….বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রের জন্য প্রায় ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে বিদেশ থেকে বেশ কিছু প্রাণী কেনা হয়েছে। এগুলো গাজীপুরে সাফারি পার্কে রাখা আছে। পর্যায়ক্রমে প্রাণীগুলো সিলেট স্থানান্তর হবে। তবে ভল্লুক ও হরিণ কেনা হয়নি। সাফারি পার্ক থেকে এসব প্রাণী নিয়ে আসা হবে।…
মাস্টারি বিডি । বাঁধন খান
ফিচার ডেস্ক । ২৩ অক্টোবর ২০১৮ । ০৮ কার্তিক ১৪২৫
পর্যটকদের বিনোদনের সুযোগ প্রসারিত হচ্ছে…
সিলেট জেলার টিলাগড় ইকোপার্কে দুই বছর আগে নির্মিত ‘বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্র’ চালু হচ্ছে। প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ১১২ একর জায়গায় এটি নির্মাণ করেছে বন বিভাগ। চলতি মাসের ৩০ তারিখ কেন্দ্রটি উদ্বোধন হতে যাচ্ছে।
আর এর মধ্যদিয়ে সিলেটবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হতে যাচ্ছে। ফলে সিলেটের সর্বসাধারণ এবং আগত পর্যটকদের বিনোদনের সুযোগ প্রসারিত হবে। পুনর্বাসনসহ সিলেটের বন্যপ্রাণীর সুচিকিৎসাও নিশ্চিত হবে।
প্রতিদিন সকাল ৮ টা থেকে সন্ধ্যা ৬ টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য খোলা রাখা হবে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রটি। প্রবেশ মূল্য শিশুদের জন্য ৫টাকা, স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য ২টাকা এবং প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য ১০টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বন বিভাগ জানিয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ে দর্শনার্থীদের জন্য জেব্রা, ময়ূর, ঘোড়া, গোল্ডেন ঈগল, সিলভার ঈগল, হরিণসহ নানা জাতের পশু-পাখি রাখা হবে।
সিলেটের উপ-বন সংরক্ষক মো. মনিরুল ইসলাম জানিয়েছেন, এরই মধ্যে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রটি প্রস্তুত করা হয়েছে। পশু-পাখি সিলেটে নিয়ে যেতে বন বিভাগের অভিজ্ঞ তিনজন কর্মকর্তাকে ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তাদের পরামর্শ ও দিকনির্দেশনায় এক সপ্তাহের মধ্যে এগুলো সিলেটে পৌঁছে যাবে।
জানা যায়, প্রতিদিন প্রচুর পর্যটক এখানে আসে। খুব শিগগির বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্রটি চালু হবে। এটি চালু হলে দর্শনার্থী আগমন কয়েকগুণ বেড়ে যাবে।
সিলেট ইকোপার্কের পাশেই সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের অবস্থান। সিলেট বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্র চালু হলে স্থানীয় লোকজনসহ দেশ-বিদেশের অসংখ্য পর্যটক আসবে। তাই, নিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা উচিত।
বিশ্ববিদ্যালয় ও আশপাশ এলাকায় সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক পরিবেশ বিরাজমান। ইকোপার্কটি এমনিতেই প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের প্রিয় একটি জায়গা। এর মধ্যে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কেন্দ্র চালু হওয়ায় এ স্থানের গুরুত্ব আরো বেড়ে যাবে। তবে, আগত দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।

বন্যপ্রাণী রাখার জন্য ইকোপার্কে নির্মাণ করা হয়েছে প্রায় ১১টি বেষ্টনি, শেড ও খাঁচা। জেব্রা, হরিণ, বাঘ, সিংহের বিচরণের জন্য বেষ্টনির পাশাপাশি বিশ্রামের জন্য শেড তৈরি করা হয়েছে। প্রয়োজনমতো আরও খাঁচা-শেড তৈরি করা হবে।
জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও সিলেটবাসীর বিনোদনের সুবিধার জন্য গড়ে তোলা হয় টিলাগড় ইকোপার্ক। এরপর অর্থমন্ত্রীর বিশেষ আগ্রহে ২০১২ সালে সেখানে একটি চিড়িয়াখানা নির্মাণের সিদ্ধান্ত হয়।
টিলাগড় ইকোপার্কে প্রায় ৫০ প্রজাতির বনজ, ফলদ ও ওষুধি গাছ রয়েছে। এছাড়া প্রায় ৩০ প্রজাতির প্রাণীর বিচরণ রয়েছে এ বনে।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম