মাস্টারি বিডি | শিমুল আহসান
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি ডেস্ক | ঢাকা | ১৭ জুন ২০১৯ | ০৩ আষাঢ় ১৪২৬
জানমালের ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনার লক্ষ্যে ঘূর্ণিঝড়ের আগাম তথ্য জানার নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবন করা হয়েছে। জাপান ও বাংলাদেশের যৌথ তত্ত্বাবধানে দেশে প্রথমবারের মতো এ প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) এক দল গবেষক। সাইক্লোন ক্লাসিপায়ার মডেল (সিসিএম) নামের ওই পদ্ধতির মাধ্যমে ঘূর্ণিঝড়ের সময় উপকূলীয় ১৯ জেলার ১৫৩ উপজেলায় বাতাসের গতিবেগ জানা যাবে। এ ছাড়া বের করা যাবে জোয়ার ও ভাটার সময় জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে উপকূলীয় জেলায় বেড়িবাঁধগুলোর কোনটি ভাঙার পরিস্থিতি তৈরি হবে আর কোনটি ভাঙবে না, সেটিও জানা যাবে আগেভাগে। এ ছাড়া উপকূলীয় এলাকায় কাঁচা, আধাপাকা, পাকা এই তিন শ্রেণির কোন শ্রেণির বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হবে, সেটি আগাম জানা যাবে সিসিএম পদ্ধতি ব্যবহার করে। ঘূর্ণিঝড় উপকূলে আঘাত হানার সময় জলোচ্ছ্বাসের উচ্চতা কত হবে, সিসিএম ব্যবহার করে সেটিও দেখা যাবে।

বুয়েটের বন্যা ও পানি ব্যবস্থাপনা ইনস্টিটিউট (আইডাব্লিউএফএম) ও পুরকৌশল বিভাগের এক দল গবেষক পাঁচ বছরের গবেষণায় সিসিএম সফটওয়্যার তৈরি করেছেন। দেশের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ১৭০টি ঘূর্ণিঝড়ের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে এই পদ্ধতি উদ্ভাবন করা হয়েছে। ২০১৪ সালের এপ্রিল থেকে শুরু করে ২০১৯ সালের মার্চে গবেষণার কাজ শেষ করে গবেষকদল। এই গবেষণার সঙ্গে যুক্ত ছিল জাপানের অন্তত ১০টি এবং বাংলাদেশের অন্তত ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়।
গবেষকদলের মতে, ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার আগেই সম্ভাব্য আক্রান্ত স্থানের তথ্য জানা থাকলে একদিকে যেমন নিরাপদ আশ্রয়ে মানুষকে সরানো সম্ভব হবে, অন্যদিকে মানুষের মধ্যেও সচেতনতা বাড়বে। একইভাবে এই তথ্য উপকূলীয় বাঁধ পুনর্নির্মাণ, উপকূলীয় এলাকার জন্য উপযুক্ত আবাসস্থল তৈরিতেও দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করবে।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম