মাস্টারি বিডি ডটকম ।
নীলফামারী । ২৮ নভেম্বর ২০১৭ । ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৪
বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস্ করপোরেশন (বিটিএমসি) পরিচালিত উত্তরবঙ্গের নীলফামারীর দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলসটি (সুতাকল) ফের সুতা উৎপাদন শুরু করলো।
সোমবার সন্ধ্যায় নীলফামারীর দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলে সুতা উত্পাদনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর ।
এ সময় সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, ‘বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত্ব সব কলকারখানা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সেগুলো সচল করে লাভজনক পর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার কাজ শুরু হয়েছে।

তিনি বলেন, ‘সরকারের একটি পরিকল্পনা তৈরি করা হয়েছে। তারই অংশ হিসেবে দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলে সুতা উত্পাদনের কাজ শুরু হলো। মিলটি সরকারি মালিকানায় থাকবে, বন্ধ থাকা ওই মিলটিতে ভাড়ায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান সুতা উত্পাদনের কাজ করবে। এতে করে এলাকার মানুষ হারিয়ে যাওয়া কর্মসংস্থান ফিরে পাবে।’
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস করপোরেশনের (বিটিএমসি) চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আহমেদ জাকারিয়া, বীর বিক্রমের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে বক্তৃতা দেন- জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ খালেদ রহীম, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন, পুলিশ সুপার জাকির হোসেন খান, বিটিএমসির উপমহাব্যবস্থাপক (বোর্ড ও আইন) কাজী ফিরোজ হোসেন, দারোয়ানী টেক্সটাইল মিলের উপমহাব্যবস্থাপক মজিবুর রহমান, নারায়ণগঞ্জের আরকে ইয়াং ট্রেডিং-এর মালিক গোপাল চন্দ্র সাহা, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি পৌর মেয়র দেওয়ান কামাল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক মমতাজুল হক, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবুজার রহমান, ভাইস চেয়ারম্যান আরিফা সুলতানা, জেলা ছাত্র লীগের সভাপতি মনিরুল হাসান শাহ প্রমুখ।
বিটিএমসির চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মাহবুব আহমেদ জাকারিয়া, বীর বিক্রম বলেন, ‘প্রাইভেট পাবলিক পাটর্নারশীপে দেশের বন্ধ থাকা ১৬টি মিল চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে তিনটি চালুর যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। পর্যায়ক্রমে বাকিগুলো চালু হবে।
‘
মিলটির উপমহাব্যবস্থাপক মজিবুর রহমান জানান, সুতা উত্পাদনের জন্য মিলটি তিন বছরের ভাড়ায় নেয় নারায়ণগঞ্জের আরকে ইয়ার্ন ট্রেডিং। মিলে সুতা উত্পাদনের সব টাকু চালু হলে পাঁচ শতাধিক শ্রমিকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। প্রথমবারের মতো ভাড়ায় মিলটিতে সুতা উত্পাদন শুরু হলো।
সূত্র মতে, ১৯৮০ সালের ২৫ এপ্রিল ওই মিলটি চালু হয়। এ সময় থেকে মানসম্মত সুতা উত্পাদনে ব্যাপক ভূমিকা রাখে। মিলটিতে ২৫ হাজার ৫৬ জার্মানী টাকু স্থাপনে সে সময়ে ব্যয় হয়েছিল ১১ কোটি ৯০ লাখ ২৮ হাজার টাকা। কর্মে নিয়োজিত ছিলেন ৭০৪ জন শ্রমিক, ৯৭ জন কর্মচারী ও ২৫ জন কর্মকর্তা। মিলটি ঘিরে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছিল এলাকায়। লোকশানের ভারে ১৯৯৫ সালে মিলটিতে উত্পাদন বন্ধ হয়। এরপর কয়েক দফায় সার্ভিস চার্জের চুক্তিতে একাধিক কম্পানি সুতা উত্পাদনের কাজ করে সেখানে।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম