মাস্টারি বিডি | শিমুল আহসান
সাহিত্যবিভাগ | ঢাকা | ২৮ জুন ২০১৯ | ১৪ আষাঢ় ১৪২৬
শনিবার ২৯ জুন আধুনিক বাংলা সাহিত্যের রূপকার মহাকবি মাইকেল মদুসূদন দত্তের ১৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী। ১৮২৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৫ জানুয়ারি সাগরদাঁড়ি গ্রামে জমিদার পিতা রাজনারায়ণ দত্ত ও মাতা জাহ্নবী দেবীর কোল আলোকিত করে সোনার চামচ মুখে নিয়ে তিনি জন্ম নিয়েছিলেন। প্রাকৃতিক অপূর্ব লীলাভূমি, পাখিডাকা, ছায়াঢাকা, শষ্যসম্ভারে সমৃদ্ধ সাগরদাঁড়ি গ্রাম আর বাড়ির পাশে বয়েচলা স্রোতস্বিনী কপোতাক্ষের সাথে মিলেমিশে শিশু মধুসূদন ধীরে ধীরে শৈশব থেকে কৈশোর এবং কৈশোর থেকে পরিণত যুবক হয়ে ওঠেন। কপোতাক্ষ নদ আর মধুসূদনের মধ্যে গড়ে ওঠে ভালবাসার এক অবিচ্ছেদ্য বন্ধন।

মধুকবি যখন জন্মগ্রহণ করেন সে সময়ে আজকের এই মৃতপ্রায় কপোতাক্ষ নদ কাকের কালো চোখের মত স্বচ্ছ জলের জোয়ার-ভাটায় ছিল পূর্ণযৌবনা। নদের প্রশস্ত বুক চিরে ভেসে যেত পাল তোলা সারি সারি নৌকার বহর আর মাঝির কন্ঠে শোনা যেত হরেক রকম প্রাণ উজাড় করা ভাটিয়ালী গান। শিশু মধুসূদন এ সব অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে চেয়ে দেখত আর মুগ্ধ হয়ে যেত। স্রোতস্বিনী কপোতাক্ষের অবিশ্রান্ত ধারায় বয়েচলা জলকে মায়ের দুধের সাথে তুলনা করে তাই কবি সুদূর ভার্সাই নগরে বসে রচনা করলেন বিখ্যাত সনেট কবিতা ‘কপোতাক্ষ নদ’। তিনি লিখলেন- ‘সতত হে নদ তুমি পড় মোর মনে, সতত তোমারি কথা ভাবি এ বিরলে’।

মাইকেল মধুসূদন বাংলা ভাষায় সনেট ও অমিত্রাক্ষর ছন্দের প্রবর্তক। তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ কীর্তি অমিত্রাক্ষর ছন্দে রামায়ণের উপাখ্যান অবলম্বনে রচিত মেঘনাদবধ কাব্য নামক মহাকাব্য। তাঁর অন্যান্য উল্লেখযোগ্য গ্রন্থাবলি হলো- ‘দ্য ক্যাপটিভ লেডি’, ‘শর্মিষ্ঠা’, ‘কৃষ্ণকুমারী’ (নাটক), ‘পদ্মাবতী’ (নাটক), ‘বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ’, ‘একেই কি বলে সভ্যতা’, ‘তিলোত্তমাসম্ভব কাব্য’, ‘বীরাঙ্গনা কাব্য’, ‘ব্রজাঙ্গনা কাব্য’, ‘চতুর্দশপদী কবিতাবলী’, ‘হেকটর বধ’ ইত্যাদি। মাইকেলের ব্যক্তিগত জীবন ছিল নাটকীয় এবং বেদনাঘন।

মহাকবি মাইকেল মদুসূদন দত্ত ১৮৭৩ সালের ২৯ জুন কলকাতার এক হাসপাতালে মাত্র ৪৯ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্তের জন্মস্থান সাগরদাঁড়িতে শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে আজ শুক্রবার কবির ১৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালিত হচ্ছে।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম