মাস্টারি বিডি । আর কে রাজ
বিনোদন । ১২ সেপ্টেম্বর ২০১৮ । ২৮ ভাদ্র ১৪২৫
উপমহাদেশের প্রখ্যাত মরমী সাধক শাহ আবদুল করিমের নবম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০০৯ সালের এই দিনে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। তিনি চলে গেছেন কিন্তু রেখে গেছেন এক সৃষ্টিশীল কর্মজীবন।
শাহ আবদুল করিম ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাই থানার উজানধল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবার নাম ইব্রাহীম আলী ও মায়ের নাম নাইওরজান। সুনামগঞ্জের উজানধলগ্রাম আর কালনী নদীর ঢেউয়ের সঙ্গে বেড়ে ওঠা তার। দারিদ্র্য ও জীবন সংগ্রামের মাঝে বড় হওয়া শাহ আবদুল করিমের সংগীত সাধনার শুরু শৈশবে। তিনি গানের অনুপ্রেরণা পেয়েছেন প্রখ্যাত বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ, পাঞ্জু শাহ এবং দুদ্দু শাহর দর্শন থেকে।

তার গানে প্রেরণা যুগিয়েছেন স্ত্রী আফতাবুন্নেসা, যাকে তিনি ভালোবেসে সরলা নামে ডাকতেন। আবদুল করিম আধ্যাত্মিক ও বাউল গানের দীক্ষা লাভ করেছেন কামাল উদ্দীন, সাধক রশীদ উদ্দীন, শাহ ইব্রাহীম মাস্তান বকশের কাছ থেকে। শরিয়তি, মারফতি, নবুয়্যতসহ সব ধরনের বাউল গান এবং গানের অন্যান্য শাখার চর্চাও করেছেন তিনি।
তার গান গ্রামের খেটে খাওয়া মানুষ থেকে শুরু করে শহরের অভিজাত মানুষের কাছে সমান জনপ্রিয়। এই মরমি সাধক প্রায় দেড় সহস্রাধিক গান লিখেছেন এবং সুরারোপ করেছেন।
শাহ আব্দুল করিম ২০০১ সালে একুশে পদক লাভ করেন। এছাড়া দ্বিতীয় সিটিসেল-চ্যানেল আই মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস অনুষ্ঠানে এই শিল্পীকে আজীবন সম্মাননায় ভূষিত করা হয়। ২০০০ সালে কথা সাহিত্যিক আবদুর রউফ চৌধুরী পদক পান তিনি। শাহ আবদুল করিমের উল্লেখযোগ্য গানের মধ্যে রয়েছে- বন্দে মায়া লাগাইছে, আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম, গাড়ি চলে না, আমি কূলহারা কলঙ্কিনী, কোন মেস্তরি নাও বানাইছে, কেন পিরিতি বাড়াইলারে বন্ধু, বসন্ত বাতাসে সইগো, আইলায় না আইলায় নারে বন্ধু, গান গাই আমার মনরে বুঝাই, নতুন প্রেমে মন মজাইয়া, সখী কুঞ্জ সাজাও গো প্রভৃতি।

সঙ্গীতসাধক বাউল শাহ আবদুল করিমের এ পর্যন্ত ৭টি গানের বই প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর মৃত্যুর কিছুদিন আগে সিলেট জেলা পরিষদ মিলনায়তনে তাঁর রচনাসমগ্র- অমনিবাস-এর মোড়ক উন্মোচিত হয়। এছাড়াও সুমনকুমার দাশ সম্পাদিত শাহ আব্দুল করিম স্মারকগ্রন্থ প্রকাশিত হয়। এটি প্রকাশ করে অন্বেষা প্রকাশন। এর আগে-পরে অন্বেষা প্রকাশন থেকে শাহ আবদুল করিমকে নিয়ে সুমনকুমার দাশের ‘বাংলা মায়ের ছেলে : শাহ আবদুল করিম জীবনী’, ‘সাক্ষাৎকথায় শাহ আবদুল করিম’, ‘শাহ আবদুল করিম’। এছাড়া উৎস প্রকাশন থেকে একই লেখকের ‘বাউলসম্রাট শাহ আবদুল করিম’, ‘গণগীতিকার শাহ আবদুল করিম’ প্রকাশিত হয়। সর্বশেষ ২০১৬ সালে ঢাকার প্রকাশনাসংস্থা প্রথমা থেকে প্রকাশিত হয় সুমনকুমার দাশের ‘শাহ আবদুল করিম : জীবন ও গান’ বইটি। এ বইটি ইতোমধ্যেই একটি প্রামাণ্য জীবনী হিসেবে বোদ্ধামহলে স্বীকৃতি পেয়েছে। এ বইটিতে শাহ আবদুল করিমের নির্বাচিত বেশ কিছু গানও সংকলিত হয়েছে। শাহ আবদুল করিমের জীবনভিত্তিক প্রথম উপন্যাস সাইমন জাকারিয়া রচিত “কূলহারা কলঙ্কিনী” প্রকাশিত হয়েছে ২০১৭ খ্রিষ্টাব্দে।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম