মাস্টারি বিডি ডটকম । মাহবুব শিমুল
ঢাকা । ২৩ অক্টোবর ২০১৭ । ০৮ কার্তিক ১৪২৪
ইলিশের ডিম ছাড়ার মৌসুম শেষ হলো। নির্বিঘ্নে ডিম ছাড়ার জন্য ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ শিকারে সরকারের নিষেধাজ্ঞা ছিলো। মা ইলিশ সংরক্ষণ, মা ইলিশ রক্ষা ও স্বাচ্ছন্দে ইলিশের ডিম ছাড়ার সুযোগ করে দিতেই এই নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়। আজ ২৩ অক্টোবর থেকে মাছ ধরতে বাধা নেই জেলেদের।
সরকারের নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ায় কক্সবাজার, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, বরগুনা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, শরীয়তপুর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, ঢাকা, মাদারীপুর, ফরিদপুর, রাজবাড়ী, জামালপুর, নারায়ণগঞ্জ, নরসিংদী, মানিকগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, খুলনা, কুষ্টিয়া, রাজশাহী, চাঁদপুর, লক্ষ্মীপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম -এই ২৭ জেলার জেলেরা নদ-নদীতে ইলিশ ধরতে পারবেন।
মৎস্য মন্ত্রণালয় সূত্র মতে, দেশের নদ-নদীর সাত হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকা ইলিশের প্রজননক্ষেত্র। এর মধ্যে চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলার শাহের খালী থেকে হাইতকান্দি পয়েন্ট, ভোলার তজুমুদ্দিন উপজেলার উত্তর তজুমুদ্দিন থেকে পশ্চিম সৈয়দ আওলিয়া পয়েন্ট, পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লতা চাপালি পয়েন্ট এবং কক্সবাজারের কুতুবদিয়া থেকে গণ্ডামারা পয়েন্ট হলো ইলিশের প্রধান প্রজননক্ষেত্র। ভোলা জেলার মনপুরা, ঢলচর, নোয়াখালী জেলার হাতিয়া কালিরচর ও মৌলভীরচরকে ইলিশের বিশেষ প্রজনন এলাকা বিবেচনা করা হয়। গত বছর ১২ অক্টোবর থেকে ২ নভেম্বর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ ধরার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল সরকার। চলতি বছর ১২ দিন এগিয়ে ১ অক্টোবর থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত ইলিশ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এর কারণ সম্পর্কে সূত্র জানায়, আশ্বিনের পূর্ণিমার ওপর নির্ভর করে নিষেধাজ্ঞার মেয়াদ এবছর এগিয়ে আনা হয়।
সূত্রমতে দেশের বিভিন্ন জেলার বিভিন্ন নদীতে ইলিশ ধরা পড়ে। তবে চাঁদপুর, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী, পিরোজপুর হচ্ছে ইলিশ অধ্যুষিত জেলা। এ জেলাগুলোর আশপাশের নদীগুলোকে কেন্দ্র করেই গড়ে তালা হয়েছে ইলিশের অভয়ারণ্য। সাগর থেকে ইলিশের ঝাঁক এসব জেলার আশপাশের নদীগুলোয় এসেই ডিম ছাড়ে। এর মধ্যে পদ্মাসহ চাঁদপুরের মেঘনা, ভোলার তেতুলিয়া, বরিশালের কীর্তনখোলা, পটুয়াখালীর পায়রা, আগুন মুখা, পিরোজপুরের বলেশ্বর এবং সন্ধ্যা নদীর মাছ সবচেয়ে সুস্বাদু।
বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ১০ বছর আগেও দেশের মাত্র ২১টি উপজেলার নদীতে ইলিশ পাওয়া যেত। এখন দেশের ১২৫টি উপজেলার বিভিন্ন নদীতে ইলিশ পাওয়া যায়।
মৎস্য মন্ত্রণালয় সূত্রমতে, ইলিশ মাছ জাতীয় সম্পদ। দেশের মোট মৎস্য উৎপাদনের ১২ শতাংশ আসে ইলিশ থেকে, যার অর্থমূল্য আনুমানিক সাড়ে সাত হাজার কোটি টাকা। জিডিপিতে ইলিশের অবদান এক দশমিক ১৫ শতাংশ। প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ ইলিশ আহরণে সরাসরি নিয়োজিত এবং ২০ থেকে ২৫ লাখ মানুষ ইলিশের পরিবহন, বিক্রয়, জাল ও নৌকা তৈরি, বরফ উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণসহ সংশ্লিষ্ট নানা কাজে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত। তাই ইলিশ রক্ষায় প্রধান প্রজনন মৌসুমে এবছর ১-২২ অক্টোবর পর্যন্ত এই ২২দিন দেশের সর্বত্র ইলিশ মাছ ধরা ও বিক্রি নিষিদ্ধ করে সরকার।
মৎস্য অধিদফতরের সূত্রে ২০১৫-১৬ অর্থবছরে চার লাখ টনের বেশি ইলিশ উৎপাদন হয়। আর চলতি বছরের ইলিশ উৎপাদন সাড়ে চার লাখ টন ছাড়িয়ে যাবে বলে মনে করছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
তথ্যসূত্র: বাংলা ট্রিবিউন।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম