মাস্টারি বিডি ডটকম
রাজশাহী । ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৭ । ২৭ মাঘ ১৪২৩
শীতের বিদায়ঘণ্টা বেজে গেছে। শীতের বিদায়লগ্নে সুস্বাদু ফল আমের কেন্দ্রস্থল হিসেবে পরিচিত রাজশাহী অঞ্চলে গত কয়েক সপ্তাহ ধরে হাজার হাজার আম গাছে মুকুল ধরা শুরু করেছে।
বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, আম ওঠা পর্যন্ত আবহাওয়া যদি অনুকূলে থাকে, তবে যেভাবে গাছে গাছে এখন মুকুল দেখা যাচ্ছে, তাতে এ মৌসুমে জনপ্রিয় ফল আমের চমৎকার উৎপাদন হবে।
উদ্যানবিদ মনজুরুল হুদা বলেন, আমের মুকুলের জন্য যে আবহাওয়া দরকার তা এখন পুরোপুরি বিদ্যমান রয়েছে। তাই হাজার হাজার আম গাছে ইতোমধ্যে নয়নজুড়ানো মুকুল দৃশ্যমান হচ্ছে।
তিনি জানান, চাঁপাইনবাবগঞ্জে ইতোমধ্যে শতকরা প্রায় ৫৫ থেকে ৬০ এবং রাজশাহীতে ৬৫ থেকে ৭০ ভাগ গাছে মুকুল ধরেছে। বাকি গাছগুলোতে এ মাসের শেষ দিকে মুকুল ধরবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের (ডিএই) উপ-পরিচালক দেবদুলাল ঢালি বলেন, বর্তমানে কৃষকরা সর্বত্রই আম চাষ সফল করার জন্য যত্নবান রয়েছেন এবং এ ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন।
তিনি বলেন, কৃষকরা মাঠ পর্যায়ে কর্মরত কৃষি কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছেন। তারা আমের ভালো গঠন ও উৎপাদনের জন্য পোকামাকড়ের আক্রমণ থেকে রক্ষার ব্যাপারে কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ নিচ্ছেন।

বর্তমান অবস্থায় আম গাছের যে অবস্থান তাতে এই মৌসুমে ফলটির প্রচুর উৎপাদন আশা করছেন কৃষক ও কৃষি কর্মকর্তারা।
ফল গবেষণা কেন্দ্রের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আলিম উদ্দিন জানান, জানুয়ারির শেষ থেকে আম গাছে মুকুল ধরা শুরু হয়েছে এবং শীত পুরোপুরি শেষ হওয়ার সময় মধ্য মার্চ পর্যন্ত আমের মুকুল ধরবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জস্থ উপজেলার আম চাষি নুরুল ইসলাম বলেন, শীত কাল শেষ হওয়ার আগেই এখানকার আম বাগান গুলোতে আমের মুকুল ধরা শেষ হয়ে যাবে।
ড. আলিম জানান, এ অঞ্চলে প্রায় ২৩ হাজার হেক্টর জমিতে বিভিন্ন বয়সী প্রায় ৩৫ লাখ আম গাছ রয়েছে। গত কয়েক বছর যাবৎ এখানে আম উৎপাদনের গাছের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
উল্লেখ্য, আম উত্তরাঞ্চলের প্রধান অর্থকরী ফসল, যা রাজশাহী ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার সার্বিক অর্থনীতিকে চাঁঙ্গা করছে।
প্রতি বছর এ অঞ্চলে আমের চাষ বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং প্রচলিত ও জনপ্রিয় আমের পাশাপাশি আম্রপালির মতো হাইব্রিড জাতের আম চাষ করে বাগানের মালিকরা প্রচুর লাভবান হচ্ছেন।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আমের উৎপাদন বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক ভাবে ভালো লাভবান হওয়ায় এখানকার আমচাষি ও গ্রামবাসীরা আমচাষে আরো আগ্রহী হয়ে উঠেছেন।
এ অঞ্চলের সর্বত্রই আম চাষ সম্প্রসারণ হওয়ায় এখানকার ব্যাপক সংখ্যক মানুষ প্রতিবছর আম গাছের পরিচর্যা থেকে শুরু করে আমের বাজারজাতকরণ পর্যন্ত বিভিন্ন কাজে জড়িত হচ্ছেন।
এ অঞ্চলে দীর্ঘদিন যাবৎ সুস্বাদু গোপালভোগ, ল্যাংড়া, ফজলি, খিরসাপাত, মোহনভোগ, লক্ষ্মণাসহ শতাধিক জাতের আম উৎপাদন হয়ে আসছে।
সূত্র : বাসস
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম