ডগ-স্কোয়ার্ড দেশের সার্বিক নিরাপত্তা মাদক ও সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। অনেক ক্ষেত্রে পুলিশের পক্ষে যা সম্ভব হয়নি তা ডগ স্কোয়ার্ডের সদস্যদের দিয়ে সম্ভব হয়েছে। বহুকাল থেকেই কুকুর মানুষের বন্ধু এবং সেবক হিসেবে কাজ করছে। আধুনিক বিশ্বে কুকুর সব নিরাপত্তা বাহিনীর অত্যাবশ্যকীয় বন্ধু-অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।
প্রশিক্ষিত কুকুর মাদক ব্যবহারকারী এবং সরবরাহকারীকে সহজেই সনাক্ত করতে সক্ষম। মাদক দ্রব্যের অবস্থান, প্রকার ভেদ চিহ্নিত করতে পারে। কোন জনসমাবেশের নিরাপত্তা বিধানে ডগ-স্কোয়ার্ডের সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। ভিআইপি এবং ভিভিআইপিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য এদের ব্যবহার করা হয়। ধ্বংসপ্রাপ্ত ইমারতের নিচে চাপা পড়ে থাকা ব্যক্তিদের উদ্ধারে এরা বিশেষ ভূমিকা রাখে। যেকোন প্রাকৃতিক দুর্যোগে অদৃশ্য প্রাণীকে চিহ্নিত করে দ্রুত উদ্ধার করতে পারে। এসব কুকুর বিশেষ করে শেফার্ড ১৫ ফুট নিচের কোন পাইপের লিকেজ চিহ্নিত এবং ৬ ফুট মাটির নিচে অবস্থানরত সব ধরনের বিপজ্জনক উপকরণ উদ্ধার করতে সক্ষম।
ডগ-স্কোয়ার্ডের সদস্যদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে প্রশিক্ষণ। হিংস্র ও ক্ষিপ্রজাতের কুকুরকে বাছাই করে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। প্রশিক্ষিত কুকুরগুলি সংরক্ষিত এলাকা থেকে অপরাধীকে গ্রেফতারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।অস্ত্র ও বিস্ফোরক তল্লাশির কাজে শান্ত বুদ্ধিমান ও প্রখর অনুভূতি সম্পন্ন লেবরাডা জাতের কুকুরকে ব্যবহার করা হয়। এসব কুকুর লুকিয়ে রাখা অস্ত্র সহজেই সনাক্ত করতে সক্ষম।
ডগ-স্কোয়ার্ডের জন্য প্রথমে কুকুরকে বাছাই করে সাধারণ প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। সাধারণ প্রশিক্ষণের পর তাদেরকে বিশেষ প্রশিক্ষণে নেয়া হয়। মৌলিক প্রশিক্ষণের পর কৃতকার্য কুকুরের ক্ষিপ্রতা, হিংস্রতা, মাঠের জ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা, সাহসিকতা ইত্যাদি ক্যাটাগরিতে পুনরায় প্রশিক্ষণে নেয়া হয়। প্রশিক্ষণ শেষে চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত কুকুরকে ডগ স্কোয়ার্ডে যুক্ত করা হয়। জার্মানীতে একটি শেফার্ড কুকুরকে প্রশিক্ষিত করতে খরচ হয় ৫০ হাজার ডলার। অথচ এর মাত্র ৫ ভাগ কুকুর ডগ স্কোয়ার্ডে যুক্ত হতে যোগ্যতা অর্জন করতে পারে। শেফার্ড শ্রেণীর কুকুর সাধারণত ২৪-২৬ ইঞ্চি উঁচু এবং ৭৫-৯০ পাউন্ড ওজনের হয়। বর্তমান শেফার্ড অনেক শেফার্ড কুকুরের ব্রিড থেকে জন্ম। সেজন্য এদের মধ্যে বুদ্ধিমত্তা, দ্রুত শেখার প্রবণতা লক্ষণীয়। এরা অন্ধদের পথ দেখানো বরফে চাপা পড়া মানুষকেও উদ্ধার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দুর্যোগ মোকাবেলায় নিরাপত্তারক্ষীদের পাশাপাশি বর্তমান ডগ-স্কোয়ার্ড গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বর্তমানে বাংলাদেশে নিষিদ্ধ মাদক ইয়াবা সেবনকারীদের সনাক্ত করতে এদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে- যা মাদক নিরাময়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে সক্ষম।
শেখ নজরুল : কবি ও গানলেখক
মাস্টারি বিডি / প্রতিবেদন / ২৭ নভেম্বর ২০১৮ / ১৩ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম