ঢাকা । ১২ ডিসেম্বর ২০১৬ । ২৮ অগ্রহায়ণ ১৪২৩


সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, জাজিরায় সেতুর ট্রানজিশন পিলারের কাজ ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে। মূল সেতুর শেষ প্রান্তে ৪২ নম্বর পিলারে চলছে পাইল স্থাপনের কাজ। জাজিরা প্রান্তের পাইলটিই মূল সেতু এবং সংযোগ সেতুর বন্ধন তৈরি করবে। তাই ট্রানজিশন পিলারে ১৬টি পাইল স্থাপন হচ্ছে। জাজিরা প্রান্তে রীতিমতো চলছে কাজের ধুম। পাইল স্থাপন হয়ে যাওয়ায় ৩৭ নম্বর পিলারকে কংক্রিটিং করে পরবর্তী কাজগুলো এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ৩৮ নম্বর পিলারে ছয়টি পাইল ও ৩৯ নম্বর পিলারে বসেছে চারটি পাইল। এ ছাড়া নদীর ভেতরে আরো সাতটি পিলারে তিনটি করে পাইল স্থাপন হয়ে গেছে। সব মিলিয়ে নদীতে ৩৭টি পাইল স্থাপন হয়েছে।
পদ্মা সেতু প্রকল্পের নির্বাহী প্রকৌশলী (মূল সেতু) দেওয়ান আবদুল কাদের বলেন, ‘সেতুর জন্য মোট ৪১টি স্টিল ট্রাস তৈরি করতে হবে। দেখতে একই রকম হলেও এগুলোর একটি থেকে আরেকটি আকারে বা আয়তনে ভিন্ন। একটি ট্রাস সম্পূর্ণ প্রস্তুত হয়েছে। আরও দুটি জোড়া দেওয়ার কাজ চলছে। আরও একটি চট্টগ্রাম থেকে আজকালের মধ্যে রওনা হবে।’ তিনি জানান, চীনের শিংহোয়াওদাওয়ে আরও একটি ট্রাসের সব অংশ বাংলাদেশে পাঠানোর জন্য ডাম্পিং করা হচ্ছে। আরও ছয়টি তৈরি হচ্ছে।

চীন থেকে আনা স্প্যানগুলো জোড়া লাগানো হচ্ছে মূল সেতুর ঠিকাদার চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং করপোরেশনের (এমবিইসি) কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে। গত শনিবার সরেজমিনে দেখা যায়, তৈরি হওয়া স্প্যানটির ‘লোড টেস্টিং’ (ভারসহন পরীক্ষা) চলছে। মূল সেতু ও নদীশাসন কাজের পরামর্শক ‘কনসালটেশন সুপারভিশন কনসালট্যান্সি (সিএসসি) সার্ভিসের প্রকৌশলীরা সরেজমিনে দেখছেন, স্প্যানটি যানবাহন ও ট্রেনের ভার বহনে সক্ষম কি-না। তা দেখতেই স্প্যানের স্বাভাবিক ধারণ সক্ষমতার দেড়গুণ ওজন চাপানো হচ্ছে। যদি আকার-আকৃতির পরিবর্তন হয় কিংবা ভারে ভেঙে পড়ে তাহলে সেই স্প্যানকে বাতিল করা হবে। আশার কথা, সফলভাবেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হচ্ছে প্রথম স্প্যানটি। ‘পরীক্ষক’ সিএসসির সহ-আবাসিক প্রকৌলশী (সুপার স্ট্রাকচার) এস এম নাজমুল কবির জানান, আগামী ১৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত পরীক্ষা চলবে। এর পরই নদীতে নামার জন্য প্রস্তুত হবে স্প্যানটি।
বিশাল আকারের কারণেই কৌতূহলের শেষ নেই স্প্যানকে নিয়ে। ঘুরেফিরে দেখা হয় সেটিকে। কনস্ট্রাকশন ইয়ার্ডে নদীর তীর ঘেঁষে অস্থায়ী পিলারের ওপর বসানো স্প্যানের ইস্পাতের পুরুত্ব দেখে চমকে যেতে হয়। ৬০ মিলিমিটার! না হয়েই উপায় কী! এটিই সেতুর মূল কাঠামো। ৪২টি পিলারের ওপর থাকবে ৪১টি স্প্যান। একটি আরেকটির সঙ্গে সংযুক্ত হবে শক্তিশালী তারের জোড়ার মাধ্যমে। এর ভেতর বসবে রেললাইন। ওপরে থাকবে ‘কংক্রিট সেগমেন্ট’। দুই মিটার প্রস্থের প্রায় তিন হাজার কংক্রিট সেগমেন্ট একটির সঙ্গে আরেকটি যুক্ত করে তৈরি হবে ছয় দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতু। যে দুটি স্প্যান জোড়া দেওয়ার কাজ চলছে সেগুলো বসবে ৩৭-৩৮ এবং ৩৮-৩৯ নম্বর পিলারে। বিশালাকারের এই স্প্যানগুলো তীর থেকে নদীতে নিয়ে যেতে ও পিলারের ওপর বসাতে চীন থেকে তিন হাজার ৬০০ টন ক্ষমতাসম্পন্ন ক্রেন আনা হয়েছে বলে জানালেন নির্বাহী প্রকৌশলী দেওয়ান আবদুল কাদের।
মাওয়া প্রান্তে ৬ ও ৭ নম্বর পিলারের ওপর বসানো প্রথম স্প্যানটি এখনও কংক্রিটের আকার পায়নি। প্রতিটি পিলারের জায়গায় নদীর বুকে জেগে আছে তিনটি করে বিশালাকারের পাইপ। এগুলোই হলো পাইলিং। প্রতি পিলারে চারটি পাইলিং করা হয়েছে। একটি পানির নিচে, তাই দেখা যাচ্ছে না। পানির ওপর ভাসমান তিনটি পাইপের ভেতর কনক্রিট ঢালাইয়ে ঠাঁসা_ মাটির ১১৭ মিটার গভীরে পোঁতা। এসব পিলার আগামী এক মাসে চূড়ান্ত আকার পাবে বলে আশা করছেন প্রকৌশলীরা।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম