Home / প্রকৃতি / দৃষ্টিনন্দন বাবুই পাখির বাসা কি হারিয়ে যাচ্ছে?
babuinestmbd

দৃষ্টিনন্দন বাবুই পাখির বাসা কি হারিয়ে যাচ্ছে?

মাস্টারি বিডি ডটকম
রাঙ্গামাটি । ০৭ জানুয়ারি ২০১৭ । ২৪ পৌষ ১৪২৩

বাবুই পাখিকে নিয়ে কবির ‘স্বাধীনতার সুখ’ কবিতাটি আজো মানুষ উদাহরণ হিসেবে ব্যবহার করলেও হারিয়ে যেতে বসেছে বাবুই পাখি ও বাবুই পাখির বাসা। বাবুই পাখির বাসা আজ অনেকটা স্মৃতির অন্তরালে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। অথচ আজ থেকে প্রায় ১০-১২ বছর আগেও গ্রাম-গঞ্জে তাল, নারকেল ও সুপারি গাছে দেখা যেত বাবুই পাখির নিপুণ কারু কাজে তৈরি দৃষ্টিনন্দন বাসা।

তাইতো মানুষকে মানবিকভাবে জাগ্রত করার জন্য কবি রজনীকান্ত সেন বাবুই পাখিকে নিয়ে রচনা করেন কবিতা “বাবুই পাখিরে ডাকি বলিছে চড়াই, কুঁড়ে ঘরে থেকে কর শিল্পের বড়াই! আমি থাকি মহা সুখে অট্টালিকা পরে, তুমি কত পাও কষ্ট রোদ বৃষ্টি ঝড়ে। পাকা হোক তবু ভাই পরের বাসা, নিচ হাতে গড়া মোর কাঁচা ঘর খাসা”। তার এ কালজয়ী কবিতাটি এখনো মানুষের মূখে মুখে।

রাঙ্গামাটির বিলাইছড়ি উপজেলাসহ আশপাশ এলাকার বিভিন্ন গ্রামে এখন আর আগের মত বাবুই পাখির নিপুন তৈরি করা দৃষ্টিনন্দন বাসা চোখে পড়ে না। এসব বাসা শুধু শৈল্পিক নিদর্শনই ছিল না, মানুষের মনে চিন্তার খোরাক জাগ্রত এবং স্বাবলম্বী হতে উৎসাহিত করত। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে ও পরিবেশ বিপর্যয়ের কারণে আজ এ পাখিটি আমরা হারাতে বসেছি।

babuinestmbd-2

গাছের ঝুড়ির মতো চমৎকার বাসা বুনে বাস করায় এ পাখির পরিচিতি জগৎ জোড়া। খড়, তাল গাছের কচি পাতা, ঝাউ ও কাশবনের লতা-পাতা দিয়ে উঁচু তালগাছে চমৎকার বাসা তৈরি করতো বাবুই পাখি। সেই বাসা যেমন আকর্ষণীয় তেমনি মজবুত। প্রবল ঝড়েও তাদের বাসা ভেঙ্গে পড়ে না। বাবুই পাখির শক্ত বুননে এ বাসা টেনেও ছেঁড়া যায় না। এ জন্য অনেকেই একে তাঁতি পাখি বলে ডেকে থাকে।

বাবুই পাখির অন্যতম বৈশিষ্ট হলো রাতের বেলায় ঘর আলোকিত করতে জোনাকি পোকা ধরে নিয়ে বাসায় রাখে এবং সকাল হলে ছেড়ে দেয়। একটি বাসা তৈরি করার পর পুরুষ বাবুই পাখি সঙ্গীর খোঁজে নামে। সঙ্গী পছন্দ হলে স্ত্রী বাবুই পাখিকে সাথী বানানোর প্রয়োজনে পরুষ বাবুই নিজেকে আকর্ষণীয় করতে খাল, বিল ও ডোবায় ফুর্তিতে নেচে নেচে বেড়ায় গাছের ডালে ডালে।

প্রজনন সময় ছাড়া অন্য সময় পরুষ ও স্ত্রী বাবুই পাখির গায়ে কালো কালো দাগসহ পিঠ হয় তামাটে বর্ণের। নিচের দিকে কোন দাগ থাকে না। ঠোঁট পুরো মোসাকার ও লেজ চৌকা। তবে প্রজনন ঋতুতে পুরুষ পাখির রং হয় গাড় বাদামি। বুকের ওপরের দিকটা হয় ফ্যাকাশে; অন্য সময় পুরুষ ও স্ত্রী বাবুই পাখির চাঁদি পিঠের পালকের মতই বাদামি হয়। বুকের কালো ডোরে ততটা স্পষ্ট নয়।

দক্ষিন বাইশারী নরুল হক চেয়ারম্যান এর বাগান বাড়িতে দেখা যায় তেমনি একটি তাল গাছ। কিন্তু সেখানে বাবুই পাখির বাসা নেই। জানতে চাইলে এহতেশামুল হক মানিক বাসসকে বলেন, পূর্বে যখন গাছপালা বেশী ছিল তখন বাবুই পাখিরা এই তাল গাছে বাসা বাঁধতো। কত ভাল লাগত।

বাবুই পাখি সাধারণত তাল, খেজুর, নারকেল ও আখ ক্ষেতে বাসা বাঁধে। ধান, চাল, গম ও পোকা-মাকড় প্রভৃতি তাদের প্রধান খাবার। একসময় বিলইছড়ি সহ আশপাশ এলাকার বিভিন্ন গ্রামে দেখা যেত শ’ শ’ বাবুই পাখির বাসা। বর্তমানে যেমন তালগাছসহ বিভিন্ন গাছ নির্বিচারে নিধন করা হচ্ছে। তেমনি হারিয়ে যাচ্ছে বাবুই পাখিও। বাবুই পাখির এ শৈল্পিক নিদর্শনকে টিকিয়ে রাখার জন্য সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করা দরকার বলে জানিয়েছেন পরিবেশবিদরা।

-একেএম জহুরুল হক

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

12 4 2026 54

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সঠিক তথ্য ও উপাত্তের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে : প্রধান প্রকৌশলী

ঢাকা, রবিবার ১২ এপ্রিল ২০২৬ মাসস আজ ১২ এপ্রিল রবিবার এলজিইডি সদর দপ্তরের সেমিনার কক্ষে স্থানীয় …

Leave a Reply

Your email address will not be published.