মাস্টারি বিডি ডটকম
গাজীপুর । ২৩ মার্চ ২০১৭ । ০৯ চৈত্র ১৪২৩
ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত জঙ্গি নেতা মুফতি আব্দুল হান্নান ও শরীফ শাহেদুল আলম বিপুলকে মৃত্যু পরোয়ানা পড়ে শুনানো হয়েছে।
বুধবার সন্ধ্যায় মৃত্যু পরোয়ানা কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কারাগারে এসে পৌঁছায়। পরে তাদের দু’জনকে তা পড়ে শুনানো হয়।
বংলাদেশে যুক্তরাজ্যের সাবেক হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা মামলায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আসামি হরকাতুল জিহাদ (হুজি) নেতা মুফতি হান্নান রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করবেন বলে জানিয়েছেন।
বুধবার সকাল ১০ টার দিকে কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে মুফতি হান্নান ও শাহেদুল আলম ওরফে বিপুলকে তাদের রিভিউ আবেদন খারিজের রায় পড়ে শোনানো হয়। এরপর তারা দুহজনেই রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করবেন বলে অভিমত জানান।
কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার মো. মিজানুর রহমান রাষ্ট্রপতির কাছে প্রাণভিক্ষার আবেদন করার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, এর আগে মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১২ টার দিকে রায়ের কপি কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে পৌঁছায়। রাত গভীর হওয়ায় তখন তাদের এ রায় পড়ে শোনানো হয়নি।
বুধবার সকাল ১০ টার দিকে মুফতি হান্নানসহ দুই জঙ্গিকে রিভিউ আবেদন খারিজের রায় পড়ে শোনানো হয়।

রায় কার্যকরের ব্যাপারে জেল সুপার বলেন,‘সকল প্রকার আইনি প্রক্রিয়া শেষে সংশি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পেলেই কেবল রায় কার্যকরের ব্যবস্থা নেবে কারা কর্তৃপক্ষ। আর সরকারি আদেশ বাস্তবায়নের জন্য কারা কর্তৃপক্ষ প্রস্তুত রয়েছে।’
২০০৪ সালের ২১মে সিলেটের হযরত শাহজালালের (রহ.) মাজারে বাংলাদেশে তৎকালীন ব্রিটিশ হাইকমিশনার আনোয়ার চৌধুরীর ওপর গ্রেনেড হামলা হয়।
এ হামলায় পুলিশের দুই কর্মকর্তাসহ তিনজন নিহত এবং আনোয়ার চৌধুরীসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হন।
এ ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার রায়ে ২০০৮ সালের ২৩ ডিসেম্বর বিচারিক আদালত ৫ আসামির মধ্যে মুফতি হান্নান, বিপুল ও রিপনকে মৃত্যুদন্ড এবং মহিবুলল্লাহ ও আবু জান্দালকে যাবজ্জীবন কারাদন্ড দেন। মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত মুফতি হান্নান ও শরীফ শাহেদুল ওরফে বিপুলকে গাজীপুরের কাশিমপুর হাই সিকিউরিটি কেন্দ্রীয় কারাগারে এবং দেলোয়ার হোসেন রিপনকে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখা হয়েছে।
নিয়ম অনুযায়ি মৃত্যুদন্ড অনুমোদন করতে প্রয়োজনীয় নথি হাইকোর্টে পাঠানো হয়। পাশাপাশি ২০০৯ সালে আসামিরা আপিলও করেন।
হাইকোর্টে ২০১৬ সালের ৬ জানুয়ারি এ মামলার শুনানি শুরু হয়ে ৩ ফেব্রুয়ারি শেষ হয়। বিচারিক আদালতের দন্ড বহাল রেখে ১১ ফেব্রুয়ারি রায় ঘোষণা করেন হাইকোর্ট।
গত বছরের ২৮ এপ্রিল হাইকোর্টের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়। একই বছরের ১৪ জুলাই আপিল করেন দুই আসামি হান্নান ও বিপুল।
মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত অপর আসামি রিপন আপিল না করলেও আপিল বিভাগ তার জন্য রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী নিয়োগ করেন। আপিলের শুনানি শেষে গত বছরের ৭ ডিসেম্বর আসামিদের আপিল খারিজ হয়ে যায়।
এ বছরের ১৭ জানুয়ারি এ রায় প্রকাশের পর আসামিরা রিভিউ করেন। পরে ১৯ মার্চ রিভিউ খারিজের রায় দেওয়া হলেও মঙ্গলবার এ রায় প্রকাশিত হয়।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম