Home / প্রচ্ছদ / হারিয়ে যাওয়া প্রিয়মুখ: বর্ষপরিক্রমা ২০১৬
news2016

হারিয়ে যাওয়া প্রিয়মুখ: বর্ষপরিক্রমা ২০১৬

মাস্টারি বিডি ডটকম
ঢাকা । ২৯ ডিসেম্বর ২০১৬ । ১৫ পৌষ ১৪২৩

parvin-sultana-diti

অনেক প্রিয়মুখ হারিয়ে গেছে ২০১৬ এর পরিক্রমায়।  ২০ মার্চ আমরা হারাই প্রিয়মুখ  অভিনেত্রী পারভীন সুলতানা দিতিকে।তিনি ১৯৬৫ সালের ৩১ মার্চ নারায়ণগঞ্জ জেলার সোনারগাঁওয়ে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলা থেকেই গান ও অভিনয়ের প্রতি দিতির ছিল দুনির্বার আকর্ষণ। সেই সূত্রেই ১৯৮৪ সালে নতুন মুখের সন্ধানের মাধ্যমে দেশীয় চলচ্চিত্রে দিতির সম্পৃক্ততা ঘটে। তার অভিনীত প্রথম চলচ্চিত্র উদয়ন চৌধুরী পরিচালিত ‘ডাক দিয়ে যাই’। কিন্তু ছবিটি শেষ পর্যন্ত মুক্তি পায়নি। দিতি অভিনীত মুক্তিপ্রাপ্ত প্রথম চলচ্চিত্র ছিল ‘আমিই ওস্তাদ’। ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন আজমল হুদা মিঠু। এরপর দিতি দুই শতাধিক ছবিতে কাজ করেছেন।

এই হারানোর তালিকায় যুক্ত হয়েছেন চিত্র পরিচালক খালিদ মাহমুদ মিঠু।৭ মার্চ নিজ বাসার সামনে একটি গাছের ডালের নিচে চাপা পড়ে তার মৃত্যু হয়। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৫ বছর। চিত্রশিল্পী কনকচাঁপা চাকমা তার স্ত্রী। আর্য শ্রেষ্ঠ ও শিরোপা পূর্ণা নামে দুই সন্তানের জনক ছিলেন তিনি।
11082479_10152669626946512_8235945542356782749_n-696x464
খালিদ মাহমুদ মিঠু দেশের স্বনামধন্য চলচ্চিত্রকার ও চিত্রশিল্পী। ১৯৬০ সালে তিনি জন্ম গ্রহণ করেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা ইনস্টিটিউট থেকে ১৯৮৬ সালে এমএফএ করেন। খালিদ মাহমুদ মিঠু পরিচালিত প্রথম ছবি ‘গহীনে শব্দ’। প্রথম ছবিই তাকে এনে দিয়েছিলো শ্রেষ্ঠ পরিচালক হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার প্রাপ্তির সম্মান। ছবিটি শ্রেষ্ঠ পরিচারলকসহ চারটি ক্যাটাগরিতে ২০১০ সালের জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করে।

8482_e1
ঢাকাই চলচ্চিত্রের স্বনামধন্য নির্মাতা শহিদুল ইসলাম খোকন মারা যান গেল ৪ এপ্রিল।  শহিদুল ইসলাম খোকন পরিচালিত উল্লেখ্যযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে- ‘ঘাতক’, ‘পালাবি কোথায়’, ‘লাল সবুজ’, ‘ম্যাডাম ফুলি’, ‘ভণ্ড’ ইত্যাদি। তার প্রথম পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘রক্তের বন্দি’। এছাড়া তিনি ছিলেন চলচ্চিত্র পরিচালক সমিতির নেতা।

২২ আগস্ট না ফেরার দেশে পাড়ি জমান বরেণ্য অভিনেতা ও মুক্তিযোদ্ধা ফরিদ আলী। ফরিদ আলী ছিলেন বাংলাদেশ টেলিভিশনের প্রথম নাটকের শিল্পী এবং তৃতীয় নাটকের নাট্যকার। প্রয়াণের কয়েক মাস আগে এই অভিনেতার চিকিৎসার জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ব্যক্তিগতভাবে হাত বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। তার নির্দেশেই হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে তার চিকিৎসা হয়েছিল। অভিনেতা ফরিদ আলী একাডেমিক শিক্ষায় তেমন অগ্রসর না হয়েও অভিনয় জগতে দেখিয়েছেন পারদর্শিতা। কৌতুক অভিনয়ে তিনি দর্শকদের মনে এখনও অনবদ্য। বিশেষ করে ‘টাকা দেন দুবাই যাব, বাংলাদেশে থাকবো না’ এই সংলাপটির সাথে যারা পরিচিত তারা এক বাক্যেই উচ্চারণ করবেন অভিনেতা ফরিদ আলীর নাম। শুধু অভিনয় নয়, নাটক লেখা ও নির্দেশনায়ও সিদ্ধহস্ত ছিলেন এই শিল্পী। শহীদুল আমীনের লেখা ‘কনে দেখা’ নাটকে একটি মাত্র নারী চরিত্রে অভিনয় করে ১৯৬২ সালে তিনি অভিনয়ে যাত্রা শুরু করেন। অসংখ্য মঞ্চ নাটকে তিনি অভিনয় করেছেন।
28484_forid
শহীদ বুদ্ধিজীবী অধ্যাপক মুনীর চৌধুরীর লেখা ‘একতলা দোতলা’ নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে ১৯৬৪ সালে তিনি প্রথম টিভিতে অভিনয় করেন। তার নিজের লেখা প্রথম টিভি নাটক ‘নবজন্ম’। ফরিদ আলীর চলচ্চিত্রে পদার্পণ ১৯৬৬ সালে আমজাদ হোসেনের ‘ধারাপাত’ ছবিতে অভিনয়ের মাধ্যমে। তখন থেকে একাধারে বহু ছবিতে তিনি অভিনয় করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য জীবন তৃষ্ণা, স্লোগান, চান্দা, দাগ, অধিকার ইত্যাদি।

সব্যসাচী লেখক সৈয়দ শামসুল হক চলতি বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর চিরবিদায় নেন পৃথিবী থেকে। বাংলা সাহিত্য জগতে সৈয়দ তার পরিচয় ‘সব্যসাচী লেখক’ হিসেবে। দীর্ঘ সাহিত্য জীবনে তিনি তার মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন কবিতা, গল্প, উপন্যাস এবং নাটকসহ শিল্প-সাহিত্যের নানা অঙ্গনে। চলচ্চিত্রেও তিনি ছিলেন শ্রদ্ধাভাজন মানুষ। তার হাত ধরে বাংলা চলচ্চিত্র পেয়েছে ‘সুতরাং’, ‘মাটির ময়না’, ‘ময়নামতি’, ‘বড় ভাল লোক ছিল’, ‘তোমার আমার ঠিকানা’, ‘নতুন দিগন্ত’, ‘ক খ গ ঘ ঙ’, ‘গেরিলা’র মতো বিখ্যাত সব চলচ্চিত্র। এই ছবিগুলোর চিত্রনাট্য লিখেছিলেন সৈয়দ হক। সম্ভবত ১৯৬৪ সালে মুক্তি পাওয়া সুভাষ দত্তের পরিচালনায় ‘সুতরাং’ চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য লেখার মধ্য দিয়েই চিত্রনাট্যকার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন তিনি।
sayed-samsul-haque-purbo-po
‘সুতরাং’ ছবিতে তার বেশ কিছু গান জনপ্রিয়তা পায়। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য, ‘এই যে আকাশ এই যে বাতাস’, ‘তুমি আসবে বলে, কাছে ডাকবে বলে, ভালোবাসবে বলে শুধু মোরে’ গান দুটি। এর বাইরেও বেশ কিছু কালজয়ী এবং জনপ্রিয় গান লিখে গেছেন কবি। তার মধ্যে চিরকাল সৈয়দ হককে মানুষের হৃদয়ে অমর করে রাখবে ‘বড় ভালো লোক ছিলো’ ছবির ‘হায়রে মানুষ রঙ্গীন ফানুস’ গানটি। মানবজীবনের অবধারিত পরিণতি নিয়ে লেখা এই গানটি এমন কোনো মানুষ নেই যার হৃদয়কে দোলা দেয় না। সৈয়দ হকের কথায় অবিস্মরণীয় এই গানটির সুর করেছিলেন আলম খান এবং গেয়েছিলেন এন্ড্রু কিশোর।
একসময় মানুষের মুখে মুখে ছিলো ‘এমন মজা হয় না, গায়ে সোনার গয়না, বুবু মনির বিয়ে হবে বাজবে কত বাজনা।’ দর্শক শ্রোতাদের হৃদয়ে গেঁথে থাকা আরো অনেক গানের মধ্যে আছে ‘একই অঙ্গে এত রূপ’ চলচ্চিত্রের ‘জানি না সে হৃদয়ে কখন এসেছে/ প্রাণের মাঝে দোলা দিয়েছে’, ‘আয়না ও অবশিষ্ট’ ছবিতে ফেরদৌসী রহমানের কণ্ঠে ‘যার ছায়া পড়েছে, মনেরও আয়নাতে’, ‘ময়নামতি’ ছবির ‘অনেক সাধের ময়না আমার বাঁধন কেটে যায়’, ‘আশীর্বাদ’ চলচ্চিত্রের ‘চাঁদের সাথে আমি দেব না তোমার তুলনা’। আরো বেশ কিছু গানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য- ‘নদী বাঁকা জানি, চাঁদ বাঁকা জানি’, ‘তোরা দেখ দেখ দেখরে চাইয়া, রাস্তা দিয়া হাইটা চলে রাস্তা হারাইয়া’, ‘আমি চক্ষু দিয়া দেখতাছিলাম জগৎ রঙ্গিলা’, ‘চাম্বেলিরও তেল দিয়া কেশ বান্ধিয়া’, ‘পাগল পাগল মানুষগুলো পাগল সারা দুনিয়া, কেহ পাগল রূপ দেখিয়া, কেহ পাগল শুনিয়া’ ইত্যাদি।

madhu
হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ২৩ নভেম্বর শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন অভিনেতা গোলাম হাবিবুর রহমান মধু। গোলাম হাবিবুর রহমান মধুর জন্ম রাজশাহীতে। মাত্র ১৮ বছর বয়সে মঞ্চে তার অভিনয়ে হাতিখড়ি। ১৯৬২ সালে বেতারে এবং ১৯৬৯ সালে তিনি টেলিভিশনে অভিনয় শুরু করেন। সেই থেকে শেষদিন পর্যন্ত তিনি বেশকিছু জনপ্রিয় নাটক দর্শকদের উপহার দিয়েছেন। অভিনয় করেছেন চলচ্চিত্রেও।

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

29 6 25 2222

ভঙ্গুর অর্থনীতি, দুর্নীতি ও বৈশ্বিক সংকটের মধ্যেই বাজেট প্রণয়ন করেছি : প্রধানমন্ত্রী

সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ১৫আষাঢ় ১৪৩৩ | মাসস প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, ‘জনগণকে সঙ্গে নিয়ে …

Leave a Reply

Your email address will not be published.