Home / উন্নয়ন / স্বপ্নের পদ্মা সেতু বাস্তবে রূপ নিচ্ছে
1_21765

স্বপ্নের পদ্মা সেতু বাস্তবে রূপ নিচ্ছে

মাস্টারি বিডি ডটকম। শান্তা ইসলাম
ঢাকা । ১২ ডিসেম্বর ২০১৬ । ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩
স্বপ্নের পদ্মা সেতু বাস্তবে রূপ নিচ্ছে ২০১৮ সালে। মূল সেতুর আনুষ্ঠানিক পাইলিং শুরুর এক বছর পূর্তি হচ্ছে আজ। গত বছর এই দিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মূল সেতুর আনুষ্ঠানিক পাইলিং কাজ উদ্বোধন করেন। দেশের সবচেয়ে বড় অবকাঠামো পদ্মা সেতু প্রকল্পে ৩৭টি পাইল স্থাপন করা হয়েছে। চীন থেকে এসেছে চারটি স্প্যান। এ পর্যন্ত প্রকল্পের কাজ হয়েছে ৩৮ শতাংশ। এ অবস্থায় আগামী মাসে জাজিরায় সেতুর দুটি স্প্যান বসবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
%e0%a6%ac%e0%a6%bf%e0%a6%b6%e0%a7%8d%e0%a6%ac%e0%a7%87%e0%a6%b0-%e0%a6%b8%e0%a6%ac%e0%a6%9a%e0%a7%87%e0%a7%9f%e0%a7%87-%e0%a6%a6%e0%a7%80%e0%a6%b0%e0%a7%8d%e0%a6%98%e0%a6%a4%e0%a6%ae-%e0%a7%ad
পদ্মা সেতু প্রকল্পের তিনটি মূল অংশের কাজের জন্য দরপত্র আহ্বান এবং সংশ্লিষ্ট কাজ আগামী জুন মাস নাগাদ শেষ হবে বলে আশা করছে সরকার। জুন নাগাদ শেষ করা মূল প্রকল্পের এই তিনটি উপ-প্রকল্প হলো- সেতু নির্মাণ, নদী খনন এবং প্রকল্পের সার্বিক কাজ তত্ত্বাবধানের জন্য বিশেষজ্ঞ উপদেষ্টা নিয়োগ। পদ্মা সেতুর প্রকল্প পরিচালক শফিকুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এই প্রকল্পের বর্তমান উপদেষ্টা প্রতিষ্ঠান মাউনসেল লিমিটেড এইসিওএম’র সঙ্গে সরকারের চুক্তি শেষ হবে আগামী ২৪ জুন।
 
pad

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, জাজিরায় সেতুর ট্রানজিশন পিলারের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। মূল সেতুর শেষ প্রান্তে ৪২ নম্বর পিলারে চলছে পাইল স্থাপনের কাজ। জাজিরা প্রান্তের পাইলটিই মূল সেতু এবং সংযোগ সেতুর বন্ধন তৈরি করবে। তাই ট্রানজিশন পিলারে ১৬টি পাইল স্থাপন হচ্ছে। জাজিরা প্রান্তে রীতিমতো চলছে কাজের ধুম। পাইল স্থাপন হয়ে যাওয়ায় ৩৭ নম্বর পিলারকে কংক্রিটিং করে পরবর্তী কাজগুলো এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ৩৮ নম্বর পিলারে ছয়টি পাইল ও ৩৯ নম্বর পিলারে বসেছে চারটি পাইল। এ ছাড়া নদীর ভেতরে আরো সাতটি পিলারে তিনটি করে পাইল স্থাপন হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে নদীতে ৩৭টি পাইল স্থাপন হয়েছে।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী (মূল সেতু) দেওয়ান আবদুল কাদের বলেন, ‘সেতুর জন্য মোট ৪১টি স্টিল ট্রাস তৈরি করতে হবে। দেখতে একই রকম হলেও এগুলোর একটি থেকে আরেকটি আকারে বা আয়তনে ভিন্ন। একটি ট্রাস সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়েছে। আরও দুটি জোড়া দেওয়ার কাজ চলছে। আরও একটি চট্টগ্রাম থেকে আজকালের মধ্যে রওনা হবে।’ তিনি জানান, চীনের শিংহোয়াওদাওয়ে আরও একটি ট্রাসের সব অংশ বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য ডাম্পিং করা হচ্ছে। আরও ছয়টি তৈরি হচ্ছে।

image-323

চীন থেকে আনা স্প্যানগুলো জোড়া লাগানো হচ্ছে মূল সেতুর ঠিকাদার চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের (এমবিইসি) কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে। গত শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, তৈরি হওয়া স্প্যানটির ‘লোড টেস্টিং’ (ভারসহন পরীক্ষা) চলছে। মূল সেতু ও নদীশাসন কাজের পরামর্শক ‘কনসালটেশন সুপারভিশন কনসালট্যান্সি (সিএসসি) সার্ভিসের প্রকৌশলীরা সরেজমিনে দেখছেন, স্প্যানটি যানবাহন ও ট্রেনের ভার বহনে সক্ষম কি-না। তা দেখতেই স্প্যানের স্বাভাবিক ধারণ সক্ষমতার দেড়গুণ ওজন চাপানো হচ্ছে। যদি আকার-আকৃতির পরিবর্তন হয় কিংবা ভারে ভেঙে পড়ে তাহলে সেই স্প্যানকে বাতিল করা হবে। আশার কথা, সফলভাবেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হচ্ছে প্রথম স্প্যানটি। ‘পরীক্ষক’ সিএসসির সহ-আবাসিক প্রকৌলশী (সুপার স্ট্রাকচার) এস এম নাজমুল কবির জানান, আগামী ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরীক্ষা চলবে। এর পরই নদীতে নামার জন্য প্রস্তুত হবে স্প্যানটি।

বিশাল আকারের কারণেই কৌতূহলের শেষ নেই স্প্যানকে নিয়ে। ঘুরেফিরে দেখা হয় সেটিকে। কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে নদীর তীর ঘেঁষে অস্থায়ী পিলারের ওপর বসানো স্প্যানের ইস্পাতের পুরুত্ব দেখে চমকে যেতে হয়। ৬০ মিলিমিটার! না হয়েই উপায় কী! এটিই সেতুর মূল কাঠামো। ৪২টি পিলারের ওপর থাকবে ৪১টি স্প্যান। একটি আরেকটির সঙ্গে সংযুক্ত হবে শক্তিশালী তারের জোড়ার মাধ্যমে। এর ভেতর বসবে রেললাইন। ওপরে থাকবে ‘কংক্রিট সেগমেন্ট’। দুই মিটার প্রস্থের প্রায় তিন হাজার কংক্রিট সেগমেন্ট একটির সঙ্গে আরেকটি যুক্ত করে তৈরি হবে ছয় দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু। যে দুটি স্প্যান জোড়া দেওয়ার কাজ চলছে সেগুলো বসবে ৩৭-৩৮ এবং ৩৮-৩৯ নম্বর পিলারে। বিশালাকারের এই স্প্যানগুলো তীর থেকে নদীতে নিয়ে যেতে ও পিলারের ওপর বসাতে চীন থেকে তিন হাজার ৬০০ টন ক্ষমতাসম্পন্ন ক্রেন আনা হয়েছে বলে জানালেন নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আবদুল কাদের।

মাওয়া প্রান্তে ৬ ও ৭ নম্বর পিলারের ওপর বসানো প্রথম স্প্যানটি এখনও কংক্রিটের আকার পায়নি। প্রতিটি পিলারের জায়গায় নদীর বুকে জেগে আছে তিনটি করে বিশালাকারের পাইপ। এগুলোই হলো পাইলিং। প্রতি পিলারে চারটি পাইলিং করা হয়েছে। একটি পানির নিচে, তাই দেখা যাচ্ছে না। পানির ওপর ভাসমান তিনটি পাইপের ভেতর কনক্রিট ঢালাইয়ে ঠাঁসা_ মাটির ১১৭ মিটার গভীরে পোঁতা। এসব পিলার আগামী এক মাসে চূড়ান্ত আকার পাবে বলে আশা করছেন প্রকৌশলীরা।

প্রকৌশলীরা জানান, সেতুর মোট ৪২টি পিলারের মধ্যে পানিতে থাকবে ৪০টি। ডাঙায় সংযোগ সড়কের সঙ্গে সেতুকে যুক্ত করতে বাকি দুটি পিলার নির্মাণ হবে। একটি পিলার থেকে আরেকটির দূরত্ব হবে ১৫০ মিটার। ছয়টি মডিউলে বিভক্ত থাকবে সেতু। মাওয়া প্রান্তে এক হাজার ৪৭৮ মিটার ভায়াডাক্ট (ঝুলন্ত পথ) থাকবে। জাজিরা প্রান্তে ঝুলন্ত পথ থাকবে এক হাজার ৬৭০ মিটার। এই ঝুলন্ত পথগুলো সেতুকে অ্যাপ্রোচ রোডের (সংযোগ সড়ক) সঙ্গে যুক্ত করবে। প্রায় তিন দশমিক ১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ ভায়াডাক্টে থাকবে ৮১টি পিলার। রেললাইনের জন্য দুই প্রান্তে ৫৩২ মিটার ভায়াডাক্ট নির্মাণ করা হবে ১৪টি পিলারের ওপর।
উল্লেখ্য: বর্তমানে নদী পার করার জন্য গাড়িচালকদের বিকল্প পথে দীর্ঘ ও ত্রুটিপূর্ণ রাস্তা ব্যবহার করতে হয়। একবার সেতু তৈরি হয়ে গেলে গাড়ি চালানোর খরচ উল্লেখযোগ্য হারে কমে যাবে। সেই সঙ্গে ভ্রমণের সময় যে পরিমাণ বাঁচবে, তা পুরো প্রকল্পের মোট সুফলের প্রায় এক-চতুর্থাংশ বলে বিবেচিত হবে। সেতু নির্মাণ শেষ হওয়ার ৩১ বছরের মধ্যে এ দুই উৎস থেকে রাস্তা ব্যবহারকারীদের সামগ্রিক সুবিধার সম্ভাব্য পরিমাণ হবে ১ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা।
অর্থনীতিবিদেরা অনুমান করেন যে তিন দশকের মধ্যে সেতুটি প্রতিদিন ৭৫ হাজার যান চলাচলের জন্য পূর্ণ ধারণক্ষমতায় পৌঁছাতে পারবে। সেই যানবাহনের এক-তৃতীয়াংশ হবে ট্রাক, যেগুলো পণ্য বহন করবে ও ব্যবসা-বাণিজ্যকে জোরদার করবে। ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশের ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক কাজী মাহমুদুর রহমান ও অর্থনৈতিক উপদেষ্টা মো. তারিকুর রহমানের গবেষণায় পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যকে উৎসাহিত করার উদ্দেশ্যে যানবাহন চুক্তিগুলো থেকে প্রাপ্য সম্ভাব্য সুবিধাগুলো পরীক্ষা করে দেখা হয়েছে।

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

4 6 26 544

আগামী একবছর কী করবেন খলিলুর রহমান

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ০৪ জুন ২০২৬ মাসস জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ পরিষদ অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র …

Leave a Reply

Your email address will not be published.