মাস্টারি বিডি ডটকম
ঢাকা । ১৫ অক্টোবর ২০১৭ । ৩০ আশ্বিন ১৪২৪
আজ ১৫ অক্টোবর (রোববার) বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস। বরাবরের মতো এ বছরও দিবসটি যথাযথ মর্যাদায় পালিত হয়েছে।
সাদাছড়ি বহনকারী দৃষ্টি প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে নিরাপদে পথ চলতে সাহায্য করার উদ্দেশ্যে সচেতনতা বাড়ানোই এই দিবসের লক্ষ্য।
‘সাদাছড়ি নিশ্চিত ব্যবহার, এই দিবসের অঙ্গিকার’ এই আহবানে একীভূত সমাজ গড়ার লক্ষ্যে বাংলাদেশের ৪০ লাখ দৃষ্টি প্রতিবন্ধী জনগোষ্ঠিকে সমাজের মূল স্রোতে নিয়ে আসার প্রয়াসে এই দিবসটি উদযাপিত হয়ে থাকে।
দিবসটি উপলক্ষে সামাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, সমাজসেবা অধিদপ্তর, জাতীয় প্রতিবন্ধী উন্নয়ন ফাউন্ডেশনসহ বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা বিভিন্ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে। দিবসটি উপলক্ষে আজ সকাল ১০ টায় বেতার ভবনের সামনে থেকে শোভাযাত্রা ও বেলা ১১ টায় সামাজসেবা অধিদপ্তরে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এ ছাড়াও বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা সচেতনামূলক অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করে।
মূলত সাদাছড়ি হচ্ছে একটি লাঠি, যেটা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের (অন্ধ) নিরাপত্তার প্রতীক। কারণ, এটি প্রয়োজনীয় চলাচল গাইড, সহায়ক ও নিরাপত্তা উপকরণ হিসেবে বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত হয়। দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীরা স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার জন্য প্রায় ১০০ বছর ধরে এই সাদাছড়ি ব্যবহার করে আসছে।
সাদাছড়ি কেউ ব্যবহার করলে অন্য মানুষ সহজেই বুঝতে পারে, সে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। তখন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে রাস্তা পারাপারের সময় সহযোগিতার জন্য সর্বস্তরের মানুষ স্বউদ্যোগে এগিয়ে আসে। শুধু তাই নয়, সাদাছড়ি ছাড়া দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের একা চলাফেরা করা দুঃসাধ্য ব্যাপার। সাদাছড়ি ব্যবহার করলে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের সহযোগী হিসেবে আরেকজন লোকের প্রয়োজন হয় না। এতে একজন সহযোগী ব্যক্তির শ্রম, সময়, অর্থ বাঁচে।

১৯৫৯ সালের ৪ অক্টোবর আন্তর্জাতিক অন্ধ সংস্থার উদ্যোগে প্রথম বিশ্ব অন্ধ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয় তৎকালীন সিংহলে (বর্তমান শ্রীলংকা)। এই সম্মেলনে ১৫ অক্টোবরকে বিশ্ব সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
সেখানে পূর্ব পাকিস্তানের পক্ষে প্রতিনিধি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন শওকাত হোসেন ভূঁইয়া, অ্যাডভোকেট খাদেমুল ইসলাম চৌধুরী, হাশমী ও মনসুর চৌধুরী নামের ৪ জন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। এরপর ১৯৬৩ সালের ৬ জুলাই ন্যাশনাল ফেডারেশন অব দ্য ব্লাইন্ডের এক কনভেনশন থেকে প্রতিবছর ১৫ অক্টোবরকে সাদাছড়ি নিরাপত্তা দিবস হিসেবে ঘোষণা করার জন্য একইসঙ্গে ৫০টি রাষ্ট্রের কাছে আহ্বান জানানো হয়।
জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ ১৯৭৫ সালের ৯ ডিসেম্বর সাদাছড়ি নিরাপত্তা আইন অনুমোদন ও কার্যকর করার অনুকূলে প্রস্তাব পাস করে। আন্তর্জাতিক শ্রমসংস্থা (আইএলও) একই বছর তার ৬০তম অধিবেশনে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের বৃত্তিমূলক পুনর্বাসন আইন অনুমোদন করে। এরপর থেকে সাদাছড়ির ব্যবহার ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকে।
প্রসঙ্গত, বর্তমানে দেশে প্রায় ৪৮ লাখ দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী আছে। অপুষ্টি, টাইফয়েড, আমাশয়, ডায়রিয়া, পোলিও, এসিড নিক্ষেপসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনায় দিন দিন দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে।-সংগৃহীত
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম