মাস্টারি বিডি ডটকম
সাতক্ষীরা ।। ১৮ নভেম্বর ২০১৬ ।। ০৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৩
১৯৭১ সালে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে খুলনা বিভাগে প্রথম পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর কবল থেকে মুক্ত হয় সাতক্ষীরা জেলার সুন্দরবন সংলগ্ন শ্যামনগর থানা। সুন্দরবনের রয়েল বেঙ্গল টাইগার যেমন পৃথিবীব্যাপী খ্যাত একটি সাহসী জীব হিসেবে, তেমনি শ্যামনগরের বীর মুক্তিযোদ্ধারা বীর বিক্রমে লড়াইয়ের করে হানাদার বাহিনী পরাজিত করে শ্যমনগরকে মুক্ত করতে সক্ষম হয়। উড্ডীন হয় সেখানে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা।
এ শ্যামনগরকে মুক্ত করতে বৃহত্তর খুলনার বরিশাল, পটুয়াখালী, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা, কুষ্টিয়া, ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকার মুক্তিযোদ্ধারা অংশগ্রহণ করে হানাদার বাহিনীর সাথে প্রাণপণ লড়াই করেন।
উল্লেখ্য এই শ্যামনগরে ৭১’র ৭ আগস্ট মুক্তিযোদ্ধাদের সাথে প্রথম হানাদার বাহিনীর সাথে যুদ্ধ হয়। এ যুদ্ধ ৩ ঘন্টাব্যাপী স্থায়ী হয়। যা ‘ শ্যামনগর-গোপালপুর’ যুদ্ধ নামে পরিচিত। এ যুদ্ধে ৪ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের নাম সুবেদার ইলিয়াস, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবুল কালাম আযাদ ও ২ জনের নাম অজ্ঞাত। উভয় পক্ষের গোলাগুলিতে সাধারণ জনগণের মধ্যে নিহত হন আলী মন্ডল, ফকির আহম্মদ,নিতাই দাস প্রমূখ। আহত হয় পৌর দাস, সুবল মৃধাসহ মোট ১২ জন। লেঃ মাহফুজ বেগের নেতৃত্বে এ যুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন শ্যামনগর সদর নকিপুর ও চন্ডিপুর গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা গাজী আবুল হোসেন, সরদার মিজনুর রহমান (স্থানীয় কমান্ডার), আরো একজন স্থানীয় কমান্ডার ডি,এম ইব্রাহিম খলিল, আব্দুল বারেক গাজী, হাশেম আলী, ইন্তাজ, নিরাপদ মন্ডল, রবীন্দ্রনাথ মন্ডল, হাবিল, ফজলু, আব্দুল লতিফ, মজিদ, সাত্তার ,কেয়া তলার জি,এম আব্দুল মজিদ, গোপালপুরের আব্দুল মজিদ, হায়বাতপুরের এস কে মাহফুজ, বাদঘাটার শাহাদাৎ হোসেন, নওশের, মুজিবর, কলবাড়ীর নিরাপদসহ আরো অনেকে। আটুলিয়ার আমজাদ হোসেন, কাশিমাড়ীর শামছুর রহমান আরো অনেকে ।
এরপর আরো ৪টি যুদ্ধ সংঘটিত হয় হানাদার বাহিনীর সাথে মুক্তি বাহিনীর। এসব যুদ্ধে হানাদার বাহিনীর ৫ জন সদস্য নিহত হয়। শেষ যুদ্ধে স্বাধীনতাকামী ২৮ জন সাধারণ মানুষকেহানাদার বাহিনী হত্যা করে এবং বেশ কয়েকজনকে আহত করে।
১৮ নভেম্বর ১৯৭১ দিবাগত রাতে শ্যামনগর আক্রমণের জন্য মুক্তিযোদ্ধারা অবস্থান নেন এবং পরিকল্পনা মাফিক তারা আক্রমণ শুরু করেন। আক্রমণের মুখে টিকতে না পেরে ওই রাতে হানাদার বাহিনী শ্যামনগর সদরের পুর্ব দিকে বিলের মধ্যে দিয়ে পাটনিপুকুর হয়ে পিছু হটে যায়। তারা আর ফিরে আসেনি। ফলে ১৯ নভেম্বর শ্যামনগরমুক্ত হয়।
১৯ নভেম্বর ছিলো ঈদুল ফিতরের দিন। ওই দিন শ্যামনগরে খুলনা বিভাগের মধ্যে সর্ব প্রথম উড্ডীন হয় স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা। স্বাধীনতাকামী মানুষ ‘জয় বাংলা’ ধ্বনি দিয়ে সমগ্র বাংলাদেশকে মুক্ত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
আগামীকাল দিবসটি উপলক্ষে শ্যামনগরে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের আয়োজনে পালিত হবে নানা কর্মসূচি। এতে সাতক্ষীরা-৪ সংসদ সদস্য জগলুল হায়দার, শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু সায়েদ মোহাম্মদ মঞ্জুর আলম, শ্যামনগর প্রেসক্লাবের সভাপতি জিএম আকবর কবির, সাধারণ সম্পাদক জাহিদ সুমনসহ বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত থাকবেন। আর এসব কর্মসূচিতে সভাপতিত্ব করবেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার দেবীরঞ্জন মন্ডল।
সূত্র:বাসস
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম