মাস্টারি বিডি ডটকম
ঢাকা । ০৪ ডিসেম্বর ২০১৬ । ২০ অগ্রহায়ণ ১৪২৩
দরিদ্র ও চিকিৎসাবঞ্চিত মানুষদের সেবা প্রদানে ক্যাম্পস আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও ক্যাম্পে শত শত দরিদ্র রোগী সেবা গ্রহণ করছে।
শনিবার আনুষ্ঠানিকভাবে এ ‘‘ক্যাম্পস কিডনি সপ্তাহ ২০১৬ টাঙ্গাইল”-এর উদ্বোধন করেন টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের প্রশাসক ফজলুর রহমান খান ফারুক।
কিডনি রোগের একটি ভয়াবহ দিক হল- প্রায় ৭৫ /৮০ ভাগ কিডনি নষ্ট না হওয়া পর্যন্ত এ রোগ কোন লক্ষণ প্রকাশ করে না। যার কারণে এ রোগকে বলা হয় নীরব ঘাতক। তাই মানব শরীরে সুপ্তাবস্থায় থাকা কিডনি রোগকে চিহ্নিত করতে নিয়মিত পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরী। এ বিষয়টি বিবেচনায় রেখে মূলত কিডনি রোগ প্রতিরোধের লক্ষ্য নিয়ে ক্যাম্পস সপ্তাহব্যাপী ফ্রি কিডনি চেকআপ ও প্রাথমিক চিকিৎসাসেবা কার্যক্রম হাতে নিয়েছে।
বাংলাদেশে কিডনি রোগ সচেতনতায় অগ্রনী ভূমিকা পালনকারী স্বেচ্ছাসেবী অলাভজনক সংস্থা ক্যাম্পস এ আয়োজন করেছে। টাঙ্গাইল জেলা পরিষদের প্রশাসক ফজলুর রহমান খান ফারুক শনিবার দুপুর ১২ টায় ক্যাম্পস কিডনি এন্ড ডায়ালাইসিস সেন্টার, বিশ্বাস বেতকা, পুরাতন বাসষ্টান্ড, ঢাকা রোডে এ আয়োজনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেনে।
ক্যাম্পস-এর চেয়ারম্যান এবং ক্যাম্পস কিডনি সপ্তাহ ২০১৬ এর মূখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক ডাঃ এম এ সামাদ ও স্থানীয় গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
ক্যাম্পস কিডনি সপ্তাহ ২০১৬ টাঙ্গাইল-এর অনুষ্ঠানমালার অংশ হিসাবে টাঙ্গাইল প্রেসক্লাবে “কিডনি রোগের চিকিৎসা ও প্রতিরোধে প্রাথমিক অবস্থায় চিকিৎসকদের করনীয়” শীর্ষক একটি বিশেষ সায়েন্টিফিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। এ সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইলের জেলা প্রশাসক ফজলুর রহমান খান ফারুক। বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডাঃ মোহাম্মদ আলী, টাঙ্গাইল-এর সিভিল সার্জন ডাঃ সৈয়েদ ইবনে সাইদ, টাঙ্গাইল বিপিএমপি’র ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ডাঃ আব্দুল মতিন।
ক্যাম্পস-এর প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি অধ্যাপক ডাঃ এম এ সামাদ এ সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন এবং একই সাথে সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রায় দুই কোটি লোক কোন না কোন কিডনি রোগে আক্রান্ত। কিডনি রোগে আক্রান্ত হয়ে প্রতি ঘন্টায় মৃত্যুবরণ করছে ৫ জন লোক। সাধারণত ৭৫ ভাগ কিডনি নষ্ট হওয়ার আগে রোগী বুঝতেই পারে না যে, সে ঘাতক ব্যাধিতে আক্রান্ত। কিডনি যখন বিকল হয়ে যায় তখন বেঁচে থাকার একমাত্র উপায় ডায়ালাইসিস অথবা কিডনি সংযোজন। তাই কিডনি সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি করতে প্রাথমিক অবস্থায় কিডনি রোগের কারণ ও কিডনি রোগ শনাক্ত করে কিডনি বিকল রোগীদের চিকিৎসা প্রদানের লক্ষ্যেই গঠন করা হয় ক্যাম্পস। আর এই লক্ষ্য বাস্তবায়নের অংশ হিসাবে ৩ ডিসেম্বর থেকে ৯ ডিসেম্বর পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী “ক্যাম্পস কিডনি সপ্তাহ ২০১৬ টাঙ্গাইল” উদযাপন করছে। এ ফ্রি কিডনি স্ক্রিনিং ক্যাম্পের মাধ্যমে ডায়াবেটিস নির্ণয়, সিরাম-ক্রিয়েটিনিন ও প্রস্রাবের রুটিন পরীক্ষা করা হচ্ছে।
অধ্যাপক ডাঃ এম এ সামাদ বলেন, দেশে অসংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত হয়ে প্রায় ৬৩% লোকের মৃত্যু হয়, আগামী ১০ বছরে এ হার ৭০% ছাড়িয়ে যাবে, কারণ প্রতিবছর ২% হারে বৃদ্ধি পায়। এই জীবন সংহারী রোগসমূহের মধ্যে রয়েছে হৃদরোগ, ফুসফুসের রোগ, ক্যান্সার, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও কিডনি রোগ অথচ একটু সচেতন হলেই এবং লাইফ স্টাইল পরিবর্তনের মাধ্যমে ৫০ থেকে ৭০ ভাগ ক্ষেত্রে এ রোগ প্রতিরোধ করা সম্ভব।
তিনি বলেন, ক্যাম্পস-এর মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে- কিডনি রোগের ব্যাপকতা ও ভয়াবহতা সম্পর্কে বাংলাদেশের মানুষকে সচেতন করা ও কিডনি বিকল প্রতিরোধে প্রাথমিক অবস্থায় কিডনি রোগ শনাক্ত করে চিকিৎসা করা ও সুস্থ জীবন ধারায় সবাইকে অভ্যস্ত করা।
ডাঃ সামাদ আরো বলেন, বিশ্বব্যাপী আজ কিডনি রোগের ভয়াবহতা সংশ্লিষ্ট সকলেই উপলব্ধি করতে পারছেন, তারা মনে করেন যে, চিকিৎসা করে নয় বরং প্রতিরোধ করেই এ রোগের প্রাদুর্ভাব দূর করতে হবে। আর এ জন্য সচেতনতাই একমাত্র উপায়।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম