মাস্টারি বিডি ডটকম
ঢাকা । ২৮ জুলাই ২০১৭ । ১৩ শ্রাবণ ১৪২৪
রাজধানী ঢাকার ফুটপাতগুলোর মতো যাত্রীছাউনিগুলোও হকার, ভিখিরি, দুর্জন, দুষ্কৃতিকারী, ঠগ, প্রতারক, নেড়ি কুকুর ও ভাসমান যৌনকর্মীদের দখলে চলে গেছে। ফলে যে উদ্দেশ্যে এই ছাউনিগুলো নির্মিত হয়েছে তা পুরোপুরিই বিঘ্নিত হচ্ছে। অর্থাৎ যাত্রীরা আর সেগুলো ব্যবহার করতে পারছে না। তার কিছু বাস্তব চিত্র তুলে ধরা হলো-
শিশু একাডেমীর সামনের যাত্রীছাউনির একাংশ দখল করে বসানো হয়েছে চায়ের দোকান। নির্বিঘ্নে সেখানে দোকান চালানো থেকে শুরু করে ভবঘুরেদের নিশ্চিন্তে ঘুমের জায়গা হয়েছে। কুকুরও বিশ্রামের জন্য বেছে নেয় একই স্থান। ভাঙাচোরা তো আছেই। রাজধানীর যাত্রীছাউনিগুলোর অধিকাংশরই এরকম করুণদশা। পারতপক্ষে কেউ ব্যবহার করতে চান না এই যাত্রীছাউনি।

প্রেসক্লাবের ছাউনিতে কাপড় শুকাতে দেওয়া হয়েছে। সেখানেই আবার পানির জার রাখা আছে। গত বছরের আগস্ট ও এ বছরের মার্চে জাতীয় দৈনিকে (প্রথম আলো) যাত্রীছাউনি নিয়ে দুটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। তখন আধুনিক ছাউনি নির্মাণের কথা বলা হয় দুই সিটি করপোরেশন থেকেই। কিন্তু ছাউনিগুলো এখনো একই অবস্থায় আছে।
কলাবাগানে পরপর তিনটি যাত্রী ছাউনি। সব কটিই বেহাল। একটিতে ভবঘুরে ঘুমাচ্ছে। গত কয়েক দিনে রাজধানীর ধানমন্ডি, মিরপুর সড়ক, মোহাম্মদপুর, আগারগাঁও, শাহবাগ, প্রেসক্লাব এলাকা ঘুরে দেখা যায়, যাত্রীছাউনিগুলো প্রায় ব্যবহারের অনুপযোগী। মিরপুর সড়কের কলাবাগান মাঠের সামনে পরপর তিনটি ছাউনি। একটিতে ওপর থেকে টিনের পাত অর্ধেক খুলে ঝুলে আছে। এর সামনের একটিতে বসার বেঞ্চ অর্ধেক ভাঙা। তাতে এক ভবঘুরে ঘুমাচ্ছে। আরেকটির বসার বেঞ্চ বস্তা দিয়ে জিনিসপত্র ঢেকে রাখা। নিচে কুকুর ঘুমাচ্ছে। তিনটিই নোংরা। বাসের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে থাকা কারো ওই ছাউনিতে গিয়ে বসার কোনো ইচ্ছে হবে না। এর চেয়ে দাঁড়িয়ে থাকা ভালো।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগের সামনের যাত্রীছাউনিতে ফটোকপির ব্যবসা। শ্যামলী শিশুমেলা থেকে আগারগাঁওয়ের দিকে যাওয়ার সড়কে কয়েকটি যাত্রীছাউনি আছে। অধিকাংশই বিভিন্ন দোকানের দখলে। ফুল-ফলের দোকান, খাবার হোটেল বসানো হয়েছে ছাউনিগুলোয়। মোহাম্মদপুর বাসস্ট্যান্ডের ছাউনি ভাঙা। মোহাম্মদপুর থানার পাশেই একটি ছাউনিতে ড্রাইভিং স্কুল। পাশেই ফাস্ট ফুডের দোকান। ছাউনিতে দোকান করা প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করলে দোকানের লোকজন কথা বলতে রাজি হননি।
শাহবাগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের ছাউনিতে ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতারা বসে থাকেন। সাতমসজিদ সড়ক থেকে ধানমন্ডি ২৭ নম্বরের দিকে যেতে মোড়ের ছাউনির বেঞ্চ ভাঙা। পেছনেই চায়ের দোকান। সাতমসজিদ সড়কের শংকরের ছাউনিতে ফলের দোকান। ধানমন্ডি ২ নম্বরে কোনো ছাউনি আছে কি না, বোঝার উপায় নেই। চা, শিঙাড়া-পুরির দোকান।

ফার্মগেটে তেজগাঁও সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের সামনের ছাউনির ওপরের অংশ ফাঁকা। সঙ্গের টিনের পাতগুলোও খুলে পড়েছে। শাহবাগে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের ছাউনিতে ভ্রাম্যমাণ খাবার বিক্রেতারা দাঁড়িয়ে থাকেন। জায়গাটি বেশ নোংরা। শিশু একাডেমীর সামনের ছাউনিতে চায়ের দোকান। বসার কোনো অবস্থাই নেই। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বহির্বিভাগের সামনের যাত্রীছাউনিতে ফটোকপির দোকান। ছাউনিগুলোর সবই স্যাঁতসেঁতে। মাথার ওপরের ছাউনিতে শেওলা জমা।

ফার্মগেটে এই ছাউনির অবস্থা খুবই করুণ। পুরোটাই ভেঙে পড়েছে। প্রেসক্লাবের যাত্রীছাউনিতে কাপড় শুকাতে দেওয়া। এ ছাড়া পানির বড় বড় জার রাখা। ছাউনির পাশে দাঁড়িয়ে থাকা মোস্তফা ইকবাল বলেন, ‘ছাউনি ঘুমের ও আড্ডার জায়গা। যাত্রীর জন্য না। একদম ঠেকায় না পড়লে কোনো যাত্রী দাঁড়ায় না।’
ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘ছাউনি নতুন করে বানানো শুরু হয়েছে। আনন্দ সিনেমা হলের সামনে কাজ শুরু হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, চার হাজার বাস নামানো হবে। এই বাসগুলোর জন্য বাস বে ও স্ট্যান্ড ঠিক করে ছাউনি নির্মাণের পরিকল্পনা আছে।

যোগাযোগের চেষ্টা করেও যাত্রীছাউনির দুরবস্থা নিয়ে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
সূত্র : প্রথম আলো
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম