Home / আন্তর্জাতিক / অভিবাসন সমস্যা সমাধানে বৈশ্বিক প্রচেষ্টার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার
pm-cop-22

অভিবাসন সমস্যা সমাধানে বৈশ্বিক প্রচেষ্টার আহ্বান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার

মাস্টারি বিডি ডটকম
ঢাকা । ১৬ নভেম্বর ২০১৬ । ০২ অগ্রহায়ণ ১৪২৩
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ বিশ্বের বিভিন্ন রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানেরা মঙ্গলবার মরক্কোর রাজকীয় শহর মারাক্কাসে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনে (কপ-২২) যোগ দিয়েছেন।

এ সম্মেলনে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য (এসডিজি) বাস্তবায়নে জলবায়ুর প্রভাবে সৃষ্ট অভিবাসন সমস্যা সমাধানে বৈশ্বিক উদ্যোগ গ্রহণের জন্য আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

মঙ্গলবার মরক্কোর বাব ইগলিতে বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলনের (কপ-২২) উচ্চ পর্যায়ের বৈঠকে বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী এই আহ্বান জানান।

শেখ হাসিনা বলেন, জলবায়ুর প্রভাবে যে অভিবাসন সমস্যা সৃষ্টি হয়েছে সেটি সমাধান করতে না পারলে আমরা এসজিডির লক্ষ্য অর্জন করতে পারব না।

গত বছর প্যারিসে যে ঐতিহাসিক জলবায়ু চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে- তা এখন বাস্তবায়নের সময় এসেছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, আমরা জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুতে আমরা যে অঙ্গীকার করেছি তা বাস্তবায়ন করতে না পারলে লক্ষ লক্ষ মানুষের জীবন ও জীবিকা হুমকির মুখে পড়বে। বিশ্বকে নিরাপদ করতে ও আগামী প্রজন্মের জন্য উন্নত পরিবেশ সৃষ্টি করার লক্ষ্যে আমাদের সমানভাবে দায়িত্ব নিয়ে অঙ্গীকার পূরণ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ নিজস্ব তহবিল থেকে ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলারে সর্বপ্রথম ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ ট্রাস্ট’ গঠন করেছে। বন্যা, ঘূর্ণিঝড়ের মতো জলবায়ু সম্পৃক্ত অধিক ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলীয় এলাকা থাকা সত্ত্বেও বাংলাদেশ দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় সাফল্য অর্জন করেছে।

পানি সম্পর্কিত জাতিসংঘের উচ্চ পর্যায়ের প্যানেলের সদস্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পানি নিরাপত্তার ওপর গুরুত্বারোপ করে গত সেপ্টেম্বরে নিউইর্য়কে গৃহীত অ্যাকশন প্ল্যানের প্রতি তার সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, আমাদেরকে সুষ্ঠু পানি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সুপেয় পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী পানি বিষয়ে টেকসই উন্নয়ন অর্জনে গবেষণা, উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি স্থানান্তরে সহায়তা করতে একটি বৈশ্বিক তহবিল গঠনের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

‘বিশ্ব জলবায়ু সম্মেলন’ নামে পরিচিত কপ-২২’এর এই বৈঠকে বাংলাদেশসহ ১১৫টি দেশের ৮০জন রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান এবং সিনিয়র মন্ত্রীরা অংশ নিয়েছেন।

মরক্কোর বাদশাহ ৬ষ্ঠ মোহাম্মদের আমন্ত্রণে বিভিন্ন দেশের সরকার ও রাষ্ট্র প্রধানেরা তিনদিনব্যাপী এই সম্মেলনের বিভিন্ন পর্বে স্ব-স্ব দেশের পক্ষে নীতি নির্ধারণী বক্তব্য দেবেন। উন্নত দেশের অতিমাত্রায় কার্বন নি:সরণের ফলে গ্রীন হাউজ ইফেক্টে সৃষ্ট বৈশ্বিক জলবায়ুর হুমকি মোকাবেলায় করণীয় নির্ধারণে নিজস্ব মতামত উপস্থাপন করবেন।

এর আগে, মরক্কোর বাদশাহ ৬ষ্ঠ মোহাম্মদ, জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুন, জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত রূপরেখা সনদের (ইউএনএফসিসি) নির্বাহী সচিব পেট্রিসিয়া এপিনোসা এবং ‘কপ-২২’ প্রেসিডেন্ট সালাহেদ্দিন মিজোয়ার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং সম্মেলনে যোগ দিতে আসা অন্য রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানদের সম্মেলন ভেন্যুতে স্বাগত জানান।
গত ডিসেম্বরে ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসে ‘কপ-২১’ এ গৃহীত ঐতিহাসিক চুক্তির পর এটাই হচ্ছে প্রথম সম্মেলন।

আলোচনায় যে ৮০টি দেশের সরকার ও রাষ্ট্র প্রধান এবং ১১৫টি দেশের সিনিয়র মন্ত্রীবর্গ অংশগ্রহণ করেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন- কুয়েতের আমির শেখ সাবাহ আল আহমাদ আল জাবের আল সাবাহ, ফরাসি প্রেসিডেন্ট ফ্রাংকোয়িস হল্যান্ডে, পর্তুগালের প্রধানমন্ত্রী এন্টোনিও কস্টা, সেনেগালের প্রেসিডেন্ট ম্যাকি সল, চিলির প্রেসিডেন্ট মিচেল ব্যাচলেট, জিবুতির প্রেসিডেন্ট ইসমাইল ওমর গুইল্লা, আইভিরিকোস্টের প্রেসিডেন্ট অ্যালিসানি কোয়েত্তারে, মেসিডোনিয়ার প্রেসিডেন্ট জর্জ ইভানভ।

সম্মেলনে অন্যান্যের মধ্যে নাইজেরিয়ার প্রেসিডেন্ট মুহাম্মাদু বুহারি, গ্যাবনের প্রেসিডেন্ট আলী বঙ্গো ওদিবা, লাইবেরিয়ার প্রেসিডেন্ট ইলেন জনসন স্যারলীফ, ইরাকের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ ফুয়াদ মাদুম, সুদানের প্রেসিডেন্ট ওমর হাসান আহমদ আল বশির, তিউনিসিয়ার প্রধানমন্ত্রী ইউসেফ চাহেদ, ফিলিস্তিনির প্রধানমন্ত্রী রামি হামদুল্লাহ্ উপস্থিত ছিলেন।

উদ্বোধনী অধিবেশন শেষে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং অন্যান্য রাষ্ট্র ও সরকার প্রধানগণ মরক্কোর বাদশাহ’র দেয়া মধ্যাহ্ন ভোজে যোগ দেন।

২০১৫ সালের ডিসেম্বর মাসে ফ্রান্সে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে গৃহীত জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত প্যারিস চুক্তি গৃহীত হয়। এই সম্মেলনে ১৯০টির বেশি দেশ অংশ নেয়। এই চুক্তি ছিল বিভিন্ন দেশ, ইউএন সংস্থা, বিজ্ঞানী, বেসরকারি সেক্টর এবং সিভিল সোসাইটির বছরের পর বছরের কঠোর পরিশ্রমের ফসল। জিরো কার্বন, প্রাণবন্ত এবং টেকসই বিশ্ব গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়ে তারা কাজ করেন।

সম্মেলনের পাশাপাশি বিভিন্ন বৈঠকে বৈশ্বিক সিভিল সোসাইটির নেতৃবৃন্দ জলবায়ুজনিত কারণে গৃহচ্যুত মানুষের মানবাধিকার রক্ষায় নতুন রাজনৈতিক নীতি প্রণয়নের আহবান জানান। বিশেষজ্ঞগণ আফ্রিকার কয়েকটি সমীক্ষার উল্লেখ করে উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করা সত্ত্বেও জলবায়ুজনিত কারণে গৃহহারা মানুষের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। গ্রীনহাউস গ্যাস নিঃসরন হ্রাসে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণে ১৯৯৪ সালে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত জাতিসংঘ ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন অনষ্ঠিত হয়। কনফারেন্স অব পাটির্স (সিওপি) কনভেনশনের সুপ্রিম গভর্নিং বডি হিসাবে মনোনিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সিওপি-২২ তে যোগ দিতে তিনদিনের সরকারি সফরে সোমবার মরক্কো পৌঁছেন। তিনি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এএইচ মাহমুদ আলী, পরিবেশ ও বন মন্ত্রী আনোয়ার হোসেন মঞ্জু, পানিসম্পদ মন্ত্রী ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, পরিবেশ ও বন উপমন্ত্রী আব্দুল্লাহ আল ইসলাম জ্যাকবসহ ৫৮ সদস্যের প্রতিনিধি দলে নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
সূত্র : বাসস

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

12 4 2026 66

৯২ তে থামলেন আশা ভোসলে

ঢাকা, রবিবার ১২ এপ্রিল ২০২৬ মাসস প্রয়াত বর্ষীয়ান সঙ্গীতশিল্পী আশা ভোসলে। বয়স হয়েছিল ৯২। শনিবার সন্ধ্যাবেলা হঠাৎই …

Leave a Reply

Your email address will not be published.