মাস্টারি বিডি ডটকম
ঢাকা । ২৯ ডিসেম্বর ২০১৬ । ১৫ পৌষ ১৪২৩
দেশের ফুটবলে কেমন গেল ২০১৬? নিশ্চয়ই সুখকর নয়। খেরোখাতায় চোখ রেখে একবাক্যে বলে দেওয়া যাবে, এমন বছর যেন আর না আসে ফুটবলে। কিন্তু একটু চোখ ঘোরালেই দেখা মিলবে অন্ধকার। বরং ফুটবলে কৃষ্ণারা জ্বালাতে পেরেছেন মৃদু আলো। ফুটবলের অন্ধকার ঘরে আলোর মশাল নিয়ে প্রবেশ করেছে কৃষ্ণা, সানজিদারা। ঘরের মাঠে এএফসি অনূর্ধ্ব ১৬ এশিয়ান বাছাইপর্বে হেসেখেলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে বাংলাদেশ।
নারী ফুটবলে পুরো বছরই যেন সাফল্যের সোনারোদ মাখা। মে মাসে তাজিকিস্তানে অনুষ্ঠিত অনূর্ধ্ব ১৪ আঞ্চলিক কিশোরী ফুটবলে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশে ফিরেছে বাংলাদেশের কিশোরীরা। টুর্নামেন্টে পাওয়া গেছে নারী ফুটবলের যে কোনো আসরে প্রথমবারের মতো ভারতের বিপক্ষে জয়। ফাইনাল মঞ্চেই ভারতকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছিল তহুরারা। এ ছাড়া স্বাগতিক তাজিকিস্তানকে হারিয়েছিল ৯-১ গোলে।
টুর্নামেন্টের ৪ ম্যাচে প্রতিপক্ষের জালে বাংলাদেশের গোলসংখ্যা ২৫। এএফসি পশ্চিম, পূর্ব ও আসিয়ান জোনের কোনো দেশই বাংলাদেশের চেয়ে বেশি গোল করতে পারেনি। সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছিলেন তহুরা (১০)। নারী ফুটবল দিয়ে কোনো দেশের ফুটবলের মানদণ্ড নির্ণয় না করা হলেও ফুটবলে ব্যর্থতার মিছিলে আশার আলো দেখিয়েছে মেয়েরাই। অথচ মামুনুলদের ব্যর্থতার ষোলোকলা দেখেছে দেশবাসী।

বছরের শুরুতে ব্যর্থতার যাত্রা বজায় ছিল বছরজুড়েই। চূড়ান্ত বিপর্যয়ের শেষ হয়েছে ভুটান ট্র্যাজেডির মধ্য দিয়ে। যে ভুটানের কাছে কোনোদিন হারের রেকর্ড ছিল না বাংলাদেশের, সেই ভুটানের বিপক্ষেই থিম্পুতে ৩-১ গোলে হেরে এশিয়ান কাপ বাছাইপর্ব থেকে ছিটকে গেছে বাংলাদেশ। এর আগে ঘরের মাঠে গোলশূন্য ড্র। ভুটানের বিপক্ষে এ পরাজয়টাই বুঝিয়ে দিয়েছে বাংলাদেশের ফুটবলের মানদণ্ডটা এখন কোথায়। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে জর্ডানের কাছে ৮-০ গোলে হেরেছে বাংলাদেশ। বড় এই ক্ষত শুকানোর আগেই তাজিকিস্তানের বিপক্ষে পুনরায় ৫ গোলের হার। উপরন্তু মালেতে মালদ্বীপের বিপক্ষে আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে ৫ গোল হজম করে বাংলাদেশ। সবকিছু মিলিয়ে ২০১৬ সালে ১১টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলে বাংলাদেশ। এর মধ্যে সাতটিতে হার ও তিনটি ড্র। একমাত্র জয়টি বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপে শ্রীলংকার বিপক্ষে ৪-২ গোলে। এ ছাড়া গৌহাটি এসএ গেমসে স্বর্ণ খুইয়ে ব্রোঞ্জ নিয়ে দেশে ফেরে ফুটবলাররা। এ তো গেলো আন্তর্জাতিক ফুটবলের গল্প। এখন দেখা যাক ঘরোয়া ফুটবলের সাফল্য ব্যর্থতার চিত্র-
২০১৬-এর এপ্রিলে মাঠে গড়ায় ২০১৫-১৬ মৌসুমের ফুটবল। দিন-সূচি চূড়ান্ত করে বারবার পেছানোর জন্যই ২০১৬ সালে এএফসি কাপে খেলতে হয় ২০১৩-১৪ সালের লীগ চ্যাম্পিয়ন শেখ জামালকে। এএফসি কাপের এ আসরে শোচনীয়ভাবে ব্যর্থ হয় বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নরা। একই বছর প্লে-অফে ভুটানের টারটন এএফসির বিপক্ষে হেরেছে শেখ রাসেল ক্রীড়াচক্র।
২০১৬ সালে ফুটবলে সুনামির মতো আবির্ভাব হয় চট্টগ্রাম আবাহনীর। অতিথি খেলোয়াড়দের দলে টেনে শেখ কামাল আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট চ্যাম্পিয়ন হয়ে নিজেদের উপস্থিতি জানান দেয় তারা। পরবর্তী সময়ে দল বদলের বাজারে টাকার থলে নিয়ে নেমে সব দল ভেঙে নিজেদের ঘর সাজায়। মৌসুমের প্রথম টুর্নামেন্ট স্বাধীনতা কাপও চ্যাম্পিয়ন হয় চট্টলার দলটি। কিন্তু এর পরই খেই হারিয়ে ফেলে। ফেডারেশন কাপ ও প্রিমিয়ার লীগ জয় করে জর্জ কোটানের আবাহনী লিমিটেড বুঝিয়ে দেয়, চমক আর সাফল্যের মধ্যে পার্থক্যটা বিস্তর। যদিও আবাহনীর সাফল্যের মুকুটে দাগ ফেলে দিয়েছে পাতানো ম্যাচের অভিযোগ।
এ তো গেলো ফুটবলের সার্বিক চিত্র। এখন দেখা যাক এর কর্তাব্যক্তিদের কর্মকান্ড।
বাফুফে নির্বাচনকে ঘিরে দু’পক্ষের সৃষ্ট অচলাবস্থার মধ্যে বাংলাদেশের ফুটবলের কিংবদন্তি কাজী সালাউদ্দিন টানা তৃতীয়বারের মতো বাফুফে সভাপতি নির্বাচিত হন। সিনিয়র সহসভাপতি পদে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন সালাম মুর্শেদী। সহসভাপতি পদে ফের এসেছেন কাজী নাবিল আহমেদ, বাদল রায় ও তাবিথ আওয়াল। কিন্তু ফুটবলকে ঘিরে তাদের কর্মকান্ড চোখে পড়ার মত নয়।
তবে আশার কথা হলো, বাফুফে ৪ বছরের ক্যালেন্ডার ঘোষণা করেছে। অন্ধকার থেকে বের হয়ে আসার জন্য দেরিতে হলেও আলোর রাস্তায় হাঁটতে চাচ্ছে বাফুফে।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম