মাস্টারি বিডি । শান্তা ইসলাম
ফিচার । ঢাকা । ০১ মে ২০১৯ । ১৮ বৈশাখ ১৪২৬
বৈশাখের রাশি রাশি ফুলের ভিড়ে স্বর্ণচাঁপা একটা দারুণ ফুল। এই ফুলটির শোভা ভারি স্নিগ্ধ। সোনালি রঙের পাপড়িগুলো বেশ তুলতুলে, কোমল। এসবের সঙ্গে আছে দারুণ ঘ্রাণ।

তবে পাতার তুলনায় ফুলগুলো ছোট। তাছাড়া ফুল ফোটেও বেশ উঁচুতে। এ কারণে স্বর্ণচাঁপার ফুল চট্ করে আমাদের চোখে পড়ে না। তবে চোখে না পড়লে যে খুঁজে পাওয়া যাবে না- এমন কোনো কথা নেই। স্বর্ণচাঁপার চমৎকার মধুগন্ধই আমাদের আকৃষ্ট করে এবং তার কাছে যেতে বাধ্য করে।

একসময় নিসর্গ সজ্জায় গাছটি উপেক্ষিতই ছিল। তবে আজকাল পার্ক-উদ্যান ও পথপাশে কিছুটা সহজলভ্য হয়ে উঠেছে এটি। তবে এ ফুলটির প্রতি আমাদের যে কিঞ্চিৎ পক্ষপাত নেই তা কিন্তু বলা যাবে না। সেই প্রাচীনকাল থেকেই ফুলটি জনপ্রিয়তা পেয়েছে। মৈমনসিংহ গীতিকায় আছে- ‘চাইর কোনা পুষ্কুনির পারে চাম্পা নাগেশ্বর/ ডাল ভাঙ্গ পুষ্প তুল কে তুমি নাগর।’
চাঁপা ফুলকে আঞ্চলিক ভাষায় চাম্পা ফুল বলা হয়। প্রাচীন লোককথায়ও চাম্পা নামটিই এসেছে বারবার।

ফুলের ক্ষেত্রে চাঁপা নামটি আমাদের সুপরিচিত। তবে সব চাঁপাই চাঁপা নয়। প্রসঙ্গত, কনকচাঁপার কথা বলা যেতে পারে। নাম চাঁপা হলেও আদতে চাঁপা পরিবারের সদস্য নয় এটি। একটির সঙ্গে অন্যটির দুস্তর ফারাক। আলোচ্য চাঁপা সুষমা ও সুগন্ধের জন্য কাব্য, কলা, উপহার, অর্চনা সর্বত্রই ব্যবহৃত। এর স্নিগ্ধ বর্ণ ও উজ্জ্বল সৌরভ পবিত্রতার প্রতীক। হিন্দু ও বৌদ্ধদের কাছে এ গাছ অত্যন্ত পবিত্র। শ্রীলঙ্কায় বুদ্ধমূর্তি তৈরিতে এই কাঠ বহুল ব্যবহার্য।

স্বর্ণচাঁপা মূলত পাহাড়ি প্রজাতি। সমতলেও বৃদ্ধি স্বাভাবিক। বৈজ্ঞানিক নাম- michelia champaca. গাছের কাণ্ড সরল, উন্নত, মসৃণ এবং ধূসর। পাতা চ্যাপ্টা, উজ্জ্বল-সবুজ, একান্তরে ঘনবদ্ধ। ফুল একক, কাক্ষিক এবং ম্লান-হলুদ, রক্তিম কিংবা প্রায় সাদা। পাপড়িসংখা প্রায় ১৫।
পরিপূর্ণ প্রস্ফুটিত চাঁপা তীব্র সুগন্ধি। গ্রীষ্মের প্রথম ভাগ থেকে বর্ষা-শরৎ অবধি ফুল থাকে। ফুল শেষ হলে গুচ্ছবদ্ধ ফল ধরে। ফল দেখতে অনেকটা আঙুরের মতো।
মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম