Home / এই দিন / কবিতায় বঙ্গবন্ধু
poet+poem+mbd

কবিতায় বঙ্গবন্ধু

কবিতায় বঙ্গবন্ধু

 

poet+goonda+mbd-ok

নির্মলেন্দু গুণ

পুনশ্চ মুজিবকথা

 

সূর্যগ্রহণের সময় সূর্য এবং চন্দ্রগ্রহণের সময় আকাশের চাঁদ

যেরকম গ্রহণগ্রস্ত মানুষের দৃষ্টিকে দখল করে, তিনিও ঠিক

সেভাবেই এই বঙ্গীয় বদ্বীপবাসীর দৃষ্টিকে দখল করেছিলেন;

আর নিজেকে পরিণত করেছিলেন জন্মভূমির নয়মমণিতে।

 

সূর্যমুখী যেমন সর্বদা সূর্যের দিকে স্থির করে রাখে তার মুখ,

অথবা প্রথম প্রেমে-পড়া তরুণ প্রেমিক যেরকম তার

প্রেমিকা-বিগ্রহে অপলক চোখে মগ্ন রহে, তনিও ঐ রকমই

তাঁর জন্মভূমির রুগণ-পান্ডুর মুখের ভিতরে তাকিয়ে ছিলেন।

 

তিনি বাংলার মুখের দিকে তাকিয়ে ছিলেন রবীন্দ্রনাথবৎ,

তিনি এই ভূখন্ডবাসীর দিকে তাকিয়ে ছিলেন নজরুলবৎ,

তিনি বাংলার মুখের দিকে তাকিয়ে ছিলেন জীবনানন্দবৎ।

তাই তাঁর চোখে ধরা পড়েছিল রূপসী বাংলার স্নিগ্ধ মুখশ্রী,

তাই তাঁর চোখে ধরা পড়েছিল-‘আমার সোনার বাংলা’-;

তাই তাঁর চোখে ধরা পড়েছিল মুক্তিস্বপ্ন, প্রিয় স্বাধীনতা।

 

তিনি তাঁর দেশকে ভালবেসেছিলেন হো চি মিনের মতো,

তিনি তাঁর জন্মভূমিকে ভালবেসেছিলেন লেনিনের মতো,

তাই বন্দি ভূখন্ডবাসীর অশ্রুতে দ্রব হয়েছিল তাঁর হৃদয়।

তাই তাঁর অন্তর্ভেদী দৃষ্টি-বিস্ফোরণে দ্রুত খসে পড়েছিলো

ধর্মীয় ঘোমটার আড়ালে লুকানো ছদ্মস্বাধীনতার মুখোশ।

তাঁর চোখে ধরা পড়েছিলো মাতৃভূমির কলোনিকালিমা।

 

তাঁর দেশপ্রেম ছিলো প্রশ্নাতীত, তিনি ছিলেন প্রতিদ্বন্দীহীন,

তাঁর জাগতিক অস্তিত্বই ছিলো স্বাধীনতার অনন্ত ঘোষণা।

 

poet+mohadeb+saha+mbd

মহাদেব সাহা

তোমার পায়ের শব্দ

 

আমার টেবিলের সামনে দেয়ালে শেখ মুজিবের

একটি ছবি টাঙানো আছে

কোন তেলরঙ কিংবা বিখ্যাত স্কেচ জাতীয় কিছু নয়

এই সাধারণ ছবিখানা ১৭ মার্চ- এ বছর শেখ মুজিবের

জন্ম দিনে একজন মুজিব প্রেমিক আমাকে উপহার দিয়েছিলো

কিন্তু কে জানতো এই ছবিখানা হঠাৎ দেয়াল ব্যপে

একগুচ্ছ পত্র পুষ্পের মতো আমাদের ঘরময়

প্রস্ফুটিত হয়ে উঠবে রাত্রিবেলা

আমি তখন টেবিলের সামনে বসেছিলাম আমার স্ত্রী ও সন্তান

পাশেই নিদ্রামগ্ন

সহসা দেখি আমার ছোট্ট ঘরখানির দীর্ঘ দেয়াল জুড়ে

দাঁড়িয়ে আছেন শেখ মুজিব;

গায়ে বাংলাদেশের মাটির ছোপ লাগানো পাঞ্জাবি

হাতে সেই অভ্যস্ত পুরনো পাই

চোষে বাংলার জন্য সজল ব্যাকুলতা

এমনকি আকাশকেও আমি কখনো এমন গভীর ও জলভারানত

দেখিনি।

তার পায়ের কাছে বয়ে যাচ্ছে বিশাল বঙ্গোপসাগর

আর তার আলুথালু চুলগুলির দিকে তাকিয়ে

আমার মনে হচ্ছিলো

এই তো বাংলার ঝোড়ো হাওয়ায় কাঁপা দামাল নিসর্গ

চিরকাল তার চুলগুলির মতোই অনিশ্চিত ও কম্পিত

এই বাংলার ভবিষ্যৎ!

তিনি তখনো নীরবে তাকিয়ে আছেন, চোখ দুটি স্থির অবিচল

জানি না কী বলতে চান তিনি,

হঠাৎ সারা দেয়াল ও ঘর একবার কেঁপে উঠতেই দেখি

আমাদের সঙ্কীর্ণ ঘরের ছাদ ভেদ করে তার একখানি হাত

আকাশে দিকে উঠে যাচ্ছে-

যেমন তাকে একবার দেখেছিলাম ৬৯-এর গণআন্দোলনে

তিনি তখন সদ্য ষড়যন্ত্র মামলা থেকে বেরিয়ে এসেছেন

কিংবা ৭০-এর পল্পনে আর একবার ৭১-এর ৭ই মার্চের

বিশাল জনসভায়;

দেখলাম তিনি ক্রমে উষ্ণ, অধীর ও উত্তেজিত হয়ে উঠছেন

একসময় তার ঠোঁট দুটি ঈষৎ কেঁপে উঠলো

বুঝলাম এক্ষুনি হয়তো গর্জন করে উঠবে বাংলার আকাশ,

আমি ভয়ে লজ্জায় ও সঙ্কোচে নিঃশব্দে মাথা নিচু করে দাঁড়ালাম।

আমার মনে হেলা আমি যেন

মুখে হাত দিয়ে অবনত হয়ে আছি

বাংলাদেশের চিরন্তন প্রকুতির কাছে,

একটি টলোমলো শাপলা ও দিঘির কাছে,

শ্রাবণের ভরা নদী কিংবা অফুরন্ত রবীন্দ্রসঙ্গীতের কাছে

কিন্তু তার মুখ থেকে কোনো অভিযোগ নিঃসরিত হলো না;

তবু আমি সেই নীরবতার ভাষা বুঝতে চেষ্টা করলাম

তখন কী তিনি বলতে চেয়েছিলেন, কী ছিলো তার ব্যাকুল প্রশ্ন

ব্যথিত দুটি চোখে কী জানার আগ্রহ তখন ফুটে উঠেছিলো!

সে তো আর কিছুই নয় এই বাংলাদেশের ব্যগ্র কুশলজিজ্ঞাসা

কেমন আছে আট কোটি বাঙালী আর এই বাংলা বাংলাদেশ!

কী বলবো আমি মাথা নিচু করে ক্রমে মাটির সাথে মিশে

যাচ্ছিলাম-

তবু তাকে বলতে পারিনি বাংরার প্রিয় শেখ মুজিব

তোমার রক্ত নিয়েও বাংলায় চালের দাম কমেনি

তোমার বুকে গুলি চালিয়েও কাপড় সস্তা হয়নি এখানে,

দুধের শিশু এখনো না খেয়ে মরছে কেউ থামাতে পারি না

বলতে পারিনি তাহলে রাসেলের মাথার খুলি মেশিনগানের

গুলিতে উড়ে গেল কেন?

তোমাকে কিভাবে বলবো তোমার নিষ্ঠুর মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে

প্রথমে জয়বাংলা, তারপরে একে একে ধর্মনিরপেক্ষতা

একুশে ফেব্রুয়ারী ও বাংলাভাষাকে হত্যা করতে উদ্রত

হলো তারা,

এমনকি একটি বাঙালী ও বাংলাভাষাকে হত্যা করতে উদ্যত

হলো তারা,

এমনকি একটি বাঙালী ফুল ও একটি বাঙালী পাখিও রক্ষা পেলো না।

এর বেশি আর কিছুই তুমি জানতে চাওনি বাংলার প্রিয়

সন্তান শেখমুজিব!

কিন্তু আমি তো জানি ১৫ই আগষ্টের সেই ভোরবেলা

প্রথমে এই বাংলার কাক, শালিক ও খঞ্জনাই

আকাশে উড়েছিলো

তার আগে বিমানবাহিনীর একটি বিমানও ওড়েনি,

তোমার সপক্ষে একটি গুলিও বের হয়নি কোনো কামান থেকে

বরং পদ্মা-মেঘনাসহ সেদিন বাংলার প্রকৃতিই একযোগে

কলরোল করে উঠেছিলো।

আমি তো জানি তোমাকে একগুচ্ছ গোলাপ ও স্বণৃচাঁপা

দিয়েই কী অনায়াসে হত্যা করতে পারতো,

তবু তোমার বুকেই গুলির পর গুলি চালালো ওরা

তুমি কি তাই টলতে টলতে টলতে টলতে বাংলার ভবিষ্যৎকে

বুকে জড়িয়ে সিঁড়ির উপর পড়ে গিয়েছিলে?

শেখ মুজিব সেই ছবির ভিতর এতোক্ষণ স্থির তাকিয়ে থেকে

মনে হলো এবার ঘুমিয়ে পড়তে চান

আর কিছুই জানতে চান না তিনি;

তবু শেষবার ঘুমিয়ে পড়ার আগে তাকে আমার বলতে

ইচ্ছে করছিলো

সারা বাংলায় তোমার সমান উচ্চতার আর কোনো

লোক দেখিনি আমি।

তাই আমার কাছে বার্লিনে যখন একজন ভায়োলিন্তবাদক

বাংলাদেশ সম্বন্ধে জানতে চেয়েছিলো আমি

আমার বুক-পকেট থেকে ভাঁজ-করা একখানি দশ

টাকার নোট বের করে শেখ মুজিবের ছবি দেখিয়েছিলাম

বলেছিলাম, দেখো এই বাংলাদেশ;

এর বেশি বাংলাদেশ সম্পর্কে আমি আর কিছুই জানি না!

আমি কি বলতে পেরেছিলাম, তার শেষবার ঘুমিয়ে পড়ার

আগে আমি কি বলতে পেরেছিলাম?

 

poet+robiul+hussain+mbd

রবিউল হুসাইন

বঙ্গবন্ধুর বজ্রকন্ঠে !!

 

হঠাৎ করে ঢাকা শহর উঠলো জ্বলে

আমরা তখন হতভম্ব অবাক হয়ে

চেঁচিয়ে উঠি কী হলো এই মধ্যরাতে অসময়ে

চারিদিকে গুলি গোলার শব্দ কেন দাবানলে

 

পুড়ছে নগর কামান ছুঁড়ে বাড়ি-ঘর-দোর

ধ্বংস করে মানুষ মারে নির্বিবাদে কারা এরা

নিরস্ত্র আর নির্দোষীদের পরে জানি পাক-সেনারা

নির্বাচনে হেরে ওরা পাগলা কুত্তা খুনীর দোসর

 

করছে শুরু বাংলা-নিধন নির্বিচারে নিষ্ঠুরতায়

এমন কি বাংলাভাষার শহীদ মিনার স্বাধীনতার

উৎস-প্রতীক সেটিকেও বোমা মেরে নৃশংসতার

বিকৃত এক মনোরোগে গুঁড়িয়ে দিল বর্বরতায়

 

সেই ভয়াল রাতে লক্ষ মানুষ খুন করেছে পাক-সেনারা

তিরিশ লক্ষ গণহত্যার শুরুটি হয় এমনি করে তাদের হাতে

শোষণ-শাসন অত্যাচার আর অবিচারের রক্তস্রোতে

সিনান করে বাঙালিসব শপথ করে পাকিদের করবে তাড়া

 

মার্চের সাতে বঙ্গবন্ধুর বজ্রকন্ঠে স্বাধীনতার ঘোষণা

এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম

এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম

এভাবেই স্বাধীনতার মুক্তিযুদ্ধ পঁচিশ মার্চে সূচনা

 

ডিসেম্বরের ষোলতে শেষ হাজার বছরের পরাধীনতা

আর মার্চের ছাব্বিশে শুভযাত্রা বাংলাদেশের স্বাধীনতা

ছেচল্লিশ বছর থেকে আজ দৃশ্যমান বাংলাদেশের অস্তিত্ব

সুখে-দুঃখে চিরটিকাল টিকে থাকুক বাঙালির এই কৃতিত্ব

 

poet+muhammad+nurul+huda+mbd

মুহম্মদ নূরুল হুদা

নৌকা

 

স্বাধীন জাতির স্বাধীন মানুষ টুঙ্গিপাড়ায় যায়

আয় রে তোরা কে কে যাবি জাতিপিতার নৌকায়

 

স্বাধীন জাতির স্বাধীন মানুষ টুঙ্গিপাড়ায় যায়

আয় রে তোরা কে কে যাবি বঙ্গবন্ধুর নৌকায়

 

স্বাধীন জাতির স্বাধীন মানুষ টুঙ্গিপাড়ায় যায়

আয় রে তোরা কে কে যাবি জাতিমাতার নৌকায়

 

স্বাধীন জাতির স্বাধীন মানুষ টুঙ্গিপাড়ায় যায়

আয় রে তোরা কে কে যাবি জাতিপুত্রের নৌকায়

 

স্বাধীন জাতির স্বাধীন মানুষ টুঙ্গিপাড়ায় যায়

আয় রে তোরা কে কে যাবি জাতিকন্যার নৌকায়

 

স্বাধীন জাতির স্বাধীন মানুষ টুঙ্গিপাড়ায় যায়

আয় রে তোরা কে কে যাবি শেখ হাসিনার নৌকায়

 

স্বাধীন জাতির স্বাধীন মানুষ টুঙ্গিপাড়ায় যায়

আয় রে তোরা কে কে যাবি বংবাঙালির নৌকায়

 

নায়ের মাঝি শহীদ-গাজী জয় বাংলা মুখে

বাঙালিও পাখপাখালি জয় বাংলার সুখে

 

নায়ের দাড়ী সব বাঙালি হাতে বৈঠা দাড়

ধান পাট আর নকশীকাথার সমৃদ্ধ সম্ভার

 

ধর্ম নানান কর্ম নানান শীতলপাটির দেশে

থাকবে হেসে অনন্তকাল ছইনৌকায় ভেসে

 

ঈসা মুসা বুদ্ধ নানক নবী-রসুল মুহম্মদ

মানবতার শুদ্ধ সনদ একত্ববাদ, উপনিষদ

 

টেকনাফ আর তেতুলিয়া জাফলং ও সুন্দরবন

জলেস্থলে গগনতলে নৌকাযোগে তিনভুবন

 

নৌকা মানে এপার-ওপার নৌকা মানে মুক্তি

নৌকা মানে স্বাধীনতার চিরস্থায়ী চুক্তি

 

নৌকা মানে অনন্তকাল মুক্তিসেনার যুদ্ধ

নৌকা মানে সার্বভৌম জাতিরাষ্ট্র শুদ্ধ

 

নৌকা মানে জাতির জনক শেখ মুজিবর রহমান

বুকজোড়া যার বাংলা-মায়ের দুগ্ধ-নদী বহমান

 

নবী নূহের নিকট থেকে পেলেন মুজিব নৌকা

নৌকা পেয়ে বাঙালি পায় স্বাধীন থাকার মওকা

 

নৌকা মানে নির্বাচনে স্বাধীন জাতির নিশানা

নৌকা মানে সর্বজয়ী বাঙালিদের ঠিকানা

 

ভোটের যুদ্ধ জোটের যুদ্ধ বাঙালিদের হক কথা

নৌকা যদি যায় জিতে যায় হারবে না আর স্বাধীনতা

 

জয় বাংলা বাংলার জয় বলো নৌকার হাল ধরে

ঘাটে চলো মাঠে চলো লালসবুজের পাল ধরে

 

জাতি স্বাধীন মানুষ স্বাধীন স্বাধীন রে ভাই বাঙালি

নৌকাবোঝাই জয়ের দোহাই হাতে হাত দাও তালি

 

নৌকা আমার নৌকা তোমার নৌকা মুক্ত বাঙালির;

নৌকা নত নয় কখনো, – অনন্ত উন্নত শির।

 

জয় বাংলা জয় নৌকা যুক্তির জয় সবসময়

মানবতা জয়ী হলেই বাংলা মায়ের জয় হয়।

 

poet+habibullah+sirazi+mbd

হাবীবুল্লাহ সিরাজী

রক্তের গম্বুজ

 

তর্জনী তুলতেই

আকাশ আমাদের হ’য়ে গেলো

পা ফেলতেই

চৌহদ্দি নির্দিষ্ট হ’য়ে গেলো

এবং তাকাতেই

প্রবাহিত হ’তে থাকলো নদী

তাঁর কণ্ঠস্বরে সূর্য ও সবুজ এক হ’লো :

‘আমার সোনার বাংলা…’

 

স্বপ্ন ডাক দিয়েছিলো টুঙ্গিপাড়ায়।

সাতচল্লিশে বনে-বনে বাঘ

বাহান্নোর কুমির ভেসে যায় ভাটায়

সুন্দরী কাঠের নাও পাল তুলতেই

পদ্মা-যমুনা মেশে বঙ্গোপসাগরে

ছেষট্টি ফরফর ওড়ে, চৌচির মাটি —

ঊনসত্তর পোড়ে, মচ্মচে বুটে ও চক্চকে বেয়োনেটে

সত্তর পার হয় সাহসে

একাত্তরে কলস উপুড়

রক্ত ও ক্রোধের মধ্যে পাঁক ও ঘৃণা :

‘শুয়োরগুলো খেদা !’

 

বত্রিশ নম্বর এখন রক্তের গম্বুজ

তার চূড়ায় মূল দলিল, নকশা আর পর্চা…

 

poet+sheikh_nazrul+mbd

শেখ নজরুল

এক মুজিবের চেয়ে, সারাবিশ্ব কখনও বড় নয়

 

যেনেছি যখন বঙ্গবন্ধু
জাতির মহান পিতা
তাকে লিখেই ধন্য হয়েছে
আমার সকল কবিতা

যখন যেখানে তাকাই
তার দেখা পাই
তিনি ছাড়া বাংলার
একইঞ্চি জমিন ফাঁকা নাই

আমি শাপলা চিনেছি,
চিনেছি দোয়েল
আমি পেয়েছি বাঙালি নামের
শ্রেষ্ঠ পরিচয়
এক মুজিবের চেয়ে সারাবিশ্ব
কখনও বড় নয়

আমাকে ডাকলে নাম ধরে
যেটুকু আমি সাড়া দেই
আমাকে ডাকলে বাঙালি নামে
সে সাড়ার সীমানা নেই!

রূপদান যার সেই বাঙালি
তিনি জাতির পিতা
কেউ বলে বঙ্গবন্ধু
কেউ বলে মুজিবুর
আমি জানি তিনি আমার
লিখতে না পারা কবিতা!

 

poet+kamal+bari+mbd

কামাল বারি

এ কলম শতমুখ
আমি জীবন্ত বীরগাথা রচনা করতে চাই…
চতুর নপুংসক মুখগুলো এসে পণ্ড করে দেয়
আমার এ অনন্য ঘোর;
প্রকৃত বীরের হৃৎপিণ্ডে বহমান রক্তরসের ঊর্মিমালা
স্রোতের উন্মাদনা আমি লিখতে চাই…
পাপবিদ্ধ পাষণ্ডেরা এগিয়ে আসে কর্কশ রোলে!
মহামতি মুজিবের বীরত্ব-শাণিত আমার কলম
কীটদষ্ট কোনও ফুল কিংবা নির্বীর্যের প্রশংসায়
হবে না মুখর;
সময়ের সবুজ সন্তানের প্রতীক্ষায় জাগরুক
আমার এ কলম শতমুখ।

 

poet+chanchala+chanchu+mbd

চঞ্চলা চঞ্চু

ভাষণ শুনেছি, ভাষণ শুনছি

 

শৈশবে গভীর মনোযোগে শুনেছি তোমার ভাষণ ।

শুনছি এখনো ।

তোমার ওই আত্মবিশ্বাসী বজ্রকণ্ঠ থেকে

আলোর ঝলকানি এসে কানে ঢেলে দেয়,

 

“রক্ত যখন দিয়েছি রক্ত আরো দেবো,

এদেশের মানুষকে মুক্ত করে ছাড়ব ইনশা-আল্লাহ্”

 

দৃঢ়তার প্রতীক তোমার ওই তর্জনী !

এমন আশ্চর্য দিক নির্দেশক তর্জনী

পৃথিবী এর আগে দেখেছে কি না আমার জানা নেই ।

তোমার ব্যক্তিত্বের অভিব্যক্তি অসাধারণ,

আমাকে বিশ্বাসী করে তোলে,

মনে হয় এখনো ভরসা করতে পারি,

স্বাধীন পতাকায় প্রকৃত স্বাধীনতা আসবে।

 

তোমার কথা বলার অসাধারণ ভঙ্গিতে মগ্ন হয়ে বুঝেছি –

তরতর করে আমার বিশ্বাস বাড়ে ।

জীবনের ভঙ্গিতেও যুক্ত হয় বহুমাত্রিক

মুক্তিকামী স্বপ্নবাঁক।

আমার চোখ দারুণ আশায় চকচক করে ওঠে।

মনে জোর সঞ্চয় করে ভাবি, স্বাধীন দেশে স্বাধীন হবোই।

প্রকৃত মুক্তি আসবেই।

 

বন্ধু, বঙ্গবন্ধু, তোমার পবিত্র আত্মার শান্তি কামনা করে বলছি,

খুব কষ্টে আছি ! চরম কষ্টে আছি ।

বন্ধু , বঙ্গবন্ধু আমরা ভালো নেই ।

এখনো আমরা শুধু রক্ত দিয়েই চলেছি

মুক্তি জোটেনি ! মুক্তি আসেনি ।

এই দেশের স্বাধীন মাটিতে জঙ্গিবাদের হিংস্র বীজ

স্বাধীনভাবেই  অঙ্কুরিত হচ্ছে ।

এখনো এখানে নির্বিচারে বুদ্ধিজীবী হত্যা চলছে ।

এখনো স্বাধীনতার বিপক্ষ শক্তি

আমাদের রঙতুলি, রঙের প্লেট ভেঙে চলেছে, ভাঙছে ভাস্কর্য ।

ওদের কাছে গান কবিতা কিছুই নিরাপদ নয়।

আমারা আতঙ্কিত ।

উগ্র নিকৃষ্ট ধার্মিকদের ক্রোধে আমরা বাকরুদ্ধ। রক্তাক্ত।

আমরা তাদের অন্ধকারাচ্ছন্ন বিদ্বেষপরায়ণ অশ্লীল বয়ানের অবাধ

স্বাধীনতা সহ্য করছি। রাস্তাঘাটের উন্নতির পাশাপাশি,

আমাদের তিন প্রজন্ম, নকলবাজ শিক্ষা, দুর্নীতি আর মাদকদ্রব্যের

তলে চাপা পড়ে থাকার সম্ভাবনাও তৈরি হয়ে গেছে।

বিষের লতারা পেঁচিয়ে ধরেছে সব ফলদ বৃক্ষ।

বটবৃক্ষদের শ্বাসযন্ত্র বন্ধ হবার গোঙানি

আছড়ে পড়ছে আমাদের পাঁজরে।

 

বন্ধু, বঙ্গবন্ধু, আমরা খুব কষ্টে আছি, কষ্টে আছি।

আমরা আজকাল আমাদের ঘরেও নিরাপদ নই।

কালো কদাকার হাতের কারসাজিতে

ভয়ানক তেজস্ক্রিয়তা ঢুকে পড়ছে আমাদের ঘরে।

ঝাঁঝরা হয়ে যাচ্ছে আমাদের ফুসফুস।

বন্ধু, বঙ্গবন্ধু, তোমার ভাষণ আমাদের মুক্তির চেতনা!

আমরা ভাষণ শুনেছি, ভাষণ শুনছি…।

…………………….

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

13 4 2026 1

উদ্বোধনের আগেই দুবার ‘উদ্বোধন’, খরচে রেকর্ড

ঢাকা, সোমবার ১৩ এপ্রিল ২০২৬ মাসস গণঅভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের স্মৃতি চিরস্মরণীয় করে রাখতে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর …

Leave a Reply

Your email address will not be published.