Home / কৃষি / পঞ্চগড়ে কমলা চাষে সাফল্য
orange+mbd-2

পঞ্চগড়ে কমলা চাষে সাফল্য

মাস্টারি বিডি ডটকম ।
পঞ্চগড় । ১৭ ডিসেম্বর ২০১৭ । ০৩ পৌষ ১৪২৪

পঞ্চগড় জেলায় চা-চাষের পর এবার কমলা চাষ জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। বাসাবাড়ি ও স্বল্প পরিসরে ছোট ছোট বাগানে আশানুরূপ কমলার ফলন আসায় কৃষকরাও খুশি। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এখানে উৎপাদিত কমলার স্বাদ পাশ্ববর্তী দেশ ভারতের দার্জিলিংয়ের কমলার মতো।

বাজারে চাহিদা ও লাভজনক হওয়ায় জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে এরই মধ্যে অনেকে কমলার বাণিজ্যিক চাষ শুরু করেছেন। এসব বাগানে উৎপাদিত কমলার আকার, রং ও স্বাদ পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতের দার্জিলিং ও জলপাইগুড়ি জেলার কমলার মতো।

জেলার সদর উপজেলার, সাতমেরা, হাফিজাবাদ, হাড়িভাসা, চাকলাহাট ইউনিয়নের বেশ কয়েকজন কৃষক বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কমলার বাগান করে লাভবান হয়েছেন। কৃষকদের বাগানে কমলার ফলন ভাল হওয়ায় এসব এলাকায় অনেকে কমলা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছে। সদর জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর জানায়, এবার ৭৫ হেক্টর জমিতে ৫০টি প্রদর্শনী প্লট ৪শ’ ২০টি বসত বাড়িতে কমলা চাষ করা হয়েছে।

orange+19+mbd

জানা যায়, পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদা ইউনিয়নের বামনপাড়া গ্রামের কমলার বাগানের মালিকরা কমলা চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছে। ওই গ্রামের একজন চাষি গত বছর ১ লাখ টাকার কমলা বিক্রি করেছেন। তবে এবার ২ লাখ টাকার কমলা বিক্রি করবেন বলে তিনি আশা প্রকাশ করেছেন।

ওই এলাকার আরেক কমলার বাগান মালিক জানান, ২০০৯ সালে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে তিনি কমলার চারা নিয়ে কমলার চাষ করে আর্থিকভাবে লাভবান হয়েছেন। কমলার বাজার চাহিদা ভাল থাকায় বাণিজ্যিকভাবে চাষ বাড়ছে। কমলা বাড়িতে থেকে পাইকাররা নিয়ে যাচ্ছে। প্রতি হালি কমলা প্রকার ভেদে ৫০/৬০ টাকা হালি (৪টা) বিক্রি হচ্ছে।
কমলার আরেক বাগান মালিক বলেন, দুই একর জমিতে কমলার চাষ করেছি। গতবার ১ লাখ টাকার কমলা বিক্রি করেছি। এবার এরমধ্যে ৬০/৭০ হাজার টাকার কমলা বিক্রি করা হয়েছে। আরো বিক্রি করা হবে। কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় আমরা কমলার বাগান করে লাভবান হয়েছি। দেশের বিভিন্ন জায়গায় থেকে লোকজন কমলার বাগান দেখতে আসে এবং কমলা কিনে নিয়ে যায়।

orange+mbd-3

সম্পতি পঞ্চগড়ের বেলকুপাড়া গ্রামের রাজুর কমলা বাগান পরিদর্শন করেছেন, নাটোর জেলার হরটিকালচারের ডেপুটি ডাইরেক্টর মেফতাহুল বারী। তিনি জানান, পঞ্চগড়ের বাগানের কমলা দার্জিলিংয়ের কমলার মতোই। স্বাদ, রং ও গন্ধে অন্যান্য কমলার চেয়ে কোন অংশে কম নয়। খেয়ে দেখলাম খুব স্বাদ।

পঞ্চগড়ের কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক সামছুল হক বাসসকে জানান, জেলার মাটিতে অম্লত্ব (পিএইচ) ও আবহাওয়া কমলা চাষের উপযোগী। তাই কৃষি মন্ত্রণালয় ২০০৭ সালে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে কমলা উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয়। বর্তমানে এ প্রকল্প সাইট্রিস ডেভেল্পমেন্ট প্রজেক্ট বা লেবু জাতীয় ফসল উন্নয়ন প্রকল্প হিসেবে হাতে নেয়া হয়েছে। কমলা আমদানী হ্রাস,আবাদ বৃদ্ধি, পুষ্টি চাহিদা মেটানো ও কৃষকদের বাড়তি আয়ের লক্ষ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নে নানা উদ্যোগ নেয়া হয়।

সামছুল হক আরও জানান, পঞ্চগড় সদর উপজেলায় ৫০টি প্রদর্শনী প্লটও ৪শ’ ৫০টি বসত বাড়ীতে কমলা চাষ করা হয়েছে। যা গতবারের তুলনায় বেশি। পঞ্চগড়ে কমলার চাষ করে লাভবান হওয়ায় কৃষকরা কমলা চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। কৃষি বিভাগ চাষীদের কমলার চাষের সকল প্রকার উপকরণসহ সহায়তা প্রদান করে আসছে।

-জাকির হোসেন কবির

About Mastary Sangbad

Mastary Admin

Check Also

13 11 25 1

রামগতি-কমলনগরে আমনের বাম্পার ফলন, কৃষকের মুখে হাসি

ঢাকা, বৃহস্পতিবার ১৩ নভেম্বর ২০২৫ মাসস লক্ষ্মীপুরের রামগতি ও কমলনগর উপজেলায় এবার আমন ধানের বাম্পার ফলন …

Leave a Reply

Your email address will not be published.