‘বাবুই পাখি খেঁজুর গাছে, আঙিনাতে চড়ুই নাচে। আমগাছে কোকিল ডাকে, দোয়েল গায় গাছে গাছে’। আগে গ্রামে গ্রামে হরহামেশাই দেখা মিলত নানা প্রজাতির পাখি। কিন্তু গ্রামে এখন নানা প্রজাতির পাখি আর চোখেই পড়ে না। গাছে গাছে পাখির কলরবও যেন উধাও হয়ে গেছে। তাহলে কি ‘পাখি-সব করে রব, রাতি পোহাইল’- ছড়ার মতো ভোরে পাখির শব্দে আর ঘুম ভাঙবে না? এমন শঙ্কা আমিনুল ইসলামকে পেয়ে বসে। তিনি ভাবতে থাকেন গ্রামের মানুষেরা একসময় ভোরে পাখির ডাকে ঘুম থেকে উঠত। কিন্তু হঠাৎ সেই পাখি হারিয়ে যায় গ্রাম থেকে। হারানো সেই পাখিকে ফিরিয়ে আনতে পাখিদের জন্য কী করা যায়। একদিন সে ভাবনা থেকেই শুরু পাখির জন্য বাসা বানানোর।…

মাস্টারি বিডি ডটকম ।
টাঙ্গাইল । ১১ নভেম্বর ২০১৭ । ২৭ কার্তিক ১৪২৪
‘বাবুই পাখি খেঁজুর গাছে, আঙিনাতে চড়ুই নাচে। আমগাছে কোকিল ডাকে, দোয়েল গায় গাছে গাছে’। আগে গ্রামে গ্রামে হরহামেশাই দেখা মিলত নানা প্রজাতির পাখি। কিন্তু গ্রামে এখন নানা প্রজাতির পাখি আর চোখেই পড়ে না। গাছে গাছে পাখির কলরবও যেন উধাও হয়ে গেছে। তাহলে কি ‘পাখি-সব করে রব, রাতি পোহাইল’- ছড়ার মতো ভোরে পাখির শব্দে আর ঘুম ভাঙবে না? এমন শঙ্কা আমিনুল ইসলামকে পেয়ে বসে। তিনি ভাবতে থাকেন গ্রামের মানুষেরা একসময় ভোরে পাখির ডাকে ঘুম থেকে উঠত। কিন্তু হঠাৎ সেই পাখি হারিয়ে যায় গ্রাম থেকে। হারানো সেই পাখিকে ফিরিয়ে আনতে পাখিদের জন্য কী করা যায়। একদিন সে ভাবনা থেকেই শুরু পাখির জন্য বাসা বানানোর। তার সঙ্গে যোগ দেন আরো কয়েকজন তরুণ। নিজেদের অর্থ খরচ করে তারা গাছে গাছে মাটির কলসি বেঁধে দিচ্ছেন।

সম্প্রতি টাঙ্গাইলের দেলদুয়ার উপজেলার আটিয়াতে গাছে গাছে মাটির কলসি বেঁধে দিয়ে আটিয়া যুবসমাজের এ কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন দেলদুয়ার উপজেলা নির্বাহী অফিসার শাহাদত হোসেন কবির ও আটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার সিরাজুল ইসলাম মল্লিক। পাখির জন্য নিরাপদ বাসা তৈরিতে ‘আটিয়া যুবসমাজ’ নামে সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছেন মীর মুনির হোসেন কামাল, শামীম আল রানা, শেখ ওবায়দুল ইসলাম, খন্দকার মনি, শেখ জাহিদুল ইসলাম, আমিনুল ইসলাম, খন্দকার বিপ্লব, শেখ রাজীব, সাজু। তাঁদের মূলমন্ত্র, ‘পাখি সংরক্ষণে বন্ধু চাই, সবুজ এ দেশকে বাঁচাই’।
আমিনুল ইসলাম বলেন, ঝড়-বৃষ্টিসহ নানা প্রাকৃতিক দুর্যোগে পাখির বাসা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ কারণে ডিম এবং বাচ্চা নষ্ট হয়ে যায়। ফলে বংশ বিস্তার কমে যাওয়ায় দেশীয় পাখির সংখ্যা দিনদিন কমছে। প্রথমে মানুষ আমাকে পাগল বলেছে। এখন সবাই সহযোগিতা করে।
ভবিষ্যতে এ কার্যক্রম উপজেলা ব্যাপি ছড়িয়ে দিতে চাই। এ পর্যন্ত আটিয়ার বিভিন্ন এলাকায় গাছে মাটির কলসি স্থাপন করে প্রায় তিনশটি পাখির নিরাপদ আশ্রয়স্থল গড়ে তোলা সম্ভব হয়েছে।
আটিয়া এলাকার যুবকরা জানান, কুমার বাড়ি থেকে পরীক্ষামূলকভাবে ৩শ’ মাটির কলসি তৈরি করা হয়। বৃষ্টির পানি যেন জমে না থাকে সেজন্য প্রতিটি পাত্রেই ছিদ্র করা হয়েছে। পরবর্তীতে আরো ৫ শতাধিক মাটির কলসি গাছে গাছে ঝুলানো হবে। পাখির প্রতি অনন্য ভালোবাসা থেকে এই তরুণরা নিজেদের সীমিত মেধাকে কাজে লাগিয়ে নিজ গ্রামে পাখিদের বাসা তৈরি করার মাধ্যমে সূচনা করেন তাঁদের পাখি সংরক্ষণ কর্মসূচি। তরুণ যুবকদের একটিই চাওয়া, পরিবেশগত ভারসাম্য রক্ষায় এবং বিলুপ্ত প্রায় দেশীয় পাখিদের সংরক্ষণের কাজে সকলে এগিয়ে আসবেন।

আটিয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম মল্লিক বলেন, পাখিদের নিরাপদ আবাসস্থল নির্মাণে এটি একটি মহৎ উদ্যোগ। এ উদ্যোগকে আমরা স্বাগত জানাই। ভবিষ্যতে সবাই মিলে দেলদুয়ার উপজেলাকে পাখিদের নিরাপদ অভয়ারণ্য হিসেবে গড়ে তুলবো।
-ইফতেখারুল অনুপম
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম