
মাস্টারি বিডি । বাঁধন খান
ফিচার । ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ । ১৭ পৌষ ১৪২৫
‘পাল তোলা ওই নায়ের মাঝি/ ভাটিয়ালি গায়/ ঘোমটা পরা গাঁয়ের বধূ / শ্বশুরবাড়ি যায়…।’ অথবা, ‘খুলি হাল তুলি পাল ওই তরী চললো/ এইবার এইবার খুকু চোখ খুললো… এরকম গান কবিতা ছড়ার মধ্যদিয়ে একটা সময় দারুণ আবেদন সৃষ্টি হতো এই নদীমাতৃক বাংলাদেশের মানুষের জীবনধারায়। নৌকায় পাল তুলে ভাটিয়ালি গান ধরতো মাঝি। কিন্তু যান্ত্রিক সভ্যতায় এসে এ দৃশ্য এখন অতীত স্মৃতি হয়ে গেছে বাঙালির জীবনে। কত স্বর্ণালি স্মৃতি জড়িয়ে আছে পালতোলা নৌকা ঘিরে।

যেমন- ‘ও মাঝি, নাও ছাইরা দে, ও মাঝি পাল উড়াইয়া দে’, গানটি এখনো গ্রাম বাংলায় ব্যাপক জনপ্রিয়; এছাড়া, ‘পালের নাও, পান খেয়ে যাও’… গানটিও উল্লেখযোগ্য। নৌকার পালকে কিন্তু বাদামও বলা হয়ে থাকে। আধুনিক সভ্যতায় যান্ত্রিক যানবাহনের ভারে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যের প্রতীক পালতোলা নৌকা হারিয়ে গিয়েছে।

হাতেগোনা দু’য়েকটা চোখে পড়লেও তাদের নৌকায় আগের মতো আর মানুষ ওঠেন না। নদ-নদী, হাওড়-বাওড়, খাল-বিল পরিবেষ্টিত এই বাংলায় এক সময় পাল তোলা নৌকার ব্যাপক কদর থাকলেও এখন আর সেটি নেই। সুনশান নদী বা হাওড়গুলোতে ভটভট তীব্র আওয়াজ করে প্রচণ্ড ঢেউ তুলে এখন চলাচল করছে ইঞ্জিনচালিত নৌকা। ইঞ্জিনচালিত নৌকার বিকট আওয়াজে নদীর দু’পারের বাসিন্দারা শিকার হচ্ছেন শব্দদূষণের। এছাড়া ইঞ্জিনচালিত নৌকার সৃষ্ট ঢেউয়ের আঘাতে নদীর দু’পারের ভাঙনেরও সৃষ্টি হচ্ছে।

জনপ্রিয় পল্লীগীতি- ‘নাইয়া রে নায়ের বাদাম তুইলা কোন দূরে যাও চইলা…’ অথবা, ‘আমি বাদাম দেইখা চাইয়া থাকি আমার নি কেউ আসে রে…’ এইসব গানের অনুষঙ্গও কিন্তু পাল তোলা নৌকা বা বাদাম তোলা নৌকা।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম