Home / উদ্যোগ / সিরাজগঞ্জের শীতল পাটি পরান জুড়ায় দেশ জুড়িয়া…
shital+pati+mbd-9

সিরাজগঞ্জের শীতল পাটি পরান জুড়ায় দেশ জুড়িয়া…

shital+pati+mbd-8

মাস্টারি বিডি ডটকম ।
সিরাজগঞ্জ । ০৭ মার্চ ২০১৮ । ২৩ ফাল্গুন ১৪২৪

shital+pati+mbd-4সিরাজগঞ্জ জেলায় তৈরি হচ্ছে দেশের উন্নতমানের শীতল পাটি। আর এই শীতল পাটির সুনাম সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে।

সিরাজগঞ্জের সদর, রায়গঞ্জ ও কামারখন্দ উপজেলার কালিয়া হরিপুর ইউনিয়নের চাঁনপুর, হরিপুর, ঝাঐল ও আটঘরিয়া গ্রামে তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন প্রকারের উন্নতমানের শীতল পাটি।

যদ্দূর জানা যায়, এখানকার শীতল পাটির ঐতিহ্য প্রায় পাঁচশ’ বছরের। বংশপরম্পরায় প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবার এ শিল্পের সাথে জড়িত। এ শিল্পকে তারা জীবন জীবিকার মাধ্যম হিসেবে অবলম্বন করে আসছে।

শীতল পাটির মূল কাঁচামাল মূর্তা বেত গাছ। বাড়ির আশপাশে ও সব ধরনের জমিতেই মূর্তা বেতগাছ চাষ হয়। চারা রোপণের পর দুই-তিন বছরেই মূর্তা বেতগাছগুলো পাটি তৈরিতে ব্যবহার করা যায়। মূর্তা বেত গাছ কাটা, বেতি তোলা ও নানা ধরনের রঙের কাজ পুরুষেরাই করে থাকে। আর নিপুণ হাতে বাহারি ধরনের পাটি তৈরির কাজ করে বাড়ির নারীরা। গ্রামগুলোতে প্রবেশ করলেই দেখা যাবে বধূরা মেহেদী হাতে নিপুণভাবে বুনন করছে শীতল পাটি। বসে নেই স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীরা। তবে ঊর্ধ্বমুখি শ্রমবাজারে মজুরি কম, পুঁজি সংকট, কাঁচামালের অভাব ও বাজারজাতকরণসহ নানা সমস্যা থাকলেও নারীদের দৃঢ় মনোবল এ শিল্পটিকে এখনো টিকিয়ে রেখেছে।

shital+pati+mbd-6

আটঘরিয়া গ্রামের কাঞ্চনা রানী ও বীনা রানী জানান, বউ হয়ে যেদিন ঘরে এসেছি, তার পরেরদিন থেকেই শীতলপাটি বুননের কাজ শুরু করেছি। শীতল পার্টি তৈরি করাই আমাদের মূল পেশা। এটিই আমাদের বেঁচে থাকার অবলম্বন।

হরিপুর গ্রামের কারিগর রামু ও লক্ষণ চন্দ্র জানান, শীতল পাটি পূর্ব-পুরুষদের ঐতিহ্য। প্রায় পাঁচশ’ বছর ধরে এ গ্রামে শীতল পাটি তৈরি করা হচ্ছে। আগে এগুলো কলিকাতাসহ বিভিন্ন দেশে চলে যেত। পুঁজি সংকটের কারণে এখন এ শিল্পের করুণ অবস্থা দেখা দিয়েছে। স্বল্পসুদে ঋণ পেলে শীত মৌসুমে শীতল পাটি তৈরি করে স্টক করে রেখে গরমের মৌসুমে বিক্রি করে লাভবান হওয়া যেত। কিন্তু পুঁজি না থাকায় তৈরি করার পরই অল্প দামে বিক্রি করে দেয়া হয়।

shital+pati+mbd-7

গৌর চন্দ্র জানান, শীতল পাটি বুনন ছাড়া আমরা অন্য কোন কাজ জানি না। এক সময় বিয়ের কথা উঠলেও এ পাটির কথা আগে মনে হতো। তিনি আরো জানান, বাজারজাতকরণেও নানা সমস্যা রয়েছে। প্রতি শুক্রবার ঝাঐল ইউপির মাহমুদা খোলায় শীতল পাটির হাট বসে। সিলেট, রংপুর, রাজশাহী, টাঙ্গাইল ও নওগাঁসহ বিভিন্ন এলাকার পাইকারা এসে কিনে নিয়ে যায়। আবার অনেকে বাড়ি থেকেও কিনে নিয়ে যায়।

সিলেটের পাইকার হামিদুর রহমান বলেন, এখান থেকে অল্প দামে কিনে নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করে থাকি। এতে ভাল লাভ হয়।

shital+pati+mbd-5

টাঙ্গাইলের পাইকার আব্দুল মালেক জানান, এখানকার শীতল পাটির খুব চাহিদা রয়েছে। এই শীতল পাটিগুলো আমরা বিভিন্ন বাজারে নিয়ে গিয়ে বিক্রি করে থাকি।

কামারখন্দ উপজেলা নির্বাহী অফিসার আকন্দ মোহাম্মদ ফয়সাল উদ্দিন জানান, এখানকার শীতল পাটির সুনাম সারাদেশে। তাই শিল্পটি টিকিয়ে রাখতে কারিগরদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে। ক্ষুদ্রঋণ বর্তমানে চালু নেই। তবে পল্লী উন্নয়ন বোর্ডের সাথে সমন্বয় করে ঋণের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

shital+pati+mbd-3

সিরাজগঞ্জ জেলা প্রশাসক কামরুন নাহার সিদ্দিকা জানান, উৎপাদিত শীতল পাটি যাতে সহজভাবে বাজারজাত করা যায় সে জন্য নির্দিষ্ট হাটের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়াও এদেরকে স্বল্প সুদে ঋণ দেয়ার ব্যবস্থা করা হবে।

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

12 7 2026 222

মাঝপথ থেকে ফেরি ঘুরিয়ে আনলেন এমপি হান্নান মাসউদ

রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ | মাসস নোয়াখালীর হাতিয়ার চেয়ারম্যান ঘাট থেকে নলচিরা …

Leave a Reply

Your email address will not be published.