
মাস্টারি বিডি | শাহানা তৃণা
ফিচার | ঢাকা | ১৩ আগস্ট ২০১৯ | ২৯ শ্রাবণ ১৪২৬
দেখতে খুবই সুন্দর তিলা ঘুঘু। অত্যন্ত মায়াময় এর চাহনি। এর বৈজ্ঞানিক নাম Streptopelia chinensis.। বেশ কটি নাম রয়েছে এ পাখিটির; যেমন: তিলা ঘুঘু, তেলিয়া ঘুঘু, ছিটে ঘুঘু ইত্যাদি। তিলা ঘুঘুর বৈজ্ঞানিক নামের অর্থ চীনের কণ্ঠীঘুঘু।

পাখিটি বাংলাদেশ, ভারত ছাড়াও দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে দেখা যায়। সারা পৃথিবীতে এক বিশাল এলাকা জুড়ে এদের আবাস।

তিলা ঘুঘু একই গণের অন্যসব প্রজাতি থেকে বেশ খানিকটা আলাদা। কেবল খুদে ঘুঘুর সাথে এর খানিকটা মিল লক্ষ করা যায়।
তিলা ঘুঘুর মাথার চাঁদি ও কান-ঢাকনি ধূসর। ঘাড়ের পেছনের উপরিভাগ পাটল বর্ণের। ঘাড়ের পেছনের নিচের ভাগ ও ঘাড়ের পাশে সাদা-কালো তিলার পট্টি। বাদামি পিঠ ও ডানায় পীতাভ তিলা রয়েছে। চোখ ফিকে লালচে বাদামি, চোখের পাতা ও চোখের গোলকের মুক্ত পট্টি অনুজ্জ্বল গাঢ় লাল। ঠোঁট কালচে। পা ও পায়ের পাতা লালে মেশানো এবং নখর বাদামি। ছেলে ও মেয়ে পাখির চেহারা অভিন্ন।

গ্রামের মাঠেঘাটে, শস্যভিটায়, একাকী বা জোড়ায় জোড়ায় হেঁটে হেঁটে শস্যদানা খায়।
তিলা ঘুঘু আর্দ্র পাতাঝরা বন, বাগান, কুঞ্জবন, আবাদি জমিতে বিচরণ করে। গ্রাম ও শহর—সবখানে এই পাখি দেখা যায়। তৃণভূমি, খামার, চাষের জন্য কর্ষিত জমি, রাস্তাঘাট ও বনের ধারে খাবার খায়। ছেলে পাখি ডাকতে পছন্দ করে।

ঘুঘুর প্রজনন মৌসুম এপ্রিল-জুলাই মাস। এসময় ছেলে পাখি মেয়ে পাখির পাশে মাথা নাচিয়ে অবিরাম ডাকে। কোমল সুরে ক্রক…ক্রক… করে ডাকে। কাঁটাওয়ালা ঝোপ, বাঁশঝাড়, খেজুর ও অন্যান্য ছোট গাছে কাঠি বিছিয়ে বাসা বানিয়ে এরা ডিম পাড়ে। ডিমগুলো সাদা বর্ণের। সাধারণত ১৩ দিনে ডিম ফোটে।

তিলা ঘুঘুর মোট তিনটি উপপ্রজাতির সন্ধান এখন পর্যন্ত পাওয়া গেছে।
অস্ট্রেলিয়া, ফিজি, মরিশাস, মেক্সিকো, নিউ ক্যালিডোনিয়া, নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্রে পাখিটি অবমুক্ত করা হয়েছে।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম