গ্রীষ্মে ফোটে অসম্ভব সুন্দর বেগুনি রঙের থোকা থোকা ফুল। জারুল ফুলগুলো থাকে শাখার ডগায়, পাতার ওপরের স্তরে।…

মাস্টারি বিডি । শান্তা ইসলাম
ফিচার । ঢাকা । ০৮ এপ্রিল ২০১৯ । ২৫ চৈত্র ১৪২৫
কালজয়ী কবি জীবনানন্দ দাশের কবিতায় জারুল এসেছে স্বমহিমায়। তিনি লিখেছেন:
`এই পৃথিবীর এক স্থান আছে – সবচেয়ে সুন্দর করুণ
সেখানে সবুজ ডাঙ্গা ভরে আছে মধুকুপী ঘাসে অবিরল,
সেখানে গাছের নাম: কাঁঠাল, অশ্বত্থ, বট, জারুল, হিজল।’
চৈত্রের মাত্র কয়েকটা দিন হাতে আছে আর এককম সময়েই জারুল ফুটতে শুরু করে। গ্রীষ্মকে বর্ণিল করতে জারুলের জুড়ি মেলা ভার। একসময় গ্রামবাংলায় জারুলের সাম্রাজ্য ছিল, এখন সংখ্যায় কমেছে। ঢাকার বিভিন্ন পার্ক, উদ্যান ও পথের পাশে বেশ কিছু গাছ চোখে পড়ে। সবচেয়ে বেশি গাছ দেখা যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও সোহরাওয়ার্দী উদ্যান এলাকায়। কৃষ্ণচূড়া ও সোনালুর সঙ্গে রঙের বৈপরীত্য সৃষ্টিতে জারুল তুলনাহীন।

জারুলের ইংরেজি নাম : Giant Crape-myrtle, Queen’s Crape-myrtle, Banabá Plant, Pride of India.; বৈজ্ঞানিক নাম : Lagerstroemia speciosa লেজারস্ট্রমিয়া স্পেসিওজা। বাংলাদেশের নিম্নভূমির একান্ত অন্তরঙ্গ তরুদের অন্যতম। লেজারস্ট্রমিয়া গণের এই উদ্ভিদ দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক প্রজাতি। এর পাতা বৃহৎ, আয়তাকৃতির মসৃণ ও দেখতে গাঢ় সবুজ।

এর পাতার পিঠের রঙ ঈষৎ ম্লান। জারুলের ফুলের বেগুনি বর্ণ যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি শোভন-সুন্দর তার পাপড়ির নমনীয় কোমলতা। ছয়টি মুক্ত পাপড়িতে গঠিত এর ফুল। যদিও এর রং বেগুনি, তবুও অনেক সময় এর রং সাদার কাছাকাছি এসে পৌঁছায়।

জারুলের বৈজ্ঞানিক নাম লেজারস্ট্রমিয়া স্পেসিওজা। নামটির প্রথমাংশ এসেছে সুইডেনের অন্যতম তরু অনুরাগী লেজারস্ট্রমের নাম থেকে। স্পেসিওজা ল্যাটিন শব্দ, অর্থ সুন্দর। জারুলের আদি নিবাস চীন, মালয় ও বাংলা-ভারতের জলাভূমি অঞ্চল। অর্থাৎ, জারুল ভারতীয় উপমহাদেশের নিজস্ব বৃক্ষ। মাঝারি আকৃতির এই বৃক্ষটি শাখা-প্রশাখাময়।

এর লম্বাটে পাতাগুলো পত্রদণ্ডের বিপরীতে সাজানো থাকে। এই পাতাঝরা বৃক্ষ শীতকালে পত্রশূন্য অবস্থায় থাকে। বসন্তে নতুন গাঢ় সবুজ পাতা গজায়। গ্রীষ্মে ফোটে অসম্ভব সুন্দর বেগুনি রঙের থোকা থোকা ফুল। জারুল ফুলগুলো থাকে শাখার ডগায়, পাতার ওপরের স্তরে। প্রতিটি ফুলের থাকে ছ’টি করে পাপড়ি, মাঝখানে পুংকেশরের সাথে যুক্ত হলুদ পরাগকোষ। গ্রীষ্মের শুরুতেই এর ফুল ফোটে এবং শরত পর্যন্ত তা দেখা যায়।

আধুনিক কবি আহসান হাবীব স্বদেশ কবিতায় লিখেছেন :
`এই ছবিটি চেনা।
মনের মধ্যে যখন খুশি
এই ছবিটি আঁকি
এক পাশে তার জারুল গাছে
দুটি হলুদ পাখি,…’

মাস্টারি সংবাদ মাস্টারি সংবাদে আপনাকে স্বাগতম