
কবিতাকুঞ্জ। কবি নির্মলেন্দু গুণের কবিতাকুঞ্জ। সরকারের কাছ থেকে আট শতাংশ খাস জমি ৫০ হাজার টাকায় বরাদ্দ নিয়ে নেত্রকোণার মালনীতে মগরা নদীর তীরে নির্মিত হচ্ছে এই স্বপ্নের কবিতাকুঞ্জ। যা হবে Home of World Poetry, বিশ্বকবিতার বাসগৃহ। কবিতাকুঞ্জের নির্মাণকাজ প্রায় ৮০ ভাগ সম্পন্ন হয়েছে। এটি একদিন বিশ্বসভায় মাথা উঁচু করে দাঁড়াবে। এমনই দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন কবি।

কবি এখন বাংলাভাষার পাশাপাশি বিশ্বের সকল ভাষার, সকল কালজয়ী কাব্যসমূহকে এককুঞ্জে একত্রিত করার দুরূহ কাজ করছেন। এই কাজের কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা নেই মানবজাতির। ফলে কাজটা কঠিন, কিন্ত অসম্ভব নয় বলে মনে করেন কবি।

নেত্রকোণা-আটপাড়া পাকা সড়ক থেকে বেরিয়ে আসা কবিতাকুঞ্জের সামনের কাঁচা মাটির সড়কটি অচিরেই পাকা করে দেবে নেত্রকোণা পৌরসভা। নেত্রকোণা জেলা পরিষদ কবিতাকুঞ্জের পাশে মগরা নদীতে একটি পাকা ঘাট তৈরি করে দেবে। ১২ ফুট প্রশস্ত ২০-২৫টি সিঁড়ি থাকবে ঐ নদীর ঘাটে। স্টেনলেস স্টিলের হাতল ধরে এলাকার মানুষ ঐসব সিঁড়ি বেয়ে নদীর তলদেশ পর্যন্ত নেমে যেতে পারবে। গ্রীষ্মাগমনে মগরার জল শুকিয়ে নদীর অনেক নিচে নেমে যায়, চোখে দেখা গেলেও মগরার জল তখন স্পর্শ করা যায় না। এই নদী ঘাটটি নির্মিত হলে কবিতাকুঞ্জের ওসিলায় ঐ এলাকার মানুষের নাগালের মধ্যে চলে আসবে মগরার জল।

দর্শনার্থীরা ইঞ্জিন চালিত “জয় তরণী”তে চড়ে উপভোগ করতে পারবেন মগরা নদী ও তার তীরবর্তী কবিতাকুঞ্জ ও নদীর দুই পাড়ের নিসর্গের অপরূপ শোভা।
নেত্রকোণায় একটি সরকারী বিশ্ববিদ্যালয় স্থাপিত হওয়ার সিদ্ধান্ত পাশ হয়ে আছে। সেটি রাজুর বাজার এলাকায় হলে, মালনী, কবিতাকুঞ্জ ও মগরা নদীর গুরুত্ব বহুগুণ বৃদ্ধি পাবে। তখন এই অবহেলিত নির্জন মালনী এলাকাটাই হয়ে উঠবে নেত্রকোণার প্রাণকেন্দ্র।

কবির এই প্রচেষ্টা সফল হোক। কবিতাকুঞ্জ হোক শান্তিনিকেতনের বাংলাদেশ। (গুণ দার স্ট্যাটাস থেকে)
ছবি : দীপক সরকার, প্রতিষ্ঠাতা, জলসিঁড়ি পাঠচক্র
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম