মাস্টারি বিডি । শিমুল আহসান
ঢাকা । ০৪ নভেম্বর ২০১৮ । ২০ কার্তিক ১৪২৫
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সমাজে শান্তি বজায় রাখার ক্ষেত্রে আলেম-ওলামাদের ভূমিকা রাখার আহবান জানিয়ে বলেছেন, তাঁর সরকার কোনভাবেই ইসলাম এবং রাসুল (সা:) এর বিরুদ্ধে কোন ধরনের অপপ্রচার বরদাশত করবে না।
প্রধানমন্ত্রী ইসলামকে শান্তির ধর্ম উল্লেখ করে বলেন, ‘গুটিকতক লোক ইসলামের নামে জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করে আজকে সারাবিশ্বে ইসলাম ধর্মকে বদনাম দিচ্ছে। অথচ, ইসলাম কখনও সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদকে সমর্থন করে না।’
সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রশ্নে তাঁর সরকারের জিরো টলারেন্স নীতির পুণরোল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই বাংলাদেশে কোন জঙ্গিবাদের স্থান হবে না। সন্ত্রাসের স্থান হবে না। মাদকের স্থান হবে না। দুর্নীতির স্থান হবে না। বাংলাদেশ হবে একটা শান্তিপূর্ণ, উন্নত, সমৃদ্ধশালী দেশ।’
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা আজ রোববার দুপুরে রাজধানীর সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে কওমী মাদ্রাসার আলেমদের শুকরানা মাহফিলে প্রধান অতিথির ভাষণে একথা বলেন।
কওমী মাদ্রাসা শিক্ষার সর্ব্বোচ্চ স্তর দাওরায়ে হাদিসকে মাস্টার্স সমমানের স্বীকৃতি দিয়ে বর্তমান সরকার জাতীয় সংসদে আইন পাশ করায় ‘হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমী বাংলাদেশ’ এই শুকরানা মাহফিলের আয়োজন করে।
কোন আন্তর্জাতিক ফোরামে কেউ ‘ইসলামি টেররিষ্ট’ বললে তিনি তীব্র প্রতিবাদ করেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘ ইসলাম সন্ত্রাস লালন করে না, আর সন্ত্রাসীর কোন ধর্ম নেই, দেশ নাই, সমাজ নাই, তাদের পরিচয় এই যে, সে তারা সন্ত্রাসী-জঙ্গিবাদী।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘যারা প্রকৃত ইসলামে বিশ্বাস করে তারা কখনও সন্ত্রাসী-জঙ্গিবাদী হতে পারে না।’
আল্লাহতায়ালা আমাদের অনেক নেয়ামত দিয়েছেন এবং তা দিয়েই আমরা বাংলাদেশকে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে চাই উল্লেখ করে সরকার প্রধান সোশ্যাল মিডিয়ার নানা ধরনের অপপ্রচার এবং গুজবে কান না দেওয়ার জন্য সকলর প্রতি আহবান জানিয়ে যে কোন বিষয়ে প্রকৃত সত্য যাচাই করে দেখার পরামর্শ দেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘অপপ্রচার কেউ বিশ্বাস করবেন না। ইতোমধ্যে এই অপপ্রচার প্রতিরোধে আমরা সাইবার ক্রাইম আইন তৈরী করেছি। কেউ যদি কোন ধরনের অপপ্রচারে লিপ্ত হয় তাহলে সাখে সাথে সেই আইনদ্বারা তাদের গ্রেফতার করে বিচারের সম্মুখীন করা হবে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের ধর্ম ইসলাম এবং নবী করিম (সা:) সম্পর্কে কেউ কোন কটু কথা বললে সেই আইন দ্বারাই তার বিচার হবে।’
প্রধানমন্ত্রী এ সময় আইন কাউকে নিজেদের হাতে তুলে না নেওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, ‘আমরা আইন নিজেদের হাতে তুলে নেব না, আইন দ্বারাই তাদের বিচার করে উপযুক্ত শিক্ষা দিয়ে দেব যাতে কখনও তারা এধরনের অপপ্রচার চালাতে না পারে।’
প্রধানমন্ত্রী এসময় এই শিক্ষা ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহবান জানিয়ে বলেন, আপনারা এমনভাবে কাজ করবেন যাতে এই মাদ্রাসা থেকে যারা শিক্ষা নেয় তাঁরা যেমন মাষ্টার্স ডিগ্রীর স্বীকৃতি পেলেন তেমনি তারা দেশ ও জাতির জন্য যেন কাজ করতে পারেন।
তিনি বলেন, এই দেশকে যেন আমরা উন্নত করতে পারি। এই দেশে আর একটা মানুষও যাতে গরিব না থাকে, ক্ষুধার জ্বালায় এবং রোগেভুগে যেন কেউ কষ্ট না পায়।
হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমী বাংলাদেশ-এর চেয়ারম্যান এবং হেফাজত-ই-ইসলামের আমির আল্লামা শাহ আহমেদ শফি মাহফিলে সভাপতিত্ব করেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ধর্ম বিষয়ক সম্পাদক শেখ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ এবং প্রধানমন্ত্রীর সামরিক সচিব মেজর জেনারেল মিয়া মোহাম্মদ জয়নুল আবেদীন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
হাইআতুল উলয়া লিল জামিয়াতিল কওমী বাংলাদেশের সহ-সভাপতি আল্লামা আশরাফ আলী, মওলানা আজহার আলী আনোয়ার, আল্লামা ফরিদ উদ্দীন মাসুদ, মওলানা রুহুল আমিন, আবু তাহের নদভী, মওলানা আহমাদুর রহমানী, মওলানা আব্দুল কুদ্দুসও বক্তৃতা করেন।

সরকার প্রধান ইসলামের প্রসারে তাঁর সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে বলেন, আমরা ইমাম-মুয়াজ্জিনদের জন্য ট্রাস্ট করে দিয়েছি। ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি নিরক্ষরতা মুক্ত করার অংশ হিসেবে মসজিদ ভিত্তিক উপআনুষ্ঠানিক শিশু ও গণশিক্ষার ব্যবস্থা, শিক্ষা প্রদানকারিদের জন্য ভাতার ব্যবস্থাও করা হয়েছে।
এরজন্য ৮০ হাজার আলেম-ওলামার কর্মসংস্থান হয়েছে, বলেন তিনি।
তিনি এ সময় তাঁর সরকারের সারাদেশের উপজেলা পর্যায়ে ৫৬০টি মডেল মসজিট কাম ইসলামিক কালচারাল সেন্টার প্রকল্প নির্মাণের উদ্যোগের প্রসংগ তুলে ধরে বলেন, এটি দেশীয় অর্থায়নে প্রথমে তিনি করার উদ্যোগ নিলেও তাঁর সাম্প্রতিক সৌদি আরব সফরের সময় সৌদি বাদশাহ এই প্রকল্পের জন্য অর্থ বরাদ্দের আশ্বাস দিয়েছেন ।
তিনি বলেন, ‘দুটি পবিত্র মসজিদের জিম্মাদার সৌদি বাদশাহ এই মসজিদ নির্মাণে আমাদের পাশে থাকবেন এবং সহযোগিতা করবেন এবং এজন্য একটি টিমও তিনি বাংলাদেশে পাঠিয়েছেন।’
প্রধানমন্ত্রী এ সময় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের সৌন্দর্য বৃদ্ধি তাঁর সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে বলেন, তিনি যখন প্রথমবার ’৯৬ সালে প্রধানমন্ত্রী হন তখনই সৌদি আরবের আর্থিক সহযোগিতায় এই প্রকল্প গ্রহণ করলেও পরে বিএনপি-জামাত সরকার এই প্রকল্পের কাজ বন্ধ করে দেয় এবং পরে তিনি ২০০৮ সালে পুণরায় ক্ষমতায় এসে আল্লাহর রহমতে এই প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত করতে পেরেছেন।
তিনি বলেন, ‘একদিকে মনে হয় ভালই হয়েছে এটা মনে হয় আল্লাহরই ইচ্ছা আমি দ্বিতীয়বার যখন ক্ষমতায় আসি তখন এই মসজিদের কাজ সম্পন্ন করতে পারি।’
তিনি বলেন, ‘আল্লাহর কাছে আমি শুধু এই টুকুই চাই যে, আল্লাহ আমাকে যে শক্তি দিয়েছেন, আমি বাংলাদেশের জনগণের সেবা করে যেতে চাই আর এই বাংলাদেশকে একটা সুন্দর দেশ হিসেবে গড়ে তুলে রেখে যেতে চাই।’
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আপনাদের দোয়া চাই সামনে নির্বাচন আছে। আল্লাহ রাব্বুল আলামিন যদি ইচ্ছা করেন তাহলে তিনি নিশ্চয়ই আবার বাংলাদেশের জনগণের খেদমত করাবার সুযোগ আমাকে দেবেন। আর যদি না দেন আমার কোন আফসোস থাকবে না। কারণ, আমি সবকিছু আল্লাহর ওপরই ছেড়ে দিয়েছি।’ বাসস
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম