মাস্টারি বিডি ডটকম
প্রবাস । ২৮ আগস্ট ২০১৭ । ১৩ ভাদ্র ১৪২৪
যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে ক্রান্তীয় ঝড়ে পরিণত হওয়া ঘূর্ণিঝড় হার্ভির কারণে সৃষ্ট বন্যায় শহরটিতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরাও দুর্ভোগে রয়েছে।
হার্ভি শুক্রবার রাতে টেক্সাস উপকূলে আঘাত আনার পর ক্রান্তীয় ঝড়ে পরিণত হলেও এর প্রভাবে ভারি বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। এতে অঙ্গরাজ্যটির হিউস্টন সিটি ও তার আশপাশে কয়েকটি এলাকা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে।
রোববার সন্ধ্যা নাগাদ বাংলাদেশিসহ হিউস্টনের দুই হাজার বাসিন্দাকে উদ্ধার করে বন্যা আশ্রয় কেন্দ্র ও শুকনো এলাকার চার্চে রাখা হয়েছে।

আশ্রয় কেন্দ্রে নেওয়া পানিবন্দি বাসিন্দাদের মধ্যে অন্তত ৫০০ বাংলাদেশি রয়েছে বলে জানান হিউস্টন এলাকার বাংলাদেশিদের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠন ‘বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব হিউস্টন’র ভাইস প্রেসিডেন্ট খালেদ জুলফিকার খান।
তিনি বলেন, “ক্লিয়ার লেইক, লিগ সিটি, ডিকেনসন, ক্যাটি, সাইপ্রেস, সুগারল্যান্ড, সিলি এবং ফ্রেন্ডসউড বিভিন্ন এলাকার বাংলাদেশিদের বাড়ির নিচতলায় পানি উঠেছে। অনেকেই দোতলায় আশ্রয় নিয়েছেন।
“হিউস্টনের পুরো পৌর এলাকা জুড়ে বন্যা সতর্কতা জারি করেছে ন্যাশনাল ওয়েদার সার্ভিস (এনডব্লিউএস)। ১৯৮২ সাল থেকে আমি এই শহরে আছি। এমন ভয়াবহ পরিস্থিতি আর কখনও দেখিনি।”
এদিকে শহরের রাস্তাঘাট পালিতে তলিয়ে যাওয়ায় উদ্ধার তৎপরতা ব্যাহত হচ্ছে জানিয়ে রেড ক্রিসেন্ট বলছে, সব রাস্তা এখন কয়েক ফুট পানির নিচে। পানিবন্দিদের উদ্ধার করে আশ্রয় কেন্দ্রে নেওয়ার মত রাস্তাও নেই।
গত ২৪ ঘণ্টায় টেক্সাসের হিউস্টন ও গালভেস্টনে ৬১ দশমিক ২ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার পর্যন্ত আরও ৩০ ইঞ্চি বৃষ্টিপাতের আশঙ্কা করেছে জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর।

হিউস্টনের বন্যা অতীতের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে পূর্বাভাসে বলা হয়, টেক্সাসের দক্ষিণ-পূর্ব এলাকার অন্যান্য অঞ্চলেও বন্যা হওয়ার জোর আশঙ্কা রয়েছে।
হিউস্টনের ডাউন টাউন থেকে টেক্সাসের আরেক উপকূলীয় শহর কর্পাস ক্রিস্টি সিটি পর্যন্ত এলাকাও জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয়েছেন বলে জানান কর্পাস ক্রিস্টি সিটির বাংলাদেশি ব্যবসায়ী রহিম রাজা নিহাল।
মেক্সিকো সাগর উপকূলের শহরটিতে বসবাস করা এই বাংলাদেশি বলছেন, ঝড়-জলোচ্ছ্বাসে তার একটি সুপার মার্কেটও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
“আমার একটি সুপার মার্কেটসহ বেশ কয়েকটি বাড়ির দেয়াল ভেঙে গেছে। হারিকেন হার্ভির গতি দুর্বল হলেও জলোচ্ছ্বাস আর লাগাতার ঝড়ো হাওয়ার কারণে হিউস্টনের ডাউন টাউন থেকে কর্পাস ক্রিস্টি পর্যন্ত ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। অসংখ্য মানুষ বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়েছে।”
হিউস্টন সিটি মেয়র সিলভেস্টার টারনার পুরো শহরে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছেন। শহরের সড়কগুলো পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় যানবাহন চলতে পারছে না। তাই খুব জরুরি না হলে কেউ যেন ৯১১-এ ফোন না করেন সেই অনুরোধ জানিয়েছেন মেয়র।
এছাড়া যেসব বাড়িঘরের নিচতলায় পানি উঠেছে, ওইসব বাড়িঘরের লোকজনকে ছাদে আশ্রয় নেওয়ার পরামর্শও দিয়েছেন এই মেয়র।

খালেদ খান জানান, “দুর্যোগের কারণে ৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হিউস্টন সিটির সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। টেক্সাস অঙ্গরাজ্যের ৫০টি কাউন্টিতেই জরুরি অবস্থা জারি করেছেন রাজ্য গভর্নর।”
পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ‘হিউস্টন হবি’ ও ‘জর্জ বুশ এয়ারপোর্ট’ নামে হিউস্টন শহরের দুটি এয়ারপোর্ট বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এয়ারপোর্ট দুটির উদ্দেশে বিভিন্ন দেশ থেকে ছেড়ে আসা ফ্লাইটের যাত্রীরা মধ্যপ্রাচ্যে আটকা পড়েছেন।
শুক্রবার রাত ১১টায় ঘণ্টায় ২০৯ কিলোমিটার বাতাসের বেগ নিয়ে ঘূর্ণিঝড়টি টেক্সাস উপকূল অতিক্রম করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস শিল্প এলাকায় তাণ্ডব চালায়। তবে ধীরে ধীরে শক্তিক্ষয় হয়ে এটি ক্রান্তীয় ঝড়ে পরিণত হয়।
ঝড় ও বন্যায় রোববার রাত পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেলেও দুজনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে টেক্সাস প্রশাসন। আহত হয়েছে কয়েক হাজার।
ঘূর্ণিঝড় আতঙ্কে হাসপাতালগুলো আগেই প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। এর বাইরেও গুরুতর আহতদের নিজেদের ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসা দিচ্ছে রেডক্রস।
ঘূর্ণিঝড়ে টেক্সাসের ক্ষতিগ্রস্ত সব এলাকার আবর্জনা ও ধ্বংসস্তুপ পরিষ্কার করার জন্য সামরিক বাহিনীর ১ হাজার ৮০০ সদস্যকে মোতায়েন করার কথা জানিয়েছেন অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর গ্রেগ অ্যাবোট।
এছাড়া তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযানে থাকবে আরও এক হাজার সেনা সদস্য।
টেক্সাসের দুর্যোগ কবলিত এলাকা পরিদর্শনের জন্যে মঙ্গলবার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সেখানে যাচ্ছেন বলে নিশ্চিত করেছে হোয়াইট হাউজ। ক্ষতিগ্রস্তদের পুনর্বাসনসহ যাবতীয় কাজে অঙ্গরাজ্য প্রশাসনকে ফেডারেল প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তা দেওয়ার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।
সৌজন্যে : বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম