Home / এই দিন / আহসান হাবীব : চল্লিশের অন্যস্বর
ahsanhabibmbd-ok

আহসান হাবীব : চল্লিশের অন্যস্বর

…বাংলা সাহিত্যের কীর্তিমান কবি ও লেখক আহসান হাবীব আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন ১৯৮৫ সালের ১০ জুলাই। তাঁর জন্মদিনে তাঁকে স্মরণ করি শ্রদ্ধায়- ভালোবাসায়…

 

আহসান হাবীব বাংলা সাহিত্যে এক অনিবার্য নাম। চল্লিশের কবিদের থেকে তাকে খুব সহজেই আলাদা করা যায়। চল্লিশের কবিদের মধ্যে তিনি ছিলেন অনন্য। বহুমাত্রিক প্রতিভায় আহসান হাবীব একাধারে কবি, সাংবাদিক এবং যশস্বী সাহিত্য সম্পাদক।

কবিতার পাশাপাশি উপন্যাস, গল্প, শিশুতোষ রচনা, অনুবাদ, প্রবন্ধ, নিবন্ধ এবং স্মৃতিকথাও লিখেছেন তিনি। কবি খ্যাতির শীর্ষে অবস্থান করেও আহসান হাবীব তার অন্যান্য রচনাতেও ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। বিশেষত তার ‘অরণ্য নীলিমা’ (উপন্যাস-১৯৬২), কাব্যানুবাদ ‘খসড়া’ (১৯৮৫), কিশোর উপন্যাস ‘রাণী খালের সাঁকো’ (১৯৭৭), ‘বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর’ (ছড়া-১৯৭৭), ‘জোছনা রাতের গল্প’ (১৯৭৭) ব্যাপক পাঠকপ্রিয়তা অর্জন করে।

আহসান হাবীব বাংলা সাহিত্যে অনিবার্য নাম এ কারণে যে প্রচণ্ড জীবন সংগ্রামের মধ্যে তিনি নিজেকে নিয়োজিত রেখেছিলেন সাহিত্য সাধনায়। যৌবনে কলকাতায় মেসবাড়ির দুর্বিষহ জীবনের মধ্যে তিনি সময় বের করে নিভৃতে কাব্যচর্চা চালিয়ে গেছেন। জীবনের ওই চরম মুহূর্তের মধ্যেও তিনি ফলিয়েছেন কবিতার সোনার ফসল। বাংলা কবিতার ভুবনে যুক্ত করেছেন এক হিরন্ময় অধ্যায়। আমাদের এই বাংলায় উত্তরাধুনিক যুগ আর পথ নির্মাণে পথিকৃতের ভূমিকা পালন করেছেন আহসান হাবীব।

ahsanhabibpoetmbd-f

তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ ‘রাত্রি শেষ’ প্রকাশিত হয় ১৯৪৭ সালে। এ কবিতাগুলো তিনি রচনা করেন জীবনের গভীর দুঃখ-কষ্টের দিনগুলোতে। চারপাশের মানুষ, সমাজ, সমকাল, বাঙালি মধ্যবিত্তের জীবন সংগ্রাম, স্বপ্ন, প্রাপ্তি, স্বপ্নভঙ্গের বেদনা ও শ্রেণি বৈষম্য, রাজনৈতিক অস্থিরতা, বৃটিশ-বিরোধী আন্দোলন এসবই তার কবিতার পটভূমি হয়ে ওঠে। যুগ সচেতন, সমাজ সচেতেন কবি সমাজে বেড়ে ওঠা ধনতান্ত্রিক পুঁজিবাদী শ্রেণি আর তাদের সুষ্ঠু সামাজিক অসাম্য উপলব্ধি করেন গভীরভাবে। তিনি বৈষম্যের শিকার মানুষের অন্তর্বেদনা শিল্পিত রূপে মূর্ত করে তোলেন তার কবিতায়। তিরিশের ভাবধারায় লালিত হয়েও কবি তার মানসলোকে লালন করেছেন সংযমের বর্ণিল নকশি কাঁথা। তাই তার কবিতায় রুদ্রতা, হুংকার, ঝংকার নেই। এক স্নিগ্ধ কোমল নীরব বেদনা, নিঃশব্দ আর্তি রোমান্টিসিজমের মোড়কে তার কবিতা রন্ধ্রে রন্ধ্রে বহমান।

প্রকৃতির নিবিড় সখ্য মানুষের দোলাচল দগ্ধ জীবনকে আহসান হাবীব কবিতায় তুলে এনেছেন আপন দক্ষতায়। সেখানে শিল্পসুষমা অকৃপণভাবে দান করতে ভোলেননি তিনি। তার কবিতা হতে পেরেছে তাই বাতাসের মতো বেগবান। সমকাল, সমকালের মানুষ আহসান হাবীবের কবিতায় অনিবার্যভাবে উঠে এসেছে। সহজাত রোমান্টিকতা বাস্তবতার মিশেলে আহসান হাবীবের কবিতাকে ভিন্নমাত্রা দিয়েছে।

আমি তো এখন আপনার প্রজা নই,

আর তো আপনার মাখা তামাক খাই না।

নিজে মাখি নিজে খাই কোথাও যাই না

এখন হয়েছি নিজ স্বাধীন।

রাজনীতি আহসান হাবীবের কবিতায় সচেতন মানসভূমির উচ্চারণ হিসেবেই এসেছে। সেখানে শিল্পের দায়-দাবি পূরণে তিনি ছিলেন নিখুঁত যত্নশীল। কোনো ধরনের বাহুল্য, পক্ষপাতিত্ব, কূপমণ্ডূকতা সেখানে জায়গা পায়নি। মানুষের মৌলিক মানবাধিকার এবং সৌন্দর্য চেতনা সেখানে নতুন মাত্রা পেয়েছে। ওই প্রখরতায় উজ্জ্বল হয়ে সময়কে অতিক্রম করতে সক্ষম হয়েছেন কবি আহসান হাবীব। এখানেই তিনি উজ্জ্বল আলোকিত ঝলমলে। জীবন ও প্রকৃতি একই জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে আহসান হাবীবের কবিতায়। কদাকার জীবন ভাবনার শিল্পিত ভাষ্য হচ্ছে তার কবিতা।

বলা যায়, ‘ধন্যবাদ’ তার একটি সামাজিক বৈষম্যপীড়িত চিত্রবাহী কবিতা। ঊনবিংশ শতাব্দীতে পাশ্চাত্য প্রভাবে গড়ে ওঠা শহুরে এলিট শ্রেণি এবং তাদের জীবনযাপনে এদেশের অগণিত সাধারণ মানুষ ধরা ছোঁয়ার বাইরে, যে জীবনের খবর সাধারণ মানুষ জানে না। কিন্তু যখন জেনে যায়, তখন তারা নিঃশব্দে বেদনায় বিবর্ণ হয়। সমাজের এ বৈষম্য কাদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এবং কেন? এর জবাব আসলে তাদের কাছে নেই। আহসান হাবীব অসাধারণ শিল্প কুশলতায় এক কেরানির জবানিতে তুলে ধরেছেন বৈষম্যপীড়িত সমাজের এক মর্মান্তিক আলেখ্য।

‘দুই হাতে দুই আদিম পাথর’ ছিল তার ঐহিত্যের সঙ্গে আধুনিক উত্তরাধুনিকায় গভীর বন্ধন আর মানবিক শিক্ষা চেতনায় নিবিড় নিমগ্নতা, ‘তাই হাজার লোকের ভিড়ে একা’ স্বতন্ত্র দ্বীপের মতো সার্বভৌম পলিময় তার কবিতার একান্ত স্বদেশ। ‘বিদীর্ণ দর্পণে মুখ’ দেখেছেন দুঃসাহসে ভাঙা চৌচির লাবণ্যময় মুখের অজস্র রেখা ভেঙে গেলে কোন বাস্তবতা পায়, দেখেছেন তাও সততায়, সাহসে, নিষ্ঠায়। আর ক’জনই বা তা পারে? পারতেন কেবল তিনি কবি আহসান হাবীব। নিজেই নিজের ভুলভ্রান্তি খুঁজে আপন দরজায় পৌঁছে কেটেছেন জিভ। মোটেও কৌতুক নয়, গভীর গভীরতর দার্শনিক বোধ ছিল তার জীবন যাপনে সর্বদাই। তাই ছাই থেকে খুঁজেছেন জীবনের অমন-শুভ্র মাখা জুঁই ফুল স্বপ্নের চন্দনা।

আহসানে হাবীব বৈরী ও প্রতিকূল পরিবেশের প্রসঙ্গ অনুষঙ্গকে তার কবিতায় তুলে আনতে পেরেছেন চমৎকার কুশলতায়। সব রকম শোষণ-জুলুম, দুঃশাসন নির্যাতন তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন। এসবকে দেখেছেন মানবিক ঔদার্য্য দিয়ে, অন্তরঙ্গ আলোকের নিভৃত  ভূগোলে তিনি সময়ে ও অসময়ে মানুষকে জর্জরিত হতে দেখে ব্যথিত হয়েছেন, দুঃখের পংক্তিমালা সাজিয়েছেন।

‘যুদ্ধ যুদ্ধ খেলা’ তাকে যুগপৎ বেদনাহত ও তড়িতাহত করেছে। এ কারণেই দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসলীলা, পুঁজিবাদ, সাম্রাজ্যবাদের করাল ছায়া গ্রাস করেছে আমাদের প্রিয় পৃথিবীকে। তা তিনি প্রত্যক্ষ করেছেন এবং মানবিক প্রতীতিতে উদ্ধুদ্ধ হয়ে কলম ধরেছেন। সময়ের রিরঙসা আহসান হাবীবকে বিচ্যুত করেনি আপন পথ থেকে। বরং করেছে সময় সচেতন, দায়িত্ব সচেতন। সময়ের কথাকে তিনি তার কবিতায় এনেছেন আঙ্গিকের ভিন্নতায়।

আহসান হাবীব কলকাতায় ১৯৩৩-৩৪ সাল থেকে ১৯৪৯-৫০ সাল পর্যন্ত অবস্থান করেন। বলতে গেলে তার সাহিত্যচর্চার স্বর্ণযুগ ছিল ওই সময়ই। বিশেষ করে ১৯৩৭ থেকে ১৯৪৭ সাল পর্যন্ত এক দশক তিনি নিরলসভাবে লিখে গেছেন। জীবনের অধিকাংশ সেরা ও বিখ্যাত কবিতা ও গল্পগুলো তিনি লিখেছেন ওই সময়েই।

ahsanhabibpoetmbd-in-2

এ কথায় বলা যায়, আহসান হাবীব আমৃত্যু উত্তরণের এক একটি ধাপ পেরিয়ে তিনি আশির দশকের কবিদেরও প্রতিদ্বন্দ্বী হয়েই তারুণ্যে উজ্জ্বল ছিলেন। ১৯৩৭ থেকে ‘৪৭ সাল পরিসরে বিশ্বযুদ্ধ, দুর্ভিক্ষ তথা অভাব-অনটন, দারিদ্র্য অবনতি ঘটায় সবকিছুর, বিশেষত নৈতিকতা, শালীনতা ও মানবতার। জীবন হারায় জীবনের বৈশিষ্ট্য। আহত পঙ্গু জীবনের এই ব্যর্থতা-হাহাকার তার কবিতায় স্থান লাভ করেছে। এ জন্য অনেক সমালোচক তাকে হতাশার কবি হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

এ প্রসঙ্গে আহসান হাবীব নিজেই লিখেছেন- ‘আমি বুঝি না যেখানে হেরে যাওয়ার পালা, সেখানে খামোখা জিতিয়ে দিয়ে আত্মপ্রতারণায় কী লাভ? আমরা কি মনে রাখতে পারি না, এই হারাই সমাপ্তি নয়। বরং জয়ের ইঙ্গিত এখানেই আমরা কি মনে রাখবো না, বার বার হেরে গিয়ে জয়ের যে নেশা আমাদের বিষণ্নতাকে ক্রমান্বয়ে নতুন নির্মাণের কৌশল জোগায় তারই নাম জীবন।

আমি তো মনে করি, বিষণ্নতার যে বঞ্চনার ফলশ্রুতি সেই বঞ্চনাকে এ বিষণ্নতার মাধ্যমেই জীবনকে স্পষ্ট করে তুলি না কেন? বিষণ্নতাই আমার বঞ্চিত জীবনকে নিরাবরণ করে, নগ্ন করে তুলুক, প্রখর হয়ে উঠুক বিষণ্নতা, বঞ্চনা জ্বলে জ্বলে উঠুক।’

না আহসান হাবীব হতাশার কবি নন। তিনি আনন্দবাদী রোমান্টিক কবি। এসব কবিতা তার ‘রাত্রি শেষ’ কাব্যগ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। তবে অধিকাংশই হয়নি। যেগুলোর মধ্যে পাওয়া যাবে ‘আহসান হাবীবের সেরা প্রেমের কবিতাগুচ্ছ’- যথেষ্ট পরিণত বয়সে প্রকাশিত হয়। কিন্তু তাতেও তার অনেক রোমান্টিক, প্রেমের, বিরহের কবিতা সংকলিত হয়নি। আহসান হাবীবের বহু কবিতা, প্রবন্ধ, গল্প এখনও অগ্রন্থিত অবস্থায় বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।

কবি দেখেছেন জীবন বার বার বদলে যায় এবং কাল থেকে কালে সে জীবন প্রবহমান। প্রবহমানতা না থাকলে শুকিয়ে যেতো জীবন । পুরনো হতে হতে স্থবির হয়ে যেতো স্পন্দনতা। আর সুন্দরতা না থাকলে জীবন জীবন থাকে না। ফলে জীবন ও প্রকৃতি একই জায়গায় এসে দাঁড়িয়েছে আহসান হাবীবের কবিতায়। কদাকার জীবন ভাবনার শিল্পিত ভাষ্য হচ্ছে তার কবিতা।

কবি আহসান হাবীবের জন্ম ১৯১৭ সালের ২ জানুয়ারি। জন্মস্থান ও পৈতৃক আবাস বরিশালের শঙ্করপাশা গ্রামে। বাবা হামিজ উদ্দিন হাওলাদার এবং মা জমিলা খাতুন পাঁচ ভাই ও চার বোনের মধ্যে জ্যেষ্ঠ আহসান হাবীব ছোটবেলা থেকেই ছিলেন মৃদুভাষী, আত্মমগ্ন ও ভাবুক প্রকৃতির। নিসর্গের প্রতি তার ছিল প্রবল আকর্ষণ। শৈশবেই ভেতরে শেকড় গেড়েছিল কবিতার বীজ। ছাত্রজীবন থেকেই তার কবিতা লেখা শুরু হয়। প্রথম কবিতা ছাপা হয় পিরোজপুর সরকারি হাইস্কুল বার্ষিকীতে। কবিতার নাম ছিল ‘মায়ের কবর পাড়ে কিশোর’। তিনি প্রবেশিকা পরীক্ষা উত্তীর্ণ হন ১৯৩৪ সালে। তারপর ভর্তি হন বরিশাল ব্রজমোহন কলেজে। বাবার সঙ্গে মনোমালিন্য, বাকিটা কবি হওয়ায় বাসনায় কলেজে পড়াশোনা শেষ হওয়ার আগেই ১৯৩৬ সালের শেষের দিকে পাড়ি জমান কলকাতায়।

তারপর শুরু হয় তার সংগ্রামী জীবন। ফজলুল হক শেলবর্ষী সম্পাদিত ‘দৈনিক তদবীর’ পত্রিকায় মাসিক ১৭ টাকায় শুরু করেন জীবনের প্রথম চাকরি। তারপর তিনি বিভিন্ন সময় দৈনিক আজাদ, মাসিক বুলবুল, পাক্ষিক শওগত, শিশু শওগত, দৈনিক কৃষক ইত্যাদি কাগজে কাজ করেন। ১৯৪৩ সালে তিনি ‘অল ইন্ডিয়া রেডিও’র কলকাতা কেন্দ্রের স্টাফ আর্টিস্ট হিসেবে এবং একই সঙ্গে দৈনিক ইত্তেফাকের সাাহিত্য সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

১৯৪৭ সালে আহসান হাবীবের প্রথম কবিতায় বই  ‘রাত্রি শেষ’ প্রকাশিত হয় কথাশিল্পী সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর কমরেড পাবলিশার্স থেকে। ওই বছরই ২১ জুন তিনি বগুড়া জেলার নামাজগড়ের মহসীন আলী মিয়ার কন্যা সুফিয়া খাতুনকে বিয়ে করেন। তাদের দুই পুত্র, দুই কন্যা। ১৯৫০ সালে তিনি কলকাতা থেকে দেশে ফিরে আসেন। ফিরে এসেই দৈনিক ইত্তেফাকে সাহিত্য পাতা সম্পদনা শুরু করেন। পাশাপাশি সম্পাদনা করেন সাপ্তাহিক প্রবাহ। এক সময় ‘কথাবিতান’ নামে একটি প্রকাশনা সংস্থাও গড়ে তোলেন। সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহর ‘লালসালু’র দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয় তারই প্রকাশনা থেকে। অবশেষ ১৯৬৪ সালে যোগ দেন তৎকালীন দৈনিক পাকিস্তান পত্রিকায় সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে। আমৃত্যু অর্থাৎ ২১ বছর ধরে সফলভাবে তিনি ওই দায়িত্ব পালন করেছেন।

তার জীবনের দীর্ঘ সময় অতিবাহিত হয়েছে সাহিত্য সম্পাদক হিসেবে। তিনি আগাগোড়া তার আদর্শ ধরে রেখেছিলেন নিপুণ মর্মশৈলী এবং একনিষ্ঠতার মধ্য দিয়ে। তার সময়ের তরুণদের কাছে তিনি ছিলেন অসম্ভব জনপ্রিয়।

আহসান হাবীবের  প্রকাশিত কাব্যগ্রন্থ ৮টি। অন্যান্য লেখাসহ সব মিলিয়ে তার গ্রন্থের সংখ্যা ২৫। এর মধ্যে রয়েছে কাব্যগ্রন্থ- ‘রাত্রি শেষ’ ১৯৪৭, ‘ছায়া হরিণ’ ১৯৬২, ‘সারা দুপুর’ ১৯৬৪, ‘আশায় বসতি’ ১৯৭৪, ‘দুই হাতে দুই আদিম পাথর’ (১৯৮১), ‘প্রেমের কবিতা’ (১৯৮২) ও ‘বিদীর্ণ দর্পণে মুখ’ (১৯৮৫), কাব্যনুবাদ: ‘খসড়া’ ১৯৮৬, উপন্যাস: ‘অরণ্য নীলিমা’ ১৯৬২, শিশুসাহিত্য: ‘জোছনা রাতের গল্প’ ‘রাণী খালের সাঁকো, ‘বৃষ্টি পড়ে টাপুর টুপুর’ (১৯৭৭), ‘ছুটির দিন দুপুরে’ (১৯৭৮), অনুবাদ: ‘প্রবাল দ্বীপে তিন বন্ধু’ ‘অভিযাত্রী কলম্বাস’ (১৯৫৯), ‘রত্নদ্বীপ’, ‘রাজা বাদশা হাজার মানুষ’, ‘এসো পথ চিনে নিই’ ‘ইন্দোনেশিয়া’ (১৯৬৬), ‘ছোটদের পাকিস্তান’ ও ‘বোকা বোকাই’, সম্পাদিত গ্রন্থ : ‘বিদেশের সেরা গল্প’ ও ‘কাব্যলোক’ (১৯৬৮)।

কবি আহসান হাবীব বরাবরই ছিলেন নির্লিপ্ত অন্তর্মুখী এক মানুষ। বাংলা কবিতায় তার অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ পেয়েছেন একাধিক সাহিত্য পুরস্কার। এর মধ্যে রয়েছে- বাংলা একাডেমি পুরস্কার (১৯৬১), আদমজী সাহিত্য পুরস্কার (১৯৬৪), নাসির উদ্দিন স্বর্ণপদক (১৯৭৭), একুশে পদক (১৯৭৮), বাংলাদেশ লেখিকা সংঘ পদক (১৯৮১), আবুল হাসান স্মৃতি পুরস্কার প্রভৃতি।

বাংলা সাহিত্যের কীর্তিমান এই কবি ও লেখক আহসান হাবীব আমাদের ছেড়ে চলে গেছেন ১৯৮৫ সালের ১০ জুলাই। তার জন্মদিনে তাকে স্মরণ করি শ্রদ্ধায়- ভালোবাসায়।

-রিশিত খান

মাস্টারি বিডি ডটকম । ঢাকা । ০২ জানুয়ারি ২০১৭ । ১৯ পৌষ ১৪২৩

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

14 4 26 244

২৫ বছরেও শেষ হয়নি রমনার বটমূলে বোমা হামলা মামলার বিচার

ঢাকা, মঙ্গলবার ১৪ এপ্রিল ২০২৬ মাসস ২৫ বছর আগে রমনা বটমূলে পহেলা বৈশাখের অনুষ্ঠানে বোমা হামলার …

Leave a Reply

Your email address will not be published.