মাস্টারি বিডি । শান্তা ইসলাম
জাতীয় । ঢাকা । ০৬ এপ্রিল ২০১৯ । ২৩ চৈত্র ১৪২৫
গন্ধ মন মাতানো। ফুল ফুটলে বাতাসে গন্ধ মোঁ মোঁ করে ওঠে। মিষ্টি নেশা ধরানো গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে! আর বাসি ফু তলা বিছিয়ে পড়ে থাকে – আহা, সেখান থেকেও গন্ধ ওড়ে চারদিকে! ঘ্রাণময় এ ফুলের নাম মুচকুন্দ চাঁপা। বিরাট চাঁপা পরিবারের সদস্য এটি।

দেখতে ঠিক যেন আধখানা খোসা ছাড়ানো কলা। রঙ ফ্যাকাসে হলুদ। হলে হবে কী – কী যে ঘ্রাণ ধরে আছে এই রূপ কাঠামোর ভেতর!
মুচকুন্দ শেষ বসন্ত বা চৈত্র মাসের ফুল। গাছে ফুল থাকে গ্রীষ্মকালজুড়ে। নামকরা ফুলগুলোর মধ্যে অন্যতম নাম মুচকুন্দ চাঁপা। কোথাও কোথাও কুসুম ফুল, আবার কেউ বলেন কনকচাঁপা।

অনেক জায়গায় মুচকুন্দ চাঁপাকে কাঠচম্পা নামেও ডাকে। আবার কেউ কেউ বলেন মুছকুন্দা। কাঠচম্পা, মুছকুন্দা, কনকচাঁপা বা কুসুম ফুল নাম যাই হোক, মুচকুন্দ চাঁপা অসাধারণ আর অদ্ভুত ধরনের গন্ধ বিলানো ফুল।
মুচকুন্দের বৈজ্ঞানিক নাম Petrospermum acerifolium, পরিবার Sterculiaceae, অন্যান্য নাম Bayur Tree, Maple-Leafed Bayur Tree, Dinner Plate Tree. । বিশাল গাছের পাতা গোলাকার বলা যায়। পাতার উপরিভাগ উজ্জ্বল সবুজ চকচকে আর মসৃণ। পেছনটা রুক্ষ ধূসর।

উচ্চতার জন্য গাছে ফুল দেখাটা অনেকটাই কঠিন। মজা হচ্ছে, মুচকুন্দ চাঁপা আড়াল পছন্দ করে। ফুল বাসি হলে ঝরে পড়ে। পুরো মুচকুন্দতলা বাসি ফুলে ছেয়ে যায়।
মুচকুন্দ চাঁপার আদিনিবাস হিমালয়ের পাদদেশ, মিয়ানমার, আসাম ও চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চল।

বিখ্যাত শিল্পী এস এম সুলতানের প্রিয় ফুল ছিল মুচকুন্দ চাঁপা। তিনি সাতটি মুচকুন্দ চাঁপা ফুল গাছ যশোর মাইকেল মধুসূদন কলেজ ক্যামপাসে রোপণ করেছিলেন।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম