্টারে ব্যবহার না করা এবং সুশৃঙ্খলভাবে আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন সম্পন্ন হওয়াকে দলের রাজনীতির বিরাট গুণগত পরিবর্তন হিসেবে উল্লেখ করেন নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলনে কোন প্রার্থীর পক্ষে কোন পোষ্টার বা ব্যানার ছিল না। আর দলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সম্মেলনের সকল ব্যানার ও পোস্টারে বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের ছবি ব্যবহার করা হয়েছে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, আওয়ামী লীগ আরো গুণগত পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। আওয়ামী লীগকে জনগণের কাছে নিজেকে আরো গ্রহণযোগ্য করে তোলার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, নিজের পরিবর্তন না করা গেলে দেশকে কখনো বদলানো যাবে না। নিজেদের আচারণ বদলাতে হবে এবং আওয়ামী লীগকে আরো গ্রহণযোগ্য করে তুলতে হবে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, নিজেকে কখনো মন্ত্রী ভাবি না। নিজেকে দেশের এবং দলের কর্মী মনে করি। আগে রাস্তায় গিয়ে রাস্তার কাজ দেখাশুনা করতাম। রাস্তার কাজ দেখাশুনা করার সময় অনেক নেতা-কর্মী অভিযোগ করতো। রাস্তার সমস্যা সমাধান করতে পারলেও দলীয় অবস্থানের জন্য সাংগঠনিক সমস্যা সমাধান করতে পারতাম না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে কথা বলে এখন সাংগঠনিক সমস্যার তাৎক্ষণিক সমস্যার সমাধান করতে পারব। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব প্রদান করে আমার ওপর যে আস্থা রেখেছেন সে আস্থা রক্ষা করার জন্য সর্বশক্তি দিয়ে অমি কাজ করে যাব।
ওবায়দুল কাদের সম্মেলন সফল করার জন্য সংশ্লিষ্ট আওয়ামী লীগের জাতীয় সম্মেলন প্রস্তুত কমিটির বিভিন্ন উপকমিটির সভাপতি ও সদস্যসচিবসহ কমিটির সকলকে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার কর্মকর্তা ও বিদেশী অতিথিদের ধন্যবাদ জানান।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম