মাস্টারি বিডি । শান্তা ইসলাম
ফিচার বিভাগ । ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮ । ০৩ পৌষ ১৪২৫
মানুষ মানবিক হলে তার সঙ্গে অন্য মানুষের গভীর সম্পর্ক তৈরি হয়। এমনকি ফুল পাখি মাছসহ অন্য প্রাণীদেরও সম্পর্ক সৃষ্টি হতে পারে।
চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলা শহরের বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মানুষে পাখিতে রকমই একটি সখ্য গড়ে উঠেছে। উপজেলা বাসস্ট্যান্ডে প্রতিদিন সকালে পাখিদের মেলা বসে। কয়েকজন হোটেল ব্যবসায়ীর দেওয়া খাবার খেতে ৫ শতাধিক শালিক পাখি ভোরে হাজির হয় বাসস্ট্যান্ড চত্বরে। শালিকের সাথে কিছু কাকও আসে। পরোটা ও পারুটির টুকরো, ময়দার খামির ও বাসি ভাত-তরকারী খাওয়ার পর এরা উড়ে যায় তাদের গন্তব্যে। সকালে হাঁটতে বেরোন মানুষের কাছে এ দৃশ্য অত্যন্ত পরিচিত এবং নিত্যদিনকার। খাদ্য খেতে আসা পাখিদের কেউ বিরক্ত না করায় প্রতিদিন পাখিদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে বলে জানা যায়।
জীবননগর বাজারের আদি বাগাট দধি মিষ্টান্ন ভাণ্ডারের স্বত্বাধিকারী নিরঞ্জন সিকদার জানান, প্রথম দিকে অনেকটা শখের বসে শালিক পাখিকে তিনি হোটেলের বাসি পরোটা ছিঁড়ে ছিঁড়ে খেতে দিতেন। কিছু দিন পর লক্ষ করলেন খাবার খেতে আসা পাখির সংখ্যা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তার দেখাদেখি বাজারের আরও কয়েকজন হোটেল ব্যবসায়ীও পাখিদের খাবার দেওয়া শুরু করেন। দীর্ঘ দিন ধরে তিনি এটি চলমান রেখেছেন। এখন প্রতিদিন ভোরে প্রায় পাঁচ শতাধিকেরও বেশী শালিক পাখি খাবার খেতে বাসস্ট্যান্ডে হাজির হয়। খাবার খাওয়ার জন্য তারা বৈদ্যুতিক খুঁটির তার, দোকানের চালার উপর ও রাস্তার পাশে অবস্থান গ্রহণ করে। পাখির কিচির মিচির শব্দে এ সময় বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পাখিদের জমজমাট মেলা বসে। এ যেন পাখির অভয়ারণ্য।
নিরঞ্জন সিকদার আরো জানান, ভোরে হোটেলে এসেই তিনি পাখিদের খাদ্যের জন্য বাসি পরোটা কেটে টুকরো টুকরো করেন। পরোটা না থাকলে ময়দার খামির ছোট ছোট বল বানিয়ে কিংবা পাউরুটি ছিড়ে টুকরো বানান। এসময় ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি উড়ে এসে তার হোটেলের সামনে বসে। ঠিক ভোর সোয়া ৬ টার দিকে তিনি খাবার দেওয়া শুরু করেন। এ কাজে করে মানসিকভাবে তিনি তৃপ্তি পান বলে জানান।
সিরাজ হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের সত্ত্বাধিকারী রফিকুল ইসলাম রফি জানান, তার হোটেলের সামনে খাবার খেতে শালিক পাখির পাশাপাশি কিছু কাকও নিয়মিত আসে। বাজারে মানুষের ভিড় বৃদ্ধি পাওয়ার আগেই এরা খাবার খেয়ে উড়ে যায়। কেউ এ পাখিদের বিরক্ত করে না বলে দিন দিন পাখির সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে এলাকায় পাখির সংখ্যা বৃদ্ধিসহ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম