মাস্টারি বিডি | শান্তা ইসলাম
ফিচার | ঢাকা | ১৬ মে ২০১৯ | ০২ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৬
ফুলের নাম- রক্তন। মায়ানমার ও ভারতের প্রজাতি। মাঝারি আকারের পত্রমোচী গাছ। পাতা ২-পক্ষল, গাঢ় সবুজ, লম্বাটে। বসন্তে নতুন পাতা হয়। গ্রীষ্মকালে লম্বা ছড়ায় ছোট ছোট হালকা হলুদ ও সুগন্ধি ফুল ফোটে।

রক্তন ফুলের বীজ গাঢ় লাল ও শক্ত। বীজ ও ডালের কাটিং থেকে নতুন চারা করা যায়। ফুল খুব ছোট হওয়ায় অনেকের চোখেই পড়ে না কিন্তু শুঁটি ফেটে যাওয়ার পর গাছের নিচে লাল বীজ ছড়িয়ে থাকে। অনেকেই এই বীজকে রক্তচন্দনের বীজ বলেন। তবে এটি প্রচলিত ভুল। রক্তন আর রক্তচন্দন (Pterocarpus santalinus) আলাদা গাছ, এদের স্বভাব-বৈশিষ্ট্যও ভিন্ন। লাল বীজগুলো দেখতে খুব সুন্দর। চীনে একে বলা হয় xiang si dou. অর্থাৎ mutual love bean। অনেকে এই বীজ দিয়ে আংটি, মালা, দুল বানায়।

বিখ্যাত উদ্ভিদবিদ এডরেড করনার তার বইয়ে লিখেছেন, প্রাচীন ভারত উপমহাদেশে স্বর্ণকারেরা সোনার ভর পরিমাপে রক্তনের বীজ ব্যবহার করতেন। গাছের কাঠ খুব শক্ত, তাই আসবাবপত্র, নৌকা প্রভৃতি তৈরিতে কাজে লাগে। কাঠ থেকে রঞ্জক সংগ্রহ করা হয়।
তবে এদের বীজ বিষাক্ত, শোধন ছাড়া ওষুধে ব্যবহার করা যায় না। কচি পাতা ও গাছের ছালের রস বা কাথ্ ডায়রিয়ার চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, পাতার নির্যাসে এন্টিব্যাকটেরিয়াল ও বীজের নির্যাসে প্রদাহনাশক গুণাগুণ রয়েছে।

রক্তন ফুলের বৈজ্ঞানিক নাম- Adenanthera pavonina. পরিবার- Fabaceae. অন্যান্য নাম- Red Lucky Seed, Acacia Coral, Arbre À Église, Bead Tree, Circassian Seed, Corail Végétale, Coral Wood, Coralitos, Curly Bean. প্রভৃতি।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম