মাস্টারি বিডি ডটকম ।
ঢাকা । ০৬ নভেম্বর ২০১৭ । ২২ কার্তিক ১৪২৪
সৌদি আরবের রাষ্ট্র ও সমাজ কাঠামোতে সম্প্রতি ব্যাপক পরিবর্তন ও সংস্কার লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এর মধ্যেই সৌদি নারীরা ড্রাইভিং সিটে বসার অধিকার পেয়েছে। স্টেডিয়ামে যাবার অনুমতি মিলেছে তাদের। এখন শুরু হয়েছে দুর্নীতি বিরোধি অভিযান। ইতোমধ্যে ধনকুবের যুবরাজ আলওয়ালিদ বিন তালালসহ কমপক্ষে ১৭ জন যুবরাজ, বর্তমান ও সাবেক মিলিয়ে ৩৮ জন মন্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে সৌদি সরকার। তবে তাদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ আনা হয়েছে সেসব বিষয় এখনও স্পষ্ট করেনি সৌদি কর্তৃপক্ষ।
সৌদি টেলিভিশন আল আরাবিয়ার খবরে বলা হয়েছে, জেদ্দায় ২০০৯ সালের বন্যা ও ২০১২ সালে সৌদি আরবে মার্স ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব নিয়ে দেশটিতে নতুন করে তদন্ত শুরু হয়েছে। রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত বার্তা সংস্থা এসপিএ জানিয়েছে, যুবরাজের নেতৃত্বে গঠিত দুর্নীতি দমন কমিটিকে গ্রেফতারি পরোয়ানার পাশাপাশি ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা জারিরও ক্ষমতা দেয়া হয়েছে।
ন্যাশনাল গার্ড বিষয়ক মন্ত্রীর পদ থেকে প্রিন্স মিতেব বিন আবদুল্লাহকে সরিয়ে খালেদ বিন আইয়াফকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আদেল আল ফাকিহর বদলে এসেছেন ওই মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী মোহাম্মদ আল-তোইজরি।
সৌদি আরবের প্রয়াত বাদশাহ আবদুল্লাহ বিন আব্দুল আজিজের ছেলে মিতেবকে এক সময় সিংহাসনের অন্যতম দাবিদার বলে মনে করা হতো। রাজপরিবারে আবদুল্লাহর বংশধরদের মধ্যে কেবল তিনিই সৌদি সরকারের সর্বোচ্চ স্তরে ছিলেন। প্রতিরক্ষামন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করে আসা যুবরাজ মোহাম্মদের এ রদবদলের ফলে পুরো দেশের সব নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর তার প্রাথমিক নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলো।
ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানকে প্রধান করে দুর্নীতিবিরোধী একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।শনিবার রাজকীয় এক ডিক্রি জারি করে গঠন করা হয় এই কমিটি। কিংডম হোল্ডিং গ্রেপ্তারকৃত যুবরাজ আলওয়ালিদ বিন তালালের বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান । তিনি বিশ্বের শীর্ষ ধনীদের মধ্যে অন্যতম। নিউজ করপোরেশন, সিটি গ্রুপ, টুইটার ও অনেক কোম্পানিতে তার শেয়ার আছে।
যুবরাজ আলওয়ালিদ আরব দুনিয়াজুড়ে স্যাটেলাইট টেলিভিশন নেটওয়ার্ক নিয়ন্ত্রণ করেন। নিউ ইয়র্ক টাইমস লিখেছে, সর্বশেষ এই গ্রেপ্তারির মাধ্যমে ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান ক্ষমতাকে আরো সুদৃঢ় করার চেষ্টা করছেন। প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান হলেন বর্তমান বাদশা সালমানের প্রিয় পুত্র ও শীর্ষ উপদেষ্টা। ৩২ বছর বয়সী এই যুবরাজ এরই মধ্যে সৌদি আরবের সামরিক বাহিনী, পররাষ্ট্রনীতি, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পলিসিসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিজের প্রাধান্য বিস্তার করেছেন।
সম্প্রতি রিয়াদে এক অর্থনৈতিক সম্মেলনে তিনি বলেন, সৌদি আরবের আধুনিকায়নের ক্ষেত্রে তার পরিকল্পনার মূলমন্ত্র হবে ইসলামের কট্টর অবস্থান থেকে উদার নীতিতে ফিরে আসা। দেখা যাক, কি হয়!
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম