…সুন্দরভাবে কবিতা উপস্থাপন ও আবেগে বিহবল হওয়াই কবিতার মুখ্য বিষয় নয়, বরং কবিতা আমাদের অনেক বেশি দায়িত্ব ও কর্তব্য কাঁধে নেয়ার কথা বলে। আর সেটি হল সমাজ বিনির্মাণ।…
মাস্টারি বিডি ডটকম । শান্তা ইসলাম
ঢাকা । ১৯ অক্টোবর ২০১৭ । ০৪ কার্তিক ১৪২৪
বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের বার্ষিক কাউন্সিল আগামী ২০ অক্টোবর, শুক্রবার। শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় সঙ্গীত, আবৃত্তি ও নৃত্যকলা মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হবে দিনব্যাপী বার্ষিক কাউন্সিল। এতে সারাদেশের তিন শতাধিক আবৃত্তি সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত থাকবেন।
এ উপলক্ষে আজ (বৃহস্পতিবার) ১৯ থেকে ২১ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী জাতীয় প্রায়োগিক আবৃত্তি কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে।
সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর আজ বৃহস্পতিবার সকালে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার সামনে আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের কর্মীদের পরিবেশনায় জাতীয় সঙ্গীত শেষে বিপুলসংখ্যক আবৃত্তিকর্মীর উপস্থিতিতে বেলুন উড়িয়ে কর্মশালার শুভ উদ্বোধন করেন।
এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ঝুনা চৌধুরী ও বাংলাদেশ পথনাটক পরিষদের সভাপতি মান্নান হীরা।
উদ্বোধনকালে অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর বলেন, সুন্দরভাবে কবিতা উপস্থাপন ও আবেগে বিহবল হওয়াই কবিতার মুখ্য বিষয় নয়, বরং কবিতা আমাদের অনেক বেশি দায়িত্ব ও কর্তব্য কাঁধে নেয়ার কথা বলে। আর সেটি হল সমাজ বিনির্মাণ।
আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেলায়েত হোসেনের সভাপতিত্বে ও বরেণ্য আবৃত্তিজন গোলাম সারোয়ারের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি গোলাম কুদ্দুছ, বাংলাদেশ পথনাটক পরিষদের সভাপতি মান্নান হীরা, বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ঝুনা চৌধুরী প্রমুখ। এছাড়া স্বাগত বক্তব্য রাখেন আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আহ্কাম উল্লাহ্।
সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, যেমনিভাবে ভুল উচ্চারণ কানে লাগে তেমনি ভুল বানানও চোখে লাগে। কণ্ঠ ও উচ্চারণের বাইরে যেটি প্রয়োজন, সেটি হল কবিতার গভীরে প্রবেশ করা। কবিতাকে ধারণ করতে হবে আদর্শের জায়গা থেকে- আর সেটিই আমাদের বড় শক্তি। সব রকম অন্যায়-অত্যাচার বিরুদ্ধে প্রতিবাদমুখর হতে আবৃত্তি শিল্পীরা যে অস্ত্র নিয়ে দাঁড়ায়- সেটি হচ্ছে কবিতা।
আসাদুজ্জামান নূর বলেন, বঙ্গবন্ধু যে স্বপ্ন নিয়ে বাংলাদেশ স্বাধীন করেছিলেন, এখন চলছে তা বাস্তবায়নের সংগ্রাম এবং তা অব্যাহত রাখতে হবে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির যে ঊর্ধ্বমুখী সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে তারই অংশ হিসেবে জাতীয় চিত্রশালা ভবনের উপরিভাগে সংস্কৃতিকর্মীদের আবাসনের সুবিধার্থে ডরমিটরির ব্যবস্থা রাখা হবে।
এসময় তিনি নাটক ও আবৃত্তিকর্মী তথা সংস্কৃতিকর্মীদের প্রতিটি পাড়া-মহল্লা ও প্রতিটি বিদ্যালয়ে গিয়ে নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের সংস্কৃতি চর্চায় উদ্বুদ্ধ ও অনুপ্রাণিত করার আহ্বান জানান।
কর্মশালায় প্রতিদিন সন্ধ্যায় দু’টি করে আবৃত্তি প্রযোজনা পরিবেশিত হবে।
কর্মশালায় বিষয়ভিত্তিক প্রশিক্ষণ দেবেন অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ, আশরাফুল আলম, ড. ভাস্বর বন্দ্যোপাধ্যায়, অধ্যাপক নিরঞ্জন অধিকারী, অধ্যাপক রূপা চক্রবর্তী, মীর বরকত, গোলাম সারোয়ার, হাসান আরিফ, কামালউদ্দিন কবির, শিমুল মুস্তাফা, মো. আহ্কাম উল্লাহ্, মাহিদুল ইসলাম, ইশরাত নিশাত ও রাহুল আনন্দ।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম