মাস্টারি বিডি ডটকম
ঢাকা । ২৮ নভেম্বর ২০১৬ । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩
প্রশাসনের যোগ্যতম কর্মকর্তা কামাল আবদুল নাসের চৌধুরীকে নিজ দপ্তরের মুখ্য সচিব পদের দায়িত্বে এনেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
অবসরে যাওয়ার এক মাস আগে রোববার তাকে প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব হিসেবে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে আদেশ জারী হয়। এই মন্ত্রণালয়েরই জ্যেষ্ঠ সচিবের দায়িত্বে ছিলেন কামাল চৌধুরী। ডিসেম্বরে তাঁর অবসরে যাবার কথা ছিলো।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এই জ্যেষ্ঠ সচিব এর মাধ্যমে পদোন্নতি পেয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের সমান মর্যাদা পেলেন।
কামালের পূর্বসূরি আবুল কালাম আজাদ আগামী ১ ডিসেম্বর অবসরে যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর আস্থাভাজন এই কর্মকর্তাকে গুরুত্বপূর্ণ কোনো দায়িত্ব দেওয়া হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
২০১৫ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি আবুল কালাম প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিবের দায়িত্ব পান। চাকরির মেয়াদ শেষে একই পদে চুক্তিতে নিয়োগ পেয়েছিলেন তিনি।
১৯৮২ সালের নিয়মিত বিসিএস ব্যাচের কর্মকর্তা কামাল চৌধুরী জনপ্রশাসনের আগে তথ্য ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্ব পালন করেন।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সচিবের দায়িত্ব পালনের সময় ২০১৪ সালের ১৯ মার্চ জ্যেষ্ঠ সচিব হন তিনি।
কামাল চৌধুরীর জন্ম ১৯৫৭ সালের ৩১ ডিসেম্বর কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে। কবিতা লিখে সাহিত্যাঙ্গনে পরিচিত এই কর্মকর্তা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে নৃ-বিজ্ঞানে পিএইচডি অর্জন করেন।
ভাষার ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও অনেক সময় সচিব কামাল চৌধুরীর কাছ থেকে অন্যদের জেনে নিতে বলেন বলে সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে জানান অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। কবি হিসেবে তাঁর সার্থকতা এখানেই।
মন্ত্রিসভা বৈঠকে অনেক সময়ই কামাল চৌধুরী উপস্থিত থাকেন জানিয়ে মুহিত বলেন, মন্ত্রিসভা বৈঠকে যখন কোনো বানান, উচ্চারণ বা শব্দ নিয়ে কোনো সমস্যা হয় তখন আমরা কামাল চৌধুরীকে ডাকি, সে হল ডাক্তার। সে বলে, কোনটা ঠিক কোনটা বেঠিক।
প্রসঙ্গত, কামাল চৌধুরী বাংলাদেশের একজন খ্যাতিমান কবি। কামাল চৌধুরীর প্রথম কাব্যগ্রন্থ মিছিলের সমান বয়সী প্রকাশিত হয় ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দে। এরপর চাকুরী জীবনের ব্যস্ততা তাঁকে কবিতা থেকে কিছুটা দূরে ঠেলে দিয়েছিল। ’৮১ থেকে ’৯০ – টানা নয় বছর কোনো কবিতার বই প্রকাশ করা হয়ে ওঠেনি। এই বন্ধ্যাত্ব কেটে যায় ১৯৯১ খ্রিস্টাব্দে। এ বছর প্রকাশিত হয় কামাল চৌধুরীর দ্বিতীয় কবিতা-সংকলন টানাপোড়েনের দিন । অতঃপর একে একে আরো আটটি কাব্যগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। এই পথ এই কোলাহল (১৯৯৩), এসেছি নিজের ভোরে (১৯৯৫), এই মেঘ বিদ্যুতে ভরা (১৯৯৭), ধূলি ও সাগর দৃশ্য (২০০০), রোদ বৃষ্টি অন্ত্যমিল (২০০৩), হে মাটি পৃথিবীপুত্র (২০০৬), প্রেমের কবিতা (২০০৮) এবং পান্থশালার ঘোড়া (২০১০)। ১৯৯৫-এ তিনি প্রকাশ করেছেন একটি বাছাই সংকলন নির্বাচিত কবিতা । এরই ধারাই ২০১১ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশ করেছেন কবিতাসংকলন । এগারোটি গ্রন্থ থেকে তিন শত নয়টি কবিতা এই গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। এছাড়াও কামাল চৌধুরী ২০০৭-এ প্রকাশ করেন কিশোর কবিতা সংকলন আপন মনের পাঠশালাতে। ১৯৯৫-এ আলী রিয়াজ-এর সঙ্গে যৌথভাবে সম্পাদনা করেছেন সত্তর দশকের কবিদের কবিতা।
তাঁর কবিতার অন্যতম বৈশিষ্ট্য গীতিময়তা। তাঁর অন্যতম কাব্যগ্রন্থ ‘টানাপোড়েনের দিন’ -যাতে তিনি মুক্ত ছন্দে নতুন এক কাব্যভাষার সূত্রপাত করেছেন। ২০১২ সালে তাঁকে কবিতায় গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য বাংলা একাডেমি পুরস্কার প্রদান করা হয়।
সূত্র : বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম ও মাস্টারি বিডি ডটকম
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম