Home / আন্তর্জাতিক / ধেয়ে আসছে ভয়াবহ ঘূর্ণীঝড় ফণী
ধেয়ে আসছে ভয়াবহ ঘূর্ণীঝড় ফণী
fonee+ind+bangla+mbd-3

ধেয়ে আসছে ভয়াবহ ঘূর্ণীঝড় ফণী

মাস্টারি বিডি । শিমুল আহসান
প্রতিবেদন । ০২ মে ২০১৯ । ১৯ বৈশাখ ১৪২৬

ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’ শুক্রবার সন্ধ্যা নাগাদ খুলনা ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পৌঁছতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। পশ্চিম মধ্য বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’ আরও উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে একই এলাকায় (১৭.২ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৮৪.৮ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশ) অবস্থান করছে।
আজ বৃহস্পতিবার বিকেলে আবহাওয়া অধিদপ্তর থেকে দেয়া আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক বার্তা দেয়া হয়েছে।
খুলনা ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকায় আগামীকাল শুক্রবার (৩ মে) সকাল নাগাদ অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’-এর অগ্রবর্তী অংশের প্রভাব শুরু হতে পারে।
‘ফণি’ আরও ঘণীভূত ও উত্তর বা উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে আগামীকাল শুক্রবার বিকাল নাগাদ ভারতের উড়িষ্যা উপকূল অতিক্রম করতে পারে। পরবর্তীতে উড়িষ্যা-পশ্চিমবঙ্গ উপকূল হয়ে শুক্রবার সন্ধ্যা নাগাদ খুলনা ও তৎসংলগ্ন বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল এলাকায় পৌঁছতে পারে।

fonee+ind+bangla+mbd-4

আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের (কি. মি.) মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘন্টায় ১৬০ কি. মি. যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৮০ কি.মি. পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।
মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ৭ (সাত) নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
উপকূলীয় জেলা ভোলা, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।
আবহাওয়ার বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরকে ৬ (ছয়) নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৬ (ছয় ) নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।

fonee+ind+bangla+mbd-2

কক্সবাজার সমূদ্র বন্দরকে ৪ (চার) নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারী সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
ঘূর্ণিঝড় এবং অমাবস্যার প্রভাবে উপকূলীয় জেলা চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষ্মীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, ভোলা,
পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪ থেকে ৫ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।
এদিকে ঘূর্ণিঝড় অতিক্রমকালে চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, লক্ষীপুর, ফেনী, চাঁদপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, ভোলা, পিরোজপুর, ঝালকাঠি, বাগেরহাট, খুলনা, সাতক্ষীরা জেলা সমূহ এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণসহ ঘন্টায় ৯০ থেকে ১১০ কি.মি. বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।
উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে অতিসত্ত্বর নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলাহয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে বলা হয়েছে।

এদিকে ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা সংবাদ পরিবেশন করেছে, ভুবনেশ্বরে আগেই ঘোষণা হয়েছিল। এ বার কলকাতা বিমানবন্দর থেকেও বাতিল হচ্ছে সমস্ত উড়ান। আগামিকাল শুক্রবার রাত সাড়ে ন’টা থেকে পরের দিন শনিবার সন্ধ্যা ছ’টা পর্যন্ত কোনও বিমান ওঠানামা করবে না কলকাতা বিমান বন্দর থেকে।
‘এক্সট্রিমলি সিভিয়ার সাইক্লোনিক স্টর্ম’ ফণীর জেরে ওড়িশার ভুবনেশ্বর বিমানবন্দরে আজ বৃহস্পতিবার মধ্য রাত থেকেই সমস্ত উড়ান বাতিল করে দেওয়া হয়েছে। তবে কবে ফের উড়ান চালু করা সম্ভব হবে, তা এখনও ঠিক হয়নি। সৈকত শহর পুরীর উপকূলে শুক্রবার দুপুরের দিকেই আছড়ে পড়ার আশঙ্কা ঘুর্ণিঝড় ফণীর। কিন্তু বৃহস্পতিবার বিকেল থেকেই পুরীর আবহাওয়া খারাপ হতে শুরু করেছে। শুরু হয়েছে প্রবল বৃষ্টি। এই কারণেই ভুবনেশ্বর থেকে সমস্ত উড়ান বাতিল করা হয়েছে।
অন্য দিকে এ রাজ্যে ফণী প্রবেশ করতে পারে শুক্রবার মধ্যরাতের পর বা শনিবার ভোর রাতের দিকে। কিন্তু পুরী-ভুবনেশ্বরের মতো একই ভাবে কলকাতাতেও ফণী আসার আগেই আবহাওয়ার অবনতি হতে পারে। সেই কারণেই কলকাতা থেকেও শুক্রবার রাত থেকে সব উড়ান বাতিল করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

fonee+ind+bangla+mbd

ভারতের পত্রিকা বর্তমান সংবাদ দিয়েছে, ঘূর্ণিঝড় ফণীর আতঙ্কে কাঁপছে পশ্চিমবঙ্গসহ ৩ রাজ্য। তীব্র ঝড় ও প্রবল বৃষ্টির কথা মাথায় রেখে ওড়িশা, অন্ধ্রপ্রদেশ ও পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী এলাকায় বিশেষ সতর্কতা জারি হয়েছে। পাশাপাশি এর জেরে বাতিল করা হয়েছে দক্ষিণ-পূর্ব রেলের বেশ কিছু দুরপাল্লার ট্রেনও। কয়েকটি ট্রেনের রুটও বদল করেছে রেল।
আবহাওয়া দপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী ওড়িশার ১৯ জেলাসহ অন্ধ্র ও পশ্চিমবঙ্গের উপকূলবর্তী বেশ কয়েকটি জেলায় আঘাত হানতে পারে ঘূর্ণিঝড় ফণী। বুধবার মধ্যরাতে পুরী থেকে ৫০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছিল ফণী। সেটি ক্রমে উত্তর দিকে অগ্রসর হচ্ছে। ইতিমধ্যেই পর্যটকদের পুরী ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ওড়িশা সরকার।
বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই রয়েছে মেঘাচ্ছন্ন আকাশ। সমুদ্রও ফুঁসতে শুরু করেছে । ওয়াচ টাওয়ার থেকে উপকূলে কড়া নজরদারি চালাচ্ছে পুলিস প্রশাসন। ফণীর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে দীঘা, শঙ্করপুর, তাজপুর, মন্দারমণিতে জারি হয়েছে চূড়ান্ত সতর্কতা। সকাল থেকেই চলছে মাইকিং। পর্যটকদের সমুদ্রে নামার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। দীঘা থেকে ৬৫০কিলোমিটার দূরে অবস্থান করছে ফণী। বেশিরভাগ পর্যটকই বুধবার সন্ধ্যায় ফিরে গিয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালের ট্রেনেও ফিরছেন বেশ কিছু। শঙ্করপুর, তাজপুর, মন্দারমণি এখন প্রায় পর্যটক শূন্য।
বিশাখাপত্তনমের উপরও নজরদারি থাকছে। ফণী ওড়িশা উপকূলে আছড়ে পড়লেও তার কিছুটা প্রভাব এ রাজ্যেও পড়বে বলে মনে করছে হাওয়া অফিস। ওড়িশায় আছড়ে পড়ার পর গতি হারালেও ঘূর্ণিঝড়ের অভিমুখ হতে পারে পশ্চিমবঙ্গ। সে ক্ষেত্রে রাজ্যের উপকূল এলাকায় কিছুটা ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ বিষয়ে কড়া নজর রেখেছে রাজ্য প্রশাসন। ইতিমধ্যেই আবহাওয়া দপ্তরের সঙ্গে যোগাযোগ করে কি ধরনের বিপর্যয় হতে পারে তার খুঁটিনাটি জেনে নিয়েছে নবান্ন।

ঘূর্ণিঝড় ‘ফণি’ শুক্রবার সন্ধ্যা নাগাদ খুলনা ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পৌঁছতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

14 4 26 244

২৫ বছরেও শেষ হয়নি রমনার বটমূলে বোমা হামলা মামলার বিচার

ঢাকা, মঙ্গলবার ১৪ এপ্রিল ২০২৬ মাসস ২৫ বছর আগে রমনা বটমূলে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে বোমা হামলার …

Leave a Reply

Your email address will not be published.